বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে বেগম খালেদা জিয়ার আহবান

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৭

বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে বেগম খালেদা জিয়ার আহবান
বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে বেগম খালেদা জিয়ার আহবানসারাদেশে বন্যা মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, বন্যা মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। নেই কোনো জরুরি ত্রাণ তৎপরতা। বন্যাদুর্গত মানুষকে নিরাপদে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে তিস্তা, ধরলা, পুনর্ভবা, ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের বেশ কয়েকটি নদী ফুলে-ফেঁপে উঠে ভয়াবহ বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে নদীগুলো ফুলে-ফেঁপে ওঠায় দেশের বন্যা পরিস্থিতি এখন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। এর ওপর তিস্তার উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের গেটগুলো খুলে দেয়ার ফলে তিস্তা নদীর পানি এখন বিপদসীমার সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে তিস্তাসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল, বসতবাটি, যোগাযোগব্যবস্থা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য নদীর উজানের দিক থেকে ধেয়ে আসা প্রবল পানির স্রোতে বাংলাদেশের ব্যাপক এলাকা এখন পানির নিচে। হু হু করে বয়ে আসা বন্যার পানিতে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোই শুধু নয়, জেলা শহরগুলোও তলিয়ে যাচ্ছে। শহরের পাকা রাস্তাতেও কোমর পানি ডিঙ্গিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। বন্যাউপদ্রুত মানুষ ঘরবাড়ি-জোতজমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অথচ বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। নেই কোনো জরুরি ত্রাণ তৎপরতা। বন্যাদুর্গত মানুষকে নিরাপদে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। রংপুর বিভাগের অনেক এলাকার অসহায় মানুষ বন্যার তান্ডবে সর্বস্ব খুইয়ে হাহাকার করছে। : সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লিপ সার্ভিস ছাড়া এই ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় বাস্তব কোনো সার্ভিস নেই। জনগণকে উপেক্ষা করে ক্ষমতায় থাকাটাই বর্তমান সরকারের যেহেতু একমাত্র উদ্দেশ্য, তাই জনদুর্ভোগকে তারা কখনোই আমলে নেয় না। অতিসম্প্রতি হাওরে বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি হওয়ার পরও পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়হীন, ক্ষুধার্ত মানুষকে সহায়তা দিতে সরকার তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি গ্রহণে কোনো ধরনের মনোযোগ দেয়নি। যার কারণে বর্তমান বন্যার তান্ডবে উপদ্রুত মানুষ এক চরম সংকটের মধ্যে নিপতিত হয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি প্রতিশোধ স্পৃহাই যদি সরকারের মূল চালিকাশক্তি হয়, তাহলে সেই সরকার কখনোই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দিয়ে অসহায় জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে পারে না। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমি সারাদেশে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সচ্ছল মানুষকে অতিদ্রুত বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। : অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভারী বর্ষণে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর বিধ্বস্ত, ফসলি জমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে উপদ্রুত মানুষ আহাজারি করছে। উজানের প্রবল পানির তোড়ে তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশ এখন বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর জেলা বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে এখন পর্যন্ত ত্রাণ তৎপরতায় সরকার নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন শূন্যগর্ভ মেকি বলেই কোথাও অবকাঠামোর ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন নেই। আর সে কারণেই যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণের ক্ষয়ক্ষতি হয় অপরিসীম। দেশজুড়ে চলছে ভয়াবহ খাদ্য সংকট, এর ওপর সরকারি দলের খাদ্যপণ্য কেলেঙ্কারি তো রয়েছেই। সুতরাং যাদের রাজনীতির লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নয়, তাদের দ্বারা দুর্গত মানুষ উপেক্ষিতই হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি বন্যাকবলিত মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলÑ বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ দেশের বিত্তবানদের দ্রুততার সাথে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।
  •