নানা প্রশ্ন রেখেই দেশ ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি সিনহা

জাতীয়

দেশে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই এক মাসেরও বেশি সময় ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়াসহ চার দেশ সফরে গেলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা। ঢাকা ছাড়ার সময় হেয়ার রোডের বাসভবনের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের শুক্রবার রাত ১০টার দিকে একটি লিখিত বক্তব্য দিয়ে গেছেন বিচারপতি সিনহা।

তার ওই লিখিত বক্তব্যটি সংক্ষিপ্ত হলেও তাতে বর্তমান পরিস্থিতির অনেক কিছুই উঠে এসেছে। তবে এর মাধ্যমে অনেক প্রশ্নই সামনে এসেছে।

রাষ্ট্রপতিকে দেয়া প্রধান বিচারপতির ছুটির চিঠিতে অসুস্থতা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ শুক্রবার দেশ ছাড়ার আগে বিচারপতি সিনহা বলে গেলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি’। অবশ্য ওই চিঠিতে বিচারপতি সিনহার হাতের স্বাক্ষর নিয়ে আগেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল বিভিন্ন মহলে।

অন্যদিকে তিনি বলে গেলেন, তিনি স্বেচ্ছায় বিদেশ সফরে যাচ্ছেন, ছুটি শেষে দেশে ফিরবেন। তিনি অসুস্থ নন, অথচ স্বল্প দিনের ব্যবধানে কেনো ফের দীর্ঘ সফরে কেনো বিদেশ গেলেন? এমন প্রশ্ন এখন সর্বমহলে।

প্রধান বিচারপতি তার লিখিত বক্তব্যে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বক্তব্যে নিজে বিব্রত বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ দেশের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী কেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলেন না?

এছাড়াও নানা প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। জনগণের এসব প্রশ্নের জবাব দেবে কে?

দেশ ছাড়ার আগে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দেয়া লিখিত বক্তব্যটি নিম্নে তুলে ধরা হলো।

লিখিত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী, বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত।’

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবেশন করায় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। এই অভিমান অচিরেই দূর হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

এস কে সিনহা বলেন, ‘সেই সঙ্গে আমি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও একটু শঙ্কিত বটে। কারণ, গতকাল প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণতম বিচারপতির উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রসাশনে পরিবর্তন আনবেন।’

‘প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো রেওয়াজ নেই। তিনি শুধুমাত্র রুটিন মাফিক দৈনন্দিন কাজ করবেন, এটিই হয়ে আসছে’ যোগ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত ৯টা ৫৭ মিনিটে বাসা থেকে বের হন প্রধান বিচারপতি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সুষমা সিনহা। আধা ঘণ্টা পর রাত ১০টা ৩০ মিনিটে তারা বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে রওনা হন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে বহনকারী সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি যথাসময়েই শাহ জালাল বিমানবন্দর ছেড়ে গেছে।

Leave a Reply