বিশ্বজিৎ হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০১৭

বিশ্বজিৎ হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট

বহুল আলোচিত পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।

রবিবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে এই মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন এবং মীর মো. নূরে আলম লিমনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাইয়ুম মিঞা টিপু ও সাইফুল ইসলাম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফাকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ মামলার রায়ে এর আগে ছাত্রলীগের আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে গত ১৭ জুলাই রায় ঘোষণার এ দিন ঠিক করে দেয় আদালত।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয় গত ১৬ মে। ১৫ কার্য দিবস শুনানি শেষে গত ১৭ জুলাই হাইকোর্ট রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এদিকে নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পর সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি রাজন তালুকদার ও মীর মো. নূরে আলম লিমনসহ ১৪ আসামিকে।

অভিযোগ রয়েছে, পলাতকরা সাজা পরোয়ানা নিয়ে দেশ ও বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এই মামলায় পাঁচজন মৃত্যুদণ্ড ও দুজন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে ছাত্রলীগের একদল কর্মী বিশ্বজিৎকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

নিরীহ ওই যুবককে দিন-দুপুরে নৃশংসভাবে হত্যার দৃশ্য টেলিভিশনে দেখে আঁতকে উঠেছিল দেশের জনগণ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৩ সালের মার্চ মাসে আদালতে এই হত্যা মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২১ নেতা-কর্মীকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক নিজামুল হক আটজনকে ফাঁসি ও ১৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

  •