ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে সরকারে অস্বস্তি, সংসদ ভেঙে দিতে রিটের চিন্তা বিএনপির

প্রকাশিত: ১:৪০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০১৭

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে সরকারে অস্বস্তি, সংসদ ভেঙে দিতে রিটের চিন্তা বিএনপির

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকার ও বিরোধী পক্ষে তুমুল বাকযুদ্ধ। রায়কে ঘিরে সরকারে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। সেই ভেতরে-বাইরে তারা কঠিন চাপের মুখে পড়েছে। সরকার পক্ষ এ রায়ের সমালোচনা করলেও বিরোধী পক্ষ এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যায়িত করে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।

তবে সরকার পক্ষ বিরোধী পক্ষের এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন ‘কেউ কেউ সুপ্রিম কোর্টের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় মহাখুশি। খুশিতে লাভ নেই এই আশার আলো অচিরেই নিভে যাবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আদালতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী যতোবার বাতিল করা হবে, ততোবারই সংসদে বিল পাস করা হবে।

তিনি এও বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী যারা বাতিল করেছেন, সেসব বিচারপতির চাকরিও সরকার দেয়। তাই আদালতে বাতিল করা হলেও সংসদে তা বার বার পাস করা হবে।’

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য আদালত অবমাননার সামিল ও অশুভ ইঙ্গিত।

তিনি আরো বলেন, ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পরে সরকারের ক্ষমতায় থাকা বেআইনি। এ রায়ের পরে দেশের জনগণ আশা খুঁজে পাচ্ছে। ফলে সরকারের উচিত পদত্যাগ করে বিদায় নেয়া।

রিজভী এও বলেন, লজ্জা থাকলে তারা এই রায়ের সমালোচনা না করে পদত্যাগ করে বিদায় নিতেন। কিন্তু তাদের কথাবার্তায় বুঝা যাচ্ছে- তারা ক্ষমতার মোহে সেই লজ্জাবোধও হারিয়ে ফেলেছেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যবেক্ষণের পর সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ফখরুল এও বলেন, সভ্য দেশ হলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর সরকার পদত্যাগ করত। সরকারের উচিৎ রায় আমলে নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের ‘ঐতিহাসিক’ রায় পর্যালোচনা করছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র আইনজীবীরা শনিবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রায়ে বর্তমান সংসদকে ‘অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করায় সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি তুলতে পারে বিএনপি। এর পরিপ্রেক্ষিতের আদালতে রিটও করা হতে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, জয়নুল আবেদিন, মীর নাসির উদ্দিন, নিতাই রায় চৌধুরী, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

বৈঠক শেষে এক নেতা জানান, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ঐতিহাসিক। পূর্ণাঙ্গ রায় আমরা স্টাডি করছি। রায়ে বর্তমান সংসদকে ‘ডিসফাংশনাল’ (অকার্যকর) বলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনী কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

ওই নেতা বলেন, বর্তমান সংসদে ১৫৩/১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধানের ৬৫/২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যগণ। সেক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচনে এর সম্পূর্ণ ব্যতয় ঘটেছে। এখন যেহেতু দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংসদে অকার্যকর বলেছে, সেহেতু আইনী পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে তারা চিন্তাভাবনা করছেন। সংসদ ভেঙে দেয়ার বিষয়ে রিট করাও হতে পারে।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার অবৈধভাবে অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় আছে। আপিল বিভাগের যে পূর্ণাঙ্গ রায় বেরিয়েছে, যেকোনো সভ্য দেশ হলে, গণতান্ত্রিক দেশ হলে সরকার পদত্যাগ করতো। রায়ে বিচার বিভাগ বলেছে, দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার নেই, এদেশে পার্লামেন্টে নন ফাংশনাল হয়ে গেছে, এদেশে আইনের শাসন নেই এবং বিচার বিভাগকে তারা (সরকার) নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। পর্যবেক্ষণে এও বলা হয়েছে যে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ শনিবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ অভিহিত করে বলেন, এ রায় দেশের ১৬ কোটি মানুষের মনের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটিয়েছে। এ রায় জাতীয় দলিল বলে আমরা আখ্যায়িত করতে পারি।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট