বৃষ্টি উপেক্ষা করে লালদিঘী হকার্স মার্কেট ভাঙ্গার কাজ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ

সিলেট বিভাগ

সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। কখনও থেমে থেমে আবার কখনও মুষলধারে। সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা আছেই। রয়েছে রাস্তায় জমে থানা পানির বিড়ম্বনাও। এসব কিছু উপেক্ষা করে নগরীর লালদিঘীরপারে সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন হকার্স মার্কেট ভাঙ্গার কাজ পরিদর্শনে গেলেন সিসিক মেয়র আরিফ।

হকার পুনর্বাসনের লক্ষে বেশ কয়েকবছর আগে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত লালদিঘীরপাড়স্থ হকার্স মার্কেটের পুরনো ভবন ভাঙছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এখানে বহুতল মার্কেট নির্মাণের পর তাতে হকারদের পুনর্বাসন করা হবে।

শনিবার দুপুরে মার্কেট ভাঙ্গার কাজ সরেজমিন দেখতে যান মেয়র আরিফ। এসময় তার সাথে সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ‘হকার্স মার্কেট ভেঙে নতুন প্ল্যান অনুসারে মার্কেট নির্মাণ করা হবে। ভবন ভাঙার কাজ দ্রুত সময়ে শেষ হবে।’

তিনি আরো জানান, এখানে বহুতল বিশিষ্ট সুপরিসর মার্কেট তৈরী করা হলে হকারদের সুন্দরভাবে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে। ফলে নগরীর হকার সমস্যার সমাধান হবে। এটি সিলেটের একটি দৃষ্টিনন্দন মার্কেট হবে বলেও জানান তিনি।’

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে পুরাতন লালদিঘী মার্কেটের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে লালদিঘী নতুন মার্কেটের কাজ শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে লালদিঘী মার্কেট এলাকায় বিভিন্ন ব্লকের আওতায় নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ‘এ’ ‘বি’ ‘সি’ ‘ডি’ চারটি ব্লকে লালদিঘী নতুন মার্কেটে প্রায় ৬ হাজার দোকান কোঠা আছে। এছাড়াও পুরাতন লালদিঘী মার্কেটে দোকান কোঠার সংখ্যা প্রায় এক হাজার।

তবে, অপরিকল্পিত ভাবে তৈরি হকার্স মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বেশির ভাগ দোকানপাট পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় সাড়ে ৮ হাজার দোকানের মধ্যে চালু আছে মাত্র ৬০০-৭০০টি। পরিত্যক্ত এই মার্কেট অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। রাতের বেলা মার্কেটের ভেতর মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। ঝুঁকিপূর্ণ হকার্স মার্কেট ভেঙে নতুন করে তৈরির দাবি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের। এরই প্রেক্ষিতে হকার্স মার্কেট ভাঙ্গার উদ্যোগ নেয় সিসিক।

Leave a Reply