কানাইঘাট ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৯ সদস্যের অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ

সিলেট বিভাগ

আলিম উদ্দিন আলিম : কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদ দীর্ঘদিন থেকে ইউপির কার্যক্রম পরিচালনায় অনুপস্থিত রহিয়াছেন। তিনি রাজনৈতিকভাবে বিএনপি জামায়াত জোটের জেলা পর্যায়ের একজন সক্রিয় নেতা ( সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ) হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার চেয়ে তার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বেশি জড়িত থাকায় তিনি প্রায়ই ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় অবস্থান করেন না। তিনি গত ৯ আগষ্ট ২০১৬ ইং তারিখে সাবেক পরিষদের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহনের পর হইতে অদ্যাবদি পর্যন্ত পরিষদের সদস্যগনের সম্মানি ভাতার টাকা প্রদান করেন নাই। দায়িত্ব গ্রহনের পর হইতে তিনি এখন পর্যন্ত বিধি মোতাবেক মাসিক পরিষদের সভা অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও কোন মাসিক সভা আহবান করছেন না। এমন অভিযোগ এনে কানাইঘাট সদর ইউপির ৮ জন সদস্য ও ১ জন মহিলা সদস্যার স্বাক্ষরিত একটি অনাস্থা প্রস্তাবের লিখিত আবেদন গত ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীরা হলেন কানাইঘাট সদর ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান, ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আতাউর রহমান, ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মামুন রশিদ, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য ফরিদ আহমদ, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আমিন উদ্দিন, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য শরিফ উদ্দিন, ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আইয়ুব আলী ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা (১-২-৩ নং) ওয়ার্ডের পতি বালা। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে কানাইঘাট সদর ইউপির বিভিন্ন জায়গায় চেয়ারম্যান ও মেম্বার সমর্থদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইউপি সদস্যরা তাদের অভিযোগে উল্লেখ করেন, তারা দায়িত্ব গ্রহনের পর হইতে অধ্যাবদি পর্যন্ত ইউপির কোন সভার নোটিশ কিংবা চিটি দিয়ে পাননি। পরিষদের প্রধান হিসাবে ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়নের ৩টি একাউন্ট পরিচালনা করিতেছেন, যাহার কোন একাউন্টের হিসাব এখন পর্যন্ত পরিষদের সদস্যরা অবগত নন। এমনকি তিনির মেয়াদকালে ভিবিন্ন সময় এসব একাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করিয়াছেন, যাহার ব্যয়ের কোন খাত পরিষদে অনুমোদিত হয় নাই। তিনি অত্র ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে উন্নয়ন মূলক কাজের ভুয়া প্রজেক্ট বানিয়ে অনিয়মকারী সদস্যগণকে প্রজেক্ট চেয়ারম্যান করে কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করে ইউপির জনসাধারণকে ন্যায্য উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রেখেছেন। ইউপি সদস্যরা আরো উল্লেখ করেন, ইউপি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে পরিষদের অধিনে পরিচালিত গ্রাম আদালতের বিচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তিনি অনুপস্থিত থাকায় ইউপির নাগরিকরা তাদের প্রাপ্ত মৌলিক নাগরিক সুবিধা প্রদান হইতে বঞ্চিত রয়েছেন। তাই উল্লিখিত ইউপি সদস্যরা বিগত ২৪ আগষ্ট ২০১৭ইং তারিখে উক্ত পরিষদে এক সভা আহবান করেন, যাহা গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইং তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উল্লিখিত ইউপি সদস্যরা ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।
কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদ জানান, সদর ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য শরিফ উদ্দিন, ছোটদেশ- ছটিগ্রাম দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার মাট ভরাটের জন্য ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আজ থেকে ৩ মাস পুর্বে উত্তোলন করলেও অধ্যাবদি পর্যন্ত কোন কাজ করেননি। এছাড়া ১নং ওয়ার্ডের আতাউর রহমান, সুরইঘাট- বড়কান্দিমূখী রাস্তায় ২টি প্রকল্পে ৮ লাখ টাকার মাটির কাজ পান। এতে উক্ত রাস্তার কাজে ৬ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেও কোন কাজ না করায় বর্তমানে ২ লাখ টাকা এ প্রকল্পের আবদ্ধ রয়েছে। ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য ফরিদ আহমদ, লক্ষিপুর আতাউর রহমানের বাড়ী হইতে দক্ষিণ পশ্চিমমূখি রাস্তার উন্নয়নের জন্য ২ লাখ টাকার মাটির কাজ পান। এতে তিনি উক্ত রাস্তায় মাটির কাজ না করে সমুহ টাকা আত্বসাৎ করেছেন। ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আইয়ব আলী, সুতার গ্রামের সুরমা ডাইক হইতে তবারক আলীর বাড়ির সামনা পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার মাটির কাজ না করে সমূহ টাকা আত্বসাৎ করিয়াছেন। এছাড়া গোসাইনপুর হইতে সুনাপুর পর্যন্ত ডাইক মেরামতের জন্য ৩৭ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্বসাৎ করিয়াছেন। ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল ইসলাম, তার ওয়ার্ডের মাঝের গোপাটের রাস্তার ভাঙ্গন মেরামতের জন্য মাটি কাজ বাবত ৩৭ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্বসাৎ করিয়াছেন। এসব মাটির কাজের বিভিন্ন প্রজেক্টের সভাপতি ছিলেন উল্লিখিত ইউপি সদস্যরা। তিনি বলেন, আমি তাদের এসব দুনির্তী ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায়, তারা পরিকল্পিত ভাবে এসব মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি সপৎ করে বলতে পারি ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনায় আমার কোন ভূল বা দুর্নিতী কিংবা অনিয়ম নেই। নিয়মিত মাসিক সভা ও উন্নয়ন সভা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি কোন প্রজেক্ট কিংবা অর্থ আত্বসাতের কোন ঘটনায় আমি জড়িত নয়। তাই আমি চ্যালেঞ্জ করলাম। কেউ যদি আমার উপর আনিত অভিযোগ প্রমান করতে পারেন, তাহলে আমি আমার চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেব। তিনি আরো জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে ইউপি কার্যালয়ে এলজিএসপি-৩ এর একটি সভা ছিল। এসময় ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আমিন উদ্দিন আমার সাথে গোপনে কথা আছে বলে আমাকে অফিস থেকে তুলে বাহিরে নিয়ে যায়। এসময় কয়েকজন ইউপি সদস্য অফিসে বসা ছিলেন। এর কিছুক্ষন পর আমি ফিরে এসে দেখি আমার অফিসের টেবিলের উপর রাখা রেজুলেশন খাতাটি নেই। এসময় রেজুলেশন খাতা খোঁজাখুজির সময় ইউপি সদস্য আমিন রশিদ সহ অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। তাই রেজুলেশন খাতা না পাওয়ায় ইউপি সচিব হাজি খলিলুর রহমান কানাইঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন।
অপরদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার কানাইঘাট সদর ইউপির বীরদল পুরানফৌদ গ্রামের মাহমুদ আলীর পুত্র কানাইঘাট সদর ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য ফজলূল ইসলাম বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ইউপি সদস্য ফজলুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ঐদিন দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদ তাকে ও তার সঙ্গিও একই ইউপির অন্যান্যে কয়েকজন ইউপি সদস্যকে গালিগালাজ ও মারপিটের নানা ভয়ভীতি ও হুমকী দমকী প্রদান করেছেন। এতে উপরে উল্লিখিত ইউপি সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে তাদের অভিযোগে উল্লেখ করেন। এঘটনায় কানাইঘাট সদর ইউপির বিভিন্ন পাড়ায় ও মহল্লায় পৃথক ঘরোয়া সভা ও সমাবেশ চলছে। এতে কানাইঘাট সদর ইউপির বিভিন্ন জায়গায় চেয়ারম্যান ও মেম্বার সমর্থদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply