স্বপ্ন দেখি গনতান্ত্রিক পরমত সহিষ্ণু সমৃদ্ধ বাংলাদেশের

প্রকাশিত: ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

স্বপ্ন দেখি গনতান্ত্রিক পরমত সহিষ্ণু সমৃদ্ধ বাংলাদেশের

আ.ম.ন জামান চৌধুরী : পৃথিবীর দীর্ঘ ইতিহাসের সব চেয়ে বর্বর -নৃশংস মানবতা বিরোধী মুসলিম গণ হত্যার প্রতিবাদে পুর্ব ঘোষিত সিলেট জেলা বি এন পি এবং তার অঙ্গ সংগঠন গুলোর মানব বন্ধন ছিল গত নয় সেপ্টেম্বর । যথারীতি তাদের দলীয় কর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে কার্যালয়ে জড়ো হচ্ছিলেন ঠিক সে সময় পুলিশ এসে নেতা কর্মীদের ঘেরাও করে আইন শৃঙ্খলা অবনতির দোহাই দিয়ে মানব বন্ধন করা যাবেনা বলে অলিখিত হকুম জারী করে বসে । প্রশ্নটি হলো মানব বন্ধন করলে কি ধরণের আইন শৃঙ্খলার অবনতি হ’তে পারতো? সারা দেশে বিভিন্ন সংগঠন মিছিল মিটিং মানব বন্ধন করতে পারে কিন্তু বি এন পি করতে পারেনা এ রকম সিদ্ধান্ত অতি উৎসাহী পুলিশ নিজেরা জায়েজ করছেন না সরকারের সিদ্ধান্ত তা আমাদের জানা নেই । সমগ্র বিশ্ব ব্যাপী মায়ানমারের সুচি তার সরকার কর্তৃক জঘণ্য হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে জনগণ সোচ্চার হচ্ছে সেখানে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসাবে বি এন পি তো নিশ্চুপ থাকতে পারেনা । বি এন পি’র সরকার বিরোধী কোন কর্মসূচী ছিলনা এ দিন। পুর্ব ঘোষিত এ কর্মসুচীতে পুলিশি বাধা গনতান্ত্রিক সমাজে পরমত সহিষ্ণুতার প্রতি চরম অবজ্ঞা। বিরোধী দল হলেই কোন মানবিক কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারবেনা তা গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বৈরতান্ত্রিক সুরের জয়েন্ট কম্পোজিশন কিনা । ক্রমাগত আমাদের রাজনীতি যে সব সংস্কৃতি অনুশীলন করছে তা অদূর ভবিষ্যৎ আমাদেরকে আরো বেশি সংকীর্ণ পরিসরে বন্ধি করে ফেলবে ।বিরোধী দল গুলো পুর্ব ঘোষণা দিয়ে কারো নামাজে জানাজায় অংশ গ্রহণে কোনরুপ বাধাঁ আসবে না সে আশংকা মন থেকে উড়িয়ে দেয়া সহজ নয়।। গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় সরকারী দল হলো একটি দুরন্ত গতির ঘোড়া আর তাকে যথাযত লাইনে রাখতে বিরুধী দল হলো চাবুক শক্তি এবং
ক্ষমতার উন্মাদনা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে লাইচ্যুতই করে ইতিহাসের এই সরল অংকটি সব চেয়ে বেশি রাজনীতিবিদেরই জানা থাকার কথা। অন্যান্য যে কোন পলিসির চেয়ে গনতন্ত্র মানুষের অধিকার গুলোকে সম্মান জনক সুরক্ষা দেয় । যখন যে দল ক্ষমতায় যায় মানুষের মৌলিক অধিকার গুলোর অন্যতম বিষয় গুলোর অধিকার হরণের যে এক্সারসাইজ করে এটা কখনো কখনো স্বৈর শাসনকে হার মানায় । এহেন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার ন্যুনতম চেষ্টা অর্ধ শতাব্দীর রাজনীতির ইতিহাসে পরিলক্ষিত হয়নি। গনতন্ত্র বলতে আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা যে দর্শন শিখিয়ে থাকেন তা অন্ধের হাতি দর্শনের মতোই। আমাদের গনতন্ত্র কখনো নির্বাচনী গোয়ালের বাইরে বেরুতে পারেনি। নির্বাচনে ভোট দিতে পারার মধ্যেই গনতন্ত্র সীমাবদ্ধ । ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ীত্বের কুট কৌশলে গনতন্ত্র বারংবার আহত হয়েছে, এমন কি হাত ছাড়া হয়েছে তবু কৌশলীদের সুমতি ফেরা হয়না। শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতি আমাদেরকে একে অপরের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন করে তোলেছে। হাজার বছেরর সামাজিক রীতি বা প্রথাকে এমন ভাবে ভেঙ্গে দিচ্ছে যা সতীদাহের প্রথাকে হার মানায় ।এ কথাটি বলা অত্যুক্তি হবেনা যে সামাজিক অবক্ষয়ের পিছনে আমাদের ভঙ্গুর রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহুলাংশে দায়ী । রাজনীতির মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ বা রাষ্ট্র গঠন করা দুর্বোধ্য নয় যদি সদিচ্ছা প্রতিটি রাজনীতিবিদের মধ্যে থাকে। প্রত্যাশাটি অত্যন্ত জটিল যে কারা সেটা শুরু করবেন । ভিন গ্রহের কাউকে দিয়ে তো শুরু করার সুযোগ নেই । আমারা সেটা শুরু করতে পারি। শুভ সূচনার জন্য আমাদের রাজনীতিবিদদের বদ অভ্যাসটি পরিত্যাগের মত একটি কঠিন মোহ ত্যাগ করতেই হবে তা হলো চিরদিন ক্ষমতায় থেকে যাবার এক ভয়াবহ লালসা। এ দেশ রাজনীতিবিদরাই সৃষ্টি করেছিলেন তাদের অবদান অনস্বীকার্য । আজকের বাংলাদেশকে এতদূর নিয়ে যাবার কৃতিত্বপূর্ণ অবদান তাদেরই । ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে এক সম্মান জনক
অবস্থানে রেখে যাবার মহান দায়িত্ব তাদের ওপর নির্ভর করছে
আমি বিশ্বাস করি আমাদের গনতান্ত্রিক রাজনীতি হবে প্রশ্নাতীত পরমত সহিষ্ণু। মৌলিক অধিকার গুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নে সকলের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করবে । জনগণ পরমত সহিষ্ণু রাজনীতি, একটি সুখি সমৃদ্ধ গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন বুনে চলে নিরন্তর । সেই স্বপ্ন সারথি আমাদের রাজনীতিবিদ হয়ে উঠুক আমাদের অহংকার। জনতার স্বপ্ন ধারন করে জেগে উঠুক আগামী কালের বাংলাদেশ ।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট