সংলাপে অংশ নিতে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে

রাজনীতি

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপে অংশ নিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে পৌঁছেছে।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে তারা সেখানে পৌছেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া এবং নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ একগুচ্ছ প্রস্তাবনা নিয়ে দেশের প্রধান বিরোধী রবিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে।

কমিশনের সংলাপসূচি অনুযায়ী বেলা ১১টায় বিএনপির সঙ্গে বসার কথা রয়েছে। আগামী ১৮ অক্টোবর সকাল ১১টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ৩১ জুলাই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধি সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি। এরপর ২৪ আগস্ট থেকে কমিশনে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এ পর্যন্ত ৩২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি।

এর আগে শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়াসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হবে।

রবিবার নির্বাচন কমিশনের সংলাপে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সব সদস্য, উপদেষ্টা ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবসহ একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে। শনিবার রাতে প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে সিনিয়র ও বিশেষজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, নির্বাচনের সাত দিন আগে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, সংসদ ভেঙে দেয়া, বিতর্কিত ইভিএম পদ্ধতি না রাখা, ২০০৮ সালের আগে সীমানা নির্ধারণ আইন কার্যকর করাসহ অন্তত ১৬টি প্রস্তাব তুলে ধরবে বিএনপি। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার প্রসঙ্গটি নিয়েও কথা বলবে বিএনপি। তবে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেবে না দলটি। এ সংলাপে ইসির কাছ থেকে কোনো প্রত্যাশা করছেন না বিএনপি নেতারা।

এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এতদিন ধরে যা বলে আসছি তা-ই ইসির সংলাপে লিখিত আকারে উপস্থাপন করব। এ নিয়ে তারা কীভাবে রি-অ্যাক্ট করে, সেটা তাদের দায়িত্ব। বিএনপির লিখিত বক্তব্য সংলাপ শেষে সাংবাদিকদেরও দেয়া হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

ইসি সংলাপের প্রতিনিধি দলে কারা থাকবেন জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের স্থায়ী কমিটির সব সদস্য যাচ্ছেন। ইসি থেকে সংলাপের আমন্ত্রণে ১০ জনের কথা উল্লেখ করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এ ব্যাপারে আমরা চিঠি দিয়েছি, আমাদের স্থায়ী কমিটির সব সদস্য যাবেন। তবে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে, সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতের শিলংয়ে আছেন। এ কারণে তারা কেউ সংলাপে যেতে পারছেন না- এটা নিশ্চিত। তবে যারা যেতে পারেন তারা হলেন- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, শ ম জাকারিয়া প্রমুখ। তবে তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার ও রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ থাকায় তারা এ সংলাপে নাও যেতে পারেন।

ইসির সংলাপ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি এ নির্বাচন কমিশনের ওপর আমাদের আস্থা নেই। জিজ্ঞেস করবেন, আপনারা যাচ্ছেন কেন? এ ছাড়া তো এই মুহূর্তে আমাদের কাছে বিকল্প কিছু নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাজগুলো সমন্বয় করতে চাই। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, রীতিনীতি-নিয়ম যা আছে, আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে চাই।

Leave a Reply