মিয়ানমারের রাখাইনবিরোধী অভিযানে অকুণ্ঠ সমর্থন চীনের

প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

মিয়ানমারের রাখাইনবিরোধী অভিযানে অকুণ্ঠ সমর্থন চীনের

দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে মিয়ানমারকে সমর্থন দেয়ার কথা ব্যক্ত করেছে চীন। শুধু তা-ই নয়, তারা মিয়ানমারের এই ‘কর্মযজ্ঞে’ সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, রোহিঙ্গা মুসলিম সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমার যে ‘সেফগার্ড স্ট্যাবিলিটি’ বা স্থিতিশীলতা রার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তাতে সমর্থন রয়েছে চীনের। লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ব্রেকিং নিউজ হিসেবে এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে চীন। তিনি বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখতে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে আমাদের সমর্থন রয়েছে। আমরা আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব সেখানে শৃংখলা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসবে। তিনি আরো বলেন, জাতীয় উন্নয়নের জন্য মিয়ানমার তার স্থিতিশীলতার সুরা নিয়ে কাজ করছে। এ জন্যই তাদের প্রচেষ্টা। মিয়ানমারের এই প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার কারণে কমপে ৩ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছেই। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের নিন্দা জানিয়েছে। সু চির প্রতি সহিংসতার নিন্দা জানাতে বলা হয়েছে। কিন্তু সু চি বলছেন, তারা ‘টেরোরিস্ট’দের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন। এতে গণহারে মানুষ মারা হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেন এই হত্যাকান্ডকে জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বৈঠকে বসছে। খবর ছড়িয়ে পড়েছে, ওই বৈঠকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে চীন। আর মিয়ানমারকে চলমান সহিংসতায় সমর্থন প্রকাশের ব্রেকিং রিপোর্ট ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রকাশ করল সেই বৈঠককে সামনে রেখেই। : এদিকে মিয়ানমারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভ নিন্দা জানালেও চীনের ভূমিকার কারণে জাতিসংঘ কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। জাতিসংঘের মতে ভয়াবহ নিষ্ঠুর নির্যাতনে মিয়ানমারে ৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে প্রায় ৪ লাখ। এদিকে মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে আসা দুই লাখের বেশি শিশু ঝুঁকির মুখে আছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল-ইউনিসেফ গতকাল এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। : ইউনিসেফ-বাংলাদেশের শিশু সুরা ইউনিটের প্রধান জঁ লিবির দেয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যেভাবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয়েছে, তা অভাবনীয়। শুধু ৪ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর এই ছয় দিনে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ এসেছে বাংলাদেশে। এ ঢল যে কমবে, এর কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। এটি একটি বড় মানবিক বিপর্যয় আর এর বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। প্রাথমিক তথ্য থেকে বলা যায়, মিয়ানমার থেকে এ যাবৎ যত রোহিঙ্গা এসেছে, এর মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু। গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ইউনিসেফের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব শিশু এসেছে, তারা কয়েক দিন ধরে নির্ঘুম। তারা ুধার্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ও বিপদসংকুল যাত্রাপথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা দরকার। পালিয়ে আসা শিশুরা অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে ইউনিসেফ জানায়। আন্তর্জাতিক সংস্থাটি মনে করে, এসব শিশুর সুরা এবং মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দরকার।

  •