খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি নিতে থাকেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুদু

রাজনীতি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, গায়ের জোরে ভন্ডামি করে মিথ্যা কথা বলে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা কি ব্যবস্থা নিবে? ব্যবস্থার জন্য আপনারা প্রস্তুত থাকেন।’

দুদু বলেন, ‘সহায়ক সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আমরা লড়াই করছি। সেই লড়াইয়ের জন্য আমাদেরকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- সেই নেত্রী দেশে আসলে নাকি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন। আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ব্যবস্থা যদি নিতে হয় তিনি (খালেদা জিয়া) নেবেন।

রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘স্পষ্ট কথা খালেদা জিয়া আগামী বুধবারে দেশে আসবেন। দেশে এসে দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকারে ফিরিয়ে আনার জন্য বিরোধীদলের রাজনীতিতে যা যা করার দরকার তিনি তাই করবেন। তাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য যে সংগ্রামের প্রস্তুতি সেটা বিএনপির নেয়া আছে। দেশে আসলে তাকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হবে।’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে গেছেন চিকিৎসা করতে কিন্তু এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বার বার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি দেশে ফিরবেন কি না? ছোট মনেরও একটা সীমা থাকে এই সরকারের সেটাও নাই। তারা জনবিচ্ছিন্ন গণবিরোধী লুটের সরকার।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই সরকার খালেদা জিয়া, বিএনপি এবং ধানের শীষের সাথে নির্বাচন করতে ভয় পায়। এই সরকার স্বাভাবিক সরকার নয়, তারা সংবিধানের নামে সংবিধানকে ধ্বংস করেছে। আইনের শাসনের নামে আইনকে ধ্বংস করেছে। যার কারণে দেশে হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দী এখন জেলখানায় আছেন। ’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আজকে আমরা নির্বাচন কমিশনে যাবো। আমাদের সুপারিশগুলো আমরা সেখানে বলবো, যদি নির্বাচন কমিশন সুপারিশ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য, স্বাভাবিক, অংশগ্রহণমূলক, উৎসবমূলক ভোট দেয়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারে তাহলে তাদের আমরা ধন্যবাদ দিবো। তা না হলে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি তাদেরকে হতে হবে এখন পর্যন্ত তারা সেটা ভাবতে পারছেন না।’

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘যাদেরকে দুর্নীতির প্রশ্নে বিচার করা হচ্ছে তাদের নামে কোন দুর্নীতির মামলা নেই। অথচ যারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেসরকারি ব্যাংক, শেয়ার মার্কেট ধ্বংস করে ফেলেছে, লুটপাট করেছে তাদের নামে একটিও মামলা হয়নি, তারা একজনও কারাগারে নেই, বিচারের মুখোমুখিও হতে হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র হওয়ার পরে মাওলানা ভাসানী এবং অন্যান্য বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা যখন শেখ মুজিবের গণতন্ত্র বিরোধী ভূমিকার সমালোচনা করেছেন তখন তাদের উপর আক্রমন করা হয়েছে। যখন দুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে খাবারের দাবি করা হয়েছে বেঁচে থাকার জন্য তখন শেখ মুজিবের সরকার তাদের উপর আক্রমন করেছে। তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন গণতন্ত্রের কথা বলেছেন তার বিরুদ্ধে নানা মামলা দেয়া হয়েছে, হামলা করা হয়েছে। সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে বর্তমান অবৈধ সরকার।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা গাজী দুদুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, গণসাংস্কৃতিক দলের সভাপতি এস আল মামুন, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।

Leave a Reply