শমশেরনগর সুজা কলেজে ছাত্রদের মধ্যে মারপিট,রড নিয়ে বাজারে মহড়া

প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৭

শমশেরনগর সুজা কলেজে ছাত্রদের মধ্যে মারপিট,রড নিয়ে বাজারে মহড়া
কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের উত্তেজনার মাঝে শনিবার (২৯ জুলাই) বেলা আড়াইটায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের সুজা মেমোরিয়াল কলেজের সিনিয়র (দ্বাদশ শ্রেণির) ও জুনিয়র (একাদশ শ্রেণির) মারপিট ও রড নিয়ে বাজারে মহড়া হয়েছে। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয়।
খোঁজ নিয়ে ও শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়,শনিবার কলেজের ক্লাস শেষে রাবার বাগান এলাকায় বেলা আড়াইটায় সুজা মেমোরিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির ও দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র মারপিট করে।
একাদশ শ্রেণির ছাত্র তানজির আহমদ বলেন,আমি সকালে দ্বাদশ শ্রেণিতে হাসান ভাইকে খুঁজতে গেলে দ্বাদশ শ্রেণির হিফজুর রহমান ও ফাহিম আহমদ আমাকে বলেন কেনো আমি তাদের অনুমোতি ছাড়া ক্লাসে ডুকলাম বলেই আমাকে গালাগালি করেন আমি কিছু না বলে তাদের ক্লাস থেকে চলে আসি।আমি পরে হাসান ভাইকে সব কিছু বললে উনি বলেন ছুটির পরে তাদের সাথে কথা বলবেন।কলেজ ছুটি হলে আমি, হাসান ভাই,মেহেদী,রাহিম ঢালী মিলে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র (শরিফপুরের)হিফজুর রহমান,ফাহিম আহমদ,দেলোয়ার হোসেন ও আজিজুল হক কে তারা জিজ্ঞাসা করেন কেনো তোমরা তানজিরকে গালাগালি করলে তখন দ্বাদশ শ্রেণির হিফজুর ও ফাহিম আমাকে ও হাসান ভাইকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় এবং তারা সবাই মিলে আমাদের সবার উপর হামলা করে এমন সময় পুলিশ আসলে তারা পালিয়ে যায়।
পরে তারা বাজারে গিয়ে রড,কুদাল, বেলচা ও লাঠি নিয়ে আমাদেরকে মারার জন্য অপেক্ষা করে শমশেরনগরের অনেকেই তা দেখেছেন।
দ্বাদশ শ্রেনির ছাত্র হিফজুর রহমান ও ফাহিম আহমদ বলেন, সিনিয়রিটি ও জুনিয়রিটি নিয়ে স্থানীয় ছাত্রদের সাথে শরীফপুর ইউনিয়ন থেকে আগত দ্বাদশ শ্রেনির ছাত্রদের বিরোধ চলছিল।শনিবার আবার দ্বাদশ শ্রেণিতে এসে একাদশ শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র বেঞ্চের উপর পা তুলে বসে।
এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ক্লাস শেষে বেলা আড়াইটায় কলেজ থেকে বাড়ি ফিরার পথে কলেজের অনতিদূরে রাবার বাগান এলাকায় স্থানীয় একাদশ শ্রেনির ছাত্র মান্না ,কয়েছ,সাহান ও অন্য কলেজের একাদশ শ্রেনির শাকিলের সাথে মিলে দ্বাদশ শ্রেনিল ছাত্র জামিল, মাহিন, হাসান, মেহেদী, রাহিম ঢালী মিলে লাঠি পেটা করে। তারা আরও জানান, দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে না আসলে তাদেরকে বেদড়কভাবে পেটাতো।
শনিবারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপ সহকারী পরিদর্শক আয়াছ মাহমুদ বলেন, কয়েকদিন আগেও এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হলে তাদের ( পুলিশি) হস্তক্ষেপে আর মারপিটের ঘটনা ঘটেনি।
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক আবু সায়েম বলেন,কিছু ছেলেরা রড,লাঠি নিয়ে বাজারে মহড়া দিয়েছে তা সত্য।
শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন,বিষয়টি নিয়ে তিনি কলেজ অধ্যক্ষ ও শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলবেন।
সুজা মেমোরিয়াল কলেজ অধ্যক্ষ ম মুর্শেদুর রহমান বলেন,ঘটনাটি কলেজের বাইরে ঘটেছে। তার পরও তিনি খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন,আগামি শনিবার সকাল ১০ টায় কলেজ প্রাঙ্গণে কলেজের অধ্যক্ষসহ সামাজিক ভাবে এই ঘটনার সমাধান করা হবে এবং যারা এই ঘটনাকে নিয়ে এলাকা ভিত্তিক কাদা ছুড়াছুড়ি করছেন তা সত্যি দুঃখজনক, আমি এর তীব্রনিন্দা জানাই।
শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাফিজুল হক চৌধুরী বলেন,ঘটনাটি দুঃখজনক,এটা আমাদের কাম্য নয়।কিন্তু যারা আঞ্চলিকতা নিয়ে বিভিন্ন বিরুপ মন্তব্য করছেন আমি এর তীব্রনিন্দা জ্ঞাপন করছি।এবং যারা মূল ঘটনা না জেনে একপেশি সংবাদ পরিবেশন করেছেন তা যুক্তিসংগত হয়নি বলে আমি মনে করি।শমশেরনগরের সুনাম ক্ষুন্ন হোক এমন কর্মকান্ড মেনে নেয়া হবে না সে যেই হোক।
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট