‘বিএনপির আন্দোলন এখন টেমস নদীর তীরে বেগম জিয়ার ভ্যানিটি ব্যাগে’

প্রকাশিত: ৩:১২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০১৭

‘বিএনপির আন্দোলন এখন টেমস নদীর তীরে বেগম জিয়ার ভ্যানিটি ব্যাগে’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির আন্দোলন এখন টেমস নদীর তীরে বেগম জিয়ার ভ্যানিটি ব্যাগে। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে হটাতে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে বিএনপি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ছাত্রী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলন এখন টেমস নদীর তীরে বেগম জিয়ার ভ্যানিটি ব্যাগে। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে হটাতে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। জনগণের নির্বাচিত সংসদ। নির্বাচনে আপনারা আসেননি, সেটা কি নির্বাচনের দোষ? সহায়ক সরকার হবে শেখ হাসিনার সরকার। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এটাই সংবিধান। আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংসদ ভেঙে দেয়ার স্বপ্নও দেখছেন সেটাও হবে না। সংসদ ভেঙে দেয়ার দিবাস্বপ্ন যারা দেখছেন, তাদের এই রঙিন খোয়াব তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে। সে দিন আর বেশি দূরে নয়। ষড়যন্ত্র করছেন, কাদের কাদের নিয়ে, কিভাবে করছেন সব আমরা জানি। আমরা জবাব দেবো।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আদালত ক্ষমতায় বসাবে, বিদেশিরা ক্ষমতায় বসাবে ঐ রঙিন খোয়াব এদেশে সফল হবে না। ক্ষমতায় বসাতে পারে এদেশের জনগণ। সেই শক্তি শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে। কোনো ষড়যন্ত্র আমাদের উন্নয়নের মহাসড়কে চলার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরে আন্দোলন, কত ঈদ চলে গেল। সেই আন্দোলন আর হলো না। কিন্তু আন্দোলন করবেন কেমন করে? আন্দোলন করতে হলে জনগণ লাগবে। জনগণ তো শেখ হাসিনার সঙ্গে। জনগণ আপনাদের আন্দোলনে নেই।’

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন, কেউ সাড়া দিচ্ছে না। যিনি ডাক দিয়েছেন, তিনি টেমস নদীর পাড়ে। চিকিৎসার নামে চলে গেছেন, বসে বসে কি করছেন সবাই জানে। আন্দোলন এই বছর, না ঐ বছর, মানুষ বাঁচে কয় বছর?’

তিনি বলেন, ‘এদেশের রাজনীতিতে মুজিব পরিবারই হচ্ছে সততা, আদর্শের প্রতীক। চরিত্রহননের ছোরা দিয়ে এই পরিবারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কম হয়নি। এদের কোন হাওয়া ভবন নেই, ক্ষমতার বিকল্প সেন্টার নেই। সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে আসেন। দুই-একটি সৃজনশীল অনুষ্ঠান ছাড়া তাকে আর কোথাও দেখা যায় না।’

তিনি আরো বলেন, আগস্ট মাসে বিলবোর্ডের নামে বাড়াবাড়িটা ছাত্রলীগ করছে না, এটা ভালো লাগছে। ছাত্রলীগ চাঁদাবাজি করে আগস্টের কর্মসূচি পালন করছে—এমন অভিযোগ পাইনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগকে আমরা সুনামের ধারায় পরিচালিত করার চেষ্টা করছি। তারপরেও কেউ কেউ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। আমি স্পষ্টভাবে বলছি, বিশ্বজিৎ হত্যায় দণ্ডিত রাজনের মতো কর্মী ছাত্রলীগের দরকার নেই। বগুড়ার তুফান সরকারের মতো তুফান কর্মী আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন শহীদ সন্তান ডা. নূজহাত চৌধুরী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ।

  •