সরকার মুসলিম বিরোধী হওয়ায় রোহিঙ্গাদের আসতে দিচ্ছে না : রিজভী

প্রকাশিত: ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৭

সরকার মুসলিম বিরোধী হওয়ায় রোহিঙ্গাদের আসতে দিচ্ছে না : রিজভী

বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে মুসলিম বিরোধী পরিচয় ফুটিয়ে তুলতেই সরকার পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আপনার দলে কোনও জনগণ নেই। আওয়ামী লীগকে জনগণ তালাক দিয়েছে। তাদের জনগণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। জনগণ আপনাদেরকে ত্যাজ্য করেছে। তারা আপনাদের বিরুদ্ধে একটি কাঠগড়া নির্মাণ করেছেন। যা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দেখতে পাচ্ছেন না। সেই কাঠগড়া হচ্ছে জনগণের হৃদয়ে। সেখানে তাদেরই বিচার হবে, যারা পিলখানা হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে দেশে সন্ত্রাসের রক্তাক্তগৃহ রচনা করেছেন। যারা অপহরণ করে, গুম করে তাদেরই আদালতে তারা প্রধান বিচারপতির (সুরেন্দ কুমার সিনহা) বিচার করতে চায়। প্রধান বিচারপতির সে আদালতে বিচার হবে না। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে ‘বিচার বিভাগকে আক্রমণ করে আওয়ামী দুঃশাসনকে দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। : রিজভী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়েও ঘটনা হয়েছিলো, হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছিলো, খাদ্য দেয়া হয়েছিলো, পানি দেয়া হয়েছিলো, ওষুধ দেয়া হয়েছিলো। শেখ হাসিনা আপনি রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেবেন না। কারণ আপনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে দেখাতে চান আপনি মুসলমান বিরোধী। আপনি (শেখ হাসিনা) মুসলিম বিরোধী- এই পরিচয়টা ফুটিয়ে তোলার জন্যই আজকে ওই দিকে রোহিঙ্গারা গুলি খাচ্ছে, শিশুরা মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে, খাদ্যের জন্য ছটফট করছে আর এইদিকে বাংলাদেশ তাদেরকে ঠেকাচ্ছে তারা যেন আসতে না পারে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে সরকারের ‘ভুলনীতি’ ও ‘দুর্বল কূটনৈতিক তৎপরতা’কে দায়ী করে রিজভী বলেন, তাদের ভুলনীতি ও দুর্বল কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে আজকে রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। একটা জাতিকে, একটা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে তিলে তিলে যুগের পর যুগ নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, সারাদেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। অথচ বাংলাদেশ সরকার নির্বিকার, নিশ্চুপ এবং তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলিতে রোহিঙ্গাদের মৃত্যু, তাদের অনাহারে-অর্ধাহারের অবস্থা। আমরা সরকারের এহেন ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নীরব ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। : আজকে এতো আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্যান্য দেশে কিছু হলেই কত তৎপর হয় তারা। অথচ রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা খুব একটা তাদের তৎপরতা দেখালাম না। মিয়ানমার সরকারের সাথে আমাদের সরকারের যুগ যুগ ধরে সম্পর্ক ভালো। কিন্তু এই ধরনের একটি অবস্থা, একটা জাতিগত নির্মূলের যে অভিযান এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংগঠিত করে একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করা সেই পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে সরকার আছে, সেই সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায় না। : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে সরকার সরাসরি বিষোদগার করে মল্লযুদ্ধে নেমেছে বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য যেখানেই দেখবে ন্যূন্যতম বাধা আসছে সেখানেই প্রচন্ড আক্রমণে তা সমতল করে ফেলবে, সেটা রাখতে দেবে না, ভেঙে ফেলবে। সেটারই আমরা এখন নমুনা দেখতে পারছি। প্রধান বিচারপতিকে টার্গেট করে ওরা যে কথাগুলো বলছেন, প্রকাশ্যে তার বিচারের কথা বলছেন। প্রধান বিচারপতির কাছে ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) গেলেন। আবার রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে ডেকে পাঠালেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার কথা ছিলো না প্রধানমন্ত্রী গেলেন। আরো দুই-একজন মন্ত্রী গেলেন। তাকে বলা হচ্ছে যে, তার (প্রধান বিচারপতি) সাথে মল্লযুদ্ধ চলছে- ‘আমাদের কথা শুনো, তুমি রায়ের পর্যবেক্ষণ থেকে ওইগুলো বাদ দাও’। : রিজভী বলেন, এখন সাধারণ মানুষের বিবেকে যেটা স্পর্শ করে তার অনেকগুলো কথাই পর্যবেক্ষণে এসেছে, যেটা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যায়। এ যাওয়ার কারণে তারা চেষ্টা করছেন তাকে (প্রধান বিচারপতি) ঘায়েল করার জন্য। একদিকে তারা (সরকার) সমঝোতা করছেন, অন্যদিকে তারা মানসিকভাবে ঘায়েল করার জন্য তার (প্রধান বিচারপতি) কত কাঠা জমি আছে সেটা বৃদ্ধি করেছেন কিনা- বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর (রাজস্ব বোর্ড), দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) সবাইকে লেলিয়ে দিয়েছে যে, প্রধান বিচারপতিকে ঘায়েল করার কথা বলো। তাদের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী থেকে করে সর্বশেষ পর্যন্ত তার সম্পর্কে আজে-বাজে কথা বলছেন। : প্রধান বিচারপতির বিচার জনতার কাঠগড়ায় করা হবে- আওয়ামী লীগের নেতাদের এহেন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা অপহরণ করে, গুম করে তাদের সঙ্গে প্রকৃত জনগণ নেই। আসল জনগণ আপনাদের ত্যাগ করেছে, তালাক দিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে আমরা বলতে চাই, কাঠগড়া নির্মাণ করা হচ্ছে, সেই কাঠগড়া আপনারা দেখতে পারছেন না। জনগণের হৃদয়ের মধ্যে বিচার করা হবে, সেই কাঠগড়া তৈরি করা হচ্ছে। সেই কাঠগড়ায় তাদেরই বিচার হবে যারা পিলখানা থেকে শুরু করে, শেয়ার বাজার, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে, তনু-খাদিজা-মীম থেকে শুরু করে, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম থেকে শুরু করে যে ভয়ংকর তান্ডাব ও সন্ত্রাসের রক্তাক্ত গুহ রচনা করেছেন, তাদের বিচারের সেখানে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। : আয়োজক সংগঠনের সভানেত্রী ড. ফরিদা মনি শহিদুল্লাহর সভাপতিত্বে মানববন্ধন আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট