২০ মামলার আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন গ্রেফতার

সিলেট বিভাগ

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ২০টি মামলার আসামী সুজন মিয়া (৩০) গ্রেফতার হয়েছে। সে বিমানবন্দর থানাধীন মাখরখলা গ্রামের সুন্দর আলীর পুত্র। তার বিরুদ্ধে ২০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে।
র‌্যাব সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকালে সুজনকে গ্রেফতারের পর তার বাহিনীর সদস্যরা তাকে র‌্যাবের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তার বাহিনীর ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত র‌্যাব সদস্য সার্জেন্ট তপু রায়হানকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। আহত হন আরো কয়েকজন র‌্যাব সদস্য। এ সময় সুজন মিয়াও আহত হয়। তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন তার নামে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরী করে এবং সে সেই বাহিনীর গডফাদার হিসাবে পরিচিত । সন্ত্রাসী সুজনের নেতৃত্বে তার বাহিনী এসএমপির বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নির্বিঘেœ চালিয়ে আসছিল। সে এলাকায় ত্রাস হিসেবেও পরিচিত। তার এ ধরণের কর্মকান্ডে এলাকাবাসী সব সময় আতঙ্কে থাকত। এসএমপির বিমানবন্দর থানা এলাকায় সকল সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অংশগ্রহণসহ চাঁদাবাজি, ছিনতাই, খুন, নারী নিযার্তন, মারামারি,পুলিশ এ্যাসল্টসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ড ছিল তার নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এলাকার যুবতী ও উঠতি বয়সের মেয়েরা তার ভয়ে সর্বদা ভীত সন্ত্রস্ত থাকত এবং নির্ভয়ে স্কুল কলেজে যেতে পারতো না বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সন্ত্রাসী সুজন মিয়া গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে ঘনঘন নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে আসছিল। সন্ত্রাসী সুজনের সশস্ত্র সহযোগীরা গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিদিন মাখরখলা গ্রামের চারপাশে পালাক্রমে পাহারার ব্যবস্থা করত । এভাবে তারা সুজনের নিরাপত্তা বিধান করতো।
সুজনকে গ্রেফতার করায় স্থানীয় জনগন স্বস্তি প্রকাশ করেছে এবং র‌্যাবকে সাধুবাদ জানিয়েছে। সুজন বাহিনীর অপর সশস্ত্র সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে। উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামীকে এসএমপির বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply