প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ ১১ অভিযোগ, কী ভাবছে জনগণ?

জাতীয়

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটি নিয়ে বিতর্ক যেন কোনোমতেই থামছে না। ক্রমেই এই বিতর্কের ঢালপালা ছড়াচ্ছে। বিচারপতি দেশ ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ গুরুতর ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে সিনিয়র আইনজীবীরা কি ভাবছেন, আর দেশের সাধারণ জনগণই বা কতটা বিশ্বাস করছেন। ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের প্রতি জনমনে আস্থার জায়গাটা কতটা বজায় থাকবে। এসব নিয়ে বিবিসি কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিকের সঙ্গে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগে জনমনে কিছুটা হলেও বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা হারাবে। যখন অভিযোগ উঠেছিল সেটা কৌশলে তদন্ত করা দরকার ছিল বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক। রবিবার সন্ধ্যায় বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির আভিযোগ, এ নিয়ে আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা তার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর কেন শোনা যাচ্ছে বিবিসি বাংলার এ প্রশ্নের জবাবে শাহদীন মালিক বলেন, প্রথমে যে স্বাস্থ্যগত কারণ বলা হচ্ছে এতে দেশবাসী বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে পারছে না যে এটা স্বাস্থ্যগত কারণ। সরকার ভাবছে এর পিছনে অন্য যে কারণগুলো আছে সেগুলোকে সামনে নিয়ে আসতে। যার ফলে এমনটা বলা হচ্ছে বলে আমার মনে হয়।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের পিছনে তার দেশে থাকা না থাকার বিষয়টির খুব জোড়ালো কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমার মনে হচ্ছে না। আমরা এখনো বলতে পারব না যে ওই অভিযোগগুলো বানোয়াট কিনা বা আসলেই কোনো ভিত্তি আছে কিনা। অভিযোগ থাকলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো নজির নেই। যেমন বিদেশে যাওয়া না যাওয়া বা গৃহবন্দি করে রাখা, পদে না থাকা এধরনের বিষয়ের আইনগতভাবে ভিত্তি নাই।

আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের দুটি চিঠি দেখিয়েছেন একটা চিঠিতে তিনি বলেছেন যে অসুস্থ একারণে তিনি ছুটি চান এবং কয়েকদিন পরেই আর একটাতে বলা হয়েছে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত তিনি চারটি দেশে বেড়াতে যেতে চান আপনি এটাকে কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মালিক বলেন, এটা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না, আমার কাছেও না। এ বিষয়ে আমি আস্থা রাখতে পারছি না। নিশ্চিয়ই এর পিছনে অন্য কোনো কারণ আছে বলে আমার মনে হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় এমন প্রশ্নে বলেন, অভিযোগ গুলো রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টর জুডিশিয়াল বিভাগে তদন্তের জন্য পাঠাবেন। তদন্তের শেষে যদি প্রমাণিত হয় তাহলে বিচরিপতিকে অপসারণ করবেন আর যদি প্রমাণিত না হয় তাহলে তিনি পদে বহাল থাকবেন। এর আগেও এমন ঘটনা দুই বার ঘটেছে।

Leave a Reply