মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হত্যার বিচার দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হত্যার বিচার দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন

সিলেটের জৈন্তাপুরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নজরুল ইসলাম বাবু হত্যার ৪ মাসেও বিচার পায়নি তার পরিবার। হত্যাকান্ডের সাথে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকায় বিচারবঞ্চিত হচ্ছেন তার বিধবা মা ও বোনোরা। তাই তারা আবার নতুন করে বিচার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের নিয়ে। নির্মম এ হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে এখন মুখর মুািক্তযোদ্ধা সন্তানেরা। বুধবার তারা সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশাল মানববন্ধনের মধ্যদিয়ে জানান দিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের হত্যা করে পার পাবে না মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকরা।
জৈন্তাপুরের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নজরুল ইসলাম বাবু ও সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান শেরুজ্জামান পারভেজ হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে যৌথ মানববন্ধন করেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানেরা। মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এবং সরকারের প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা মুক্তিযুদ্ধ রিরোধী ক্রীড়নকরা একের পর এক মুক্তিযোদ্দ সন্তানদের হত্যা করছে। প্রশাসনে থাকা রাজাকার পুত্ররা ঘাতকদের আইনী শেল্টার দিচ্ছে। ফলে বিচার বঞ্চিত হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো। আর এ কারনেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। বক্তারা অবিলম্বে সিলেটের মুক্তিযোদ্দা সন্তান নজরুল ইসলাম বাবু ও সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান শেরুজ্জামান পারভেজ হত্যার বিচার দাবি করেন। অন্যথায় সারা দেশের মুক্তিযোদ্দা সন্তানেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সিলেট মহানগরের আহŸায়ক নুর আহমদ কামালের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুল খালিক লাভলুর পরিচালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল খালিক। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সেবুল আহমদ এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ডেপুটি কমান্ডার মনাফ খান। অন্যদের মধ্যে ছিলেন সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দ এনএম ময়না মিয়া, সিরাজুল ইসলাম সুরুকী, নুর উদ্দিন রাসেল, আসলাম খান স্বপন, রুবেল আহমদ, সাইফুল ইসলাম, আবু সাইদ, জগলু হোসেন, রব্বানী চৌধুরী রাজু, নেহজাব আহমদ শাফি, রঞ্জন নায়েক, রাসেল আহমদ, ছাদিক আহমদ, রাসেল আহমদ, শিপলু মিয়া, নাইম আহমদ, কামরান আহমদ, আব্দুল মান্নান, সাজ্জাদ হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, মোছাঃ নাজমিন আক্তার, নারগিস আক্তার সুমি, সামসুন্নাহার তুলতুলি, দিলোয়ার হোসেন দিলু, হাবিবুর রহমান হাবিব, রায়হান আহমদ, আজির উদ্দিন, সাগর আহমদ, বশর আহমদ, আব্দুল মান্নান, ডা. কিবরিয়া, কামাল আহমদ, সাদিক আহমদ, আরিফ আহমদ প্রমুখ।
উলে­খ্য, এ বছরের ১৯ মে ভোররাতে সিলেটের জৈন্তাপুর থানা হাজতে পুলিশ হেফাজতে হত্যা করা হয় উপজেলার কহাইগড়ের মরহুম বীর মক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের একমাত্র পুত্র নজরুল ইসলাম বাবুকে। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ায় আদালতে মামলা করেন তার পরিবার। কিন্তু পিবিআই তদন্তে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। নজরুল ইসলাম বাবু পরিবারের অভিযোগ মামলার আসামীদের মধ্যে পুলিশ সদস্য থাকায় পিবিআই পুলিশকে বাাঁচাতেই মামলাটি যথাযথ তদন্ত করেনি। আর একারণে নিম্ন আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। এর প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নজরুল ইসলাম বাবুর পরিবার সিলেট জেলা জজ আদালতে আপীল করেছে। আগামী ৫ অক্টোবর আপীল শুনানীর জন্য ধার্য রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নজরুল ইসলাম বাবু পরিবার বিচারবঞ্চিত হওয়ায় ঘাতকরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের হত্যায় আরো উৎসাহী হয়ে ঊঠেছে। অতি স¤প্রতি তারা সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান শেরুজ্জামান পারভেজ-কে কোপিয়ে নির্মমভাবে খুন করে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট