সিলেটে কলেজ ও হাসপাতালে ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ৩:২১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০১৭

সিলেটে কলেজ ও হাসপাতালে ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ

সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় সোমবার দুপুরে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর উপর হামলার পর রাতে একদল যুবক জালালাবাদ কলেজ ও সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ভাংচুরের পর সোবহানীঘাট-উপশহর সড়ক প্রায় আধা ঘন্টা অবরোধ করে রাখে ভাংচুরকারীরা। এসময় এ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ভাংচুরকারীরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সোমবার দুপুরে এই কলেজের সামনে দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। তাই, এলাকাবাসী ধারণা করছেন এর জের ধরেই আহতদের সহকর্মী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রাতে কলেজ ও হাসপাতালে ভাংচুর চালিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়- রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল যুবক লাঠি-সোটা নিয়ে সোবহানীঘাট এলাকায় জালালাবাদ কলেজ এবং সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালে ভাংচুর চালায়। এসময় তারা হাসপাতালের সামনে থাকা একটি এম্বুলেন্স (ঢাকা মেট্রো ঠ ১১-৮৩৪৮), একটি সিএনজি অটোরিকশা (সিলেট থ ১১-৩০৫১) এবং কলেজের ভেতরে আসবাপত্র ভাংচুর করে।
সোমবার দুপুরে জালালাবাদ কলেজের সামনে দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। পুলিশের ধারণা- এর জের ধরেই রাতে কলেজ ও হাসপাতালে ভাংচুর চালিয়েছে। যদিও হামলার ঘটনায় শিবিরকে দায়ি করে বিকেলে নগরীতে বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগ। তবে- এ ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে শিবির।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘একদল যুবক হাসপাতাল এবং কলেজে ভাঙচুর করে সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইলিয়াছ।

তিনি বলেন, রাতে সাড়ে ৮টার দিকে একটি গ্রুপ এসে আমাদের হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর করে। আমাদের ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ টাকা সহ একটি কম্পিউটারও নিয়ে যায়। এমনিক আমাদের হাসপাতালে স্থাপিত সবকটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও তারা ভেঙে ফেলেছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমান হিসাব করে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান হিসাব করে কি করব। আমরা আইনি কোনো প্রক্রিয়াতে যাবনা। যা করার তা পুলিশ করবে। আমরাতো পুলিশকে ফুটেজ না দিয়ে পারবোনা। তাদেরকে সাহায্য করেছি মাত্র। এর কারনেই আমাদের উপর হামলা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গৌসুল হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়েছি কয়েকজন এসে হাসপাতলে ভাংচুর করেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন কম্পিউটারসহ সকল সিসি ক্যামেরাও ভেঙ্গে ফেলেছে।

উল্লেখ্য, সোমবার (৭আগস্ট) দুপুরে সোবহানীঘাটস্থ জালালাবাদ কলেজের সামনে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনার তদন্তে কোতোয়ালী থানা পুলিশ সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট