জগন্নাথপুরে মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে দু-পক্ষের বন্দুকযুদ্ধ : আহত অর্ধশতাধিক ॥ আটক-৬

সিলেট বিভাগ

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামে শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টায় শ্রীধরপাশা দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসার কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একই এলাকার হাজী আব্দুল হান্নান ও আশরাফ আলম কোরেশীর লোকজনদের মধ্যে দু’ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ ৪০ জনসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং উভয় পক্ষের ৬ জনকে আটক করে। তবে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উভয় পক্ষের গুলিবিদ্ধসহ অন্যান্যরা হলেন- সিদ্দেক আলী (৪১), আব্দুল তাহিদ (৬০), সবজুল মিয়া (৫৫), জুয়েল মিয়া (৪৬), রাসেল মিয়া (২৯), ফখরুল আবেদীন (৪৫), দিলোয়ার হোসেন (৪৫), সিরাজুল ইসলাম (৪৩), নুর মিয়া (৩৫), গৌছ আলী (৭০), রুয়েল মিয়া (২৮), পাভেল মিয়া (৩০), ফুল মিয়া (১৭), আনছার মিয়া (৩০), তখলিছ মিয়া (৬০), আজিজুর রহমান (৩৫), জিলানী মিয়া (২৪), হেলাল আহমদ (৫৫), নুর হোসেন (৩২), সাইফুল ইসলাম (৫১), ইদ্রিছ আলী (৬২), আসাদ মিয়া (১৫), রাহুল মিয়া (২৪), রুখন উদ্দিন (৩৭), আক্তার হোসেন (৫২), সুয়েব আহমদ (১৬), নেওয়াজ আহমদ (২৪), আবুল লেইচ (২৬), কিরন মিয়া (৪৫), কদ্দুছ আলী (৪৫), জাহির খান (৪১), হাসান আহমদ (২২), রব্বানী মিয়া (২৬), সুহিনুর মিয়া (১৫), ফজলুল করীম (৪৫), স্বপন মিয়া (২৫), জুনেদ মিয়া (৩৫), আবুল মিয়া (৪৫), সাজন মিয়া (৫৫) সহ অন্তত ৫০জন লোক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অধিকাংশ ব্যক্তিদের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যেক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, শ্রীধর পাশা দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসার আবাদি জমি রমজমা দিতে শনিবার সকাল ১০টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে গ্রামবাসীর বৈঠক বসে। গ্রামবাসীর দীর্ঘ আলোচনায় প্রায় ৯৩ হাজার টাকায় মাদ্রাসার জমি বিভিন্ন লোকজন রমজমা নিয়ে থাকেন।

এসময় মাদ্রাসায় জড়ো হওয়া গ্রামবাসী ও জাবেদ আলম কোরেশীর মধ্যে মাদ্রসা কমিটি নিয়ে আলাপ আলোচনা হলে জাবেদ কোরেশী ও ফয়সলের মধ্যে বাকবিদন্ডা সৃষ্টি হয়ে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে বন্দুক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। এতে প্রায় ৩০/৩৫ রাউন্ড গুলি বর্ষনের ঘটনা ঘটে। এসময় পুরো গ্রামে আতংক ছড়িয়ে পড়লে নিরীহ গ্রামবাসী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

প্রায় দু’ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে বন্দুকের গুলিতে উভয় পক্ষের প্রায় ৪০ জন লোক গুলিবিদ্ধ হন। এঘটনায় পুরো গ্রামবাসী বড় ধরনের সংঘর্ষ আশঙ্কা করেছেন। সংঘর্ষকালে জাবেদ কোরেশীর লোকজনের একটি দোকান থেকে মালামাল লুট ও ভাংচুর হয়েছে বলে সত্যতা পাওয়া গেছে এবং জাবেদ কোরেশীর নিজস্ব রাইস মিলে অপর পক্ষের লোকজন আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানাগেছে।

পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হন।

গুলিবিদ্ধ প্রায় ৪০জন হয়েছেন বলে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আরএমও ডা. জহিরুল ইসলাম ও সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. আলী আমজাদ খাঁন রুবেল নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জগন্নাথপুর থানার সেকেন্ড অফিসার সাইফুল আলম জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply