সু চি’র মন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২:২২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৭

সু চি’র মন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা জন্য ঢাকায় আসছেন মায়ানমারের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে। সোমবার দুপুরে তিনি বৈঠক করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। আর এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়াসহ পাঁচটি বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ।

টিন্ট সোয়ের নেতৃত্বে মোট তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল রবিবার দিবাগত রাত ১২টার পর ঢাকায় আসছেন। মায়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চি’র অফিসের ইউনিয়ন মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে মায়ানমারের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং রাখাইন বিষয় দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত। তিনি একজন পেশাদার কূটনীতিক এবং ১০ বছর ধরে জাতিসংঘে মায়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কূটনৈতিক বিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিক শেখ শাহরিয়ার জামান বলেন, ‘সোমবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মায়ানমারের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে’র বৈঠক। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিবসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশে না থাকায় তার সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে না।’

তিনি আরেক প্রশ্নের উত্তর বলেন, ‘বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঁচটি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হবে। অবিলম্বে রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ করা, মানবিক সহায়তা, সেফ জোন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া এবং কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই পাঁচটি প্রস্তাবই তুলে ধরেছেন। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় হিসেবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া এবং কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নই গুরুত্ব পাবে সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য বিষয়ে আরো অনেক পক্ষ জড়িত।’

এদিকে, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সংবাদ মাধ্যমে গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘মায়ানমারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হবে।’ তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করেছে বাংলাদেশ। বৈঠকে ওই রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবে বাংলাদেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমান অবস্থায় মায়ানমারের মন্ত্রীর রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ঢাকা সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মায়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু কিভাবে? বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মায়ানমারকে অবস্থান পরিস্কার করতে পারবে। আর এর ফলে সমস্যা নিয়ে মায়ানমারের মনোভাবও সরাসরি বাংলাদেশ জানতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া, সহিংসতা বন্ধ এবং কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের ওপর অনড় থাকতে হবে। মায়ানমারের নারিকত্ব সংক্রান্ত আইন, নাগরিকত্বের পরিচয় পত্র এসব বিষয়ে বাংলাদেশকে সঠিক অবস্থান নিতে হবে। যেসব রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে তাদের ডকুমেন্টেশনও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এই অধ্যাপক মনে করেন, ‘সহসা এই সঙ্কটের অবসান হবে না। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদে সঙ্কট সমাধানে কাজ করতে হবে। বহু পক্ষ অনেক কথা বলবে। কিন্তু সবাই কথা বললেও শেষ পর্যন্ত কথায়ই থেকে যায়। বাংলাদেশ যেহেতু রোহিঙ্গা সঙ্কটে ক্ষতিগ্রস্ত তাই আলোচনা ও চাপ প্রয়োগে বাংলাদেশকেই সক্রিয় থাকতে হবে।’

গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাইড লাইনের বৈঠকে মায়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং টুন রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তাব দেন। তারই প্রক্রিয়া হিসেবে মায়ানমারে মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে বাংলাদেশে আসছেন বলে জানা গেছে।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিতে জোর দিয়েছে এভং রোহিঙ্গাদের ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে মায়ানমারকে একটি রূপরেখাও দিয়েছে।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে সহিংসতা শুরু হলে মায়ানমার তিন মাস সময় নিয়েছিল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবার জন্য। জানুয়ারি মাসে মায়ানমার সরকার ‘কেউ টিন’ নামে এক বিশেষ দূতকে কোনও ম্যান্ডেট ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ঢাকায় পাঠায়। তবে সে বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তবে এবার বাংলাদেশকে অবশ্যই একটি সমাধানের দিকে মায়ানমারকে নিতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। বাংলাদেশে এখন প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। মায়ানমারের রাখাইনে সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে এপর্যন্ত নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে

  •