রোহিঙ্গাদের গাড়িতে চড়াতে ও বাড়ি ভাড়া দিতে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা

সারাদেশ

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও সরকার সমর্থকদের চলমান নির্যাতন ও সহিংসতার মুখে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছেন। এ খবর প্রকাশ পাওয়ার পর তাদের কাছে বাড়ি ভাড়া না দিতে এবং গাড়িতে পরিবহন না করাতে নিষেধ করেছে পুলিশ।

শনিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সংবাদমাধ্যমে এই নির্দেশনা পাঠিয়ে বাড়ির মালিক এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সতর্ক করে দেয়া হয়।

বাংলাদেশে দশকের পর দশক ধরে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে আছে। এদের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্যও সরকারের কাছে রয়েছে।

তিন সপ্তাহ আগে রাখাইনে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর ইতোমধ্যে ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে পড়েছে। এই সংখ্যা আরো বেড়েই চলেছে।

নতুন শরণার্থীদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে আশ্রয় শিবির করেছে সরকার। সেখানে তাদের নিবন্ধনও করা হচ্ছে।

তবে এরই মধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছেন রোহিঙ্গারা; বেশ কয়েকজনকে ধরার পর উখিয়ায়ও ফেরত পাঠানো হয়েছে। মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ এবং পূর্বাঞ্চলের সুনামগঞ্জেও রোহিঙ্গা ধরা পড়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়, ‘সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্থান-খাওয়া এবং চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তারা নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্যাম্পেই অবস্থান করবেন।’

এতে আরো বলা হয়, ‘তারা ক্যাম্পের বাইরে তাদের আত্মীয়-স্বজন অথবা পরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে অবস্থান-আশ্রয় গ্রহণ বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমনাগমন করতে পারবেন না। তাদেরকে নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বাইরে কেউ যেন বাসা-বাড়ি ভাড়া না দেয়।’

নির্দেশনায় পরিবহন চালক-শ্রমিকদের বলা হয়েছে, ‘সড়ক, রেল ও নৌ পথ ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতে করে কোনো রোহিঙ্গা যাতায়াত করতে না পারে। এ জন্য সকল পরিবহন চালক-শ্রমিকদের সব সময় সজাক দৃষ্টি রাখতে হবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেউ অন্য কোথায় আশ্রয় নিয়েছে কিংবা চলাচল করছে, এমন খবর পেলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতেও বলেছে ওই নির্দেশনায়।

Leave a Reply