ইউএনও আটকে তোলপাড়

প্রকাশিত: ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৭

ইউএনও আটকে তোলপাড়

‘বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করে কার্ড ছাপানোর অভিযোগে বরিশালে একজন ইউএনও গ্রেফতারের ঘটনায় জনপ্রশাসনে তোলপাড় চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতিবাদের মুখে মামলার বাদী বরিশালের সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পত্র-পত্রিকায় এ খবর দেখে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তারাও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জরুরি সভা করে মামলা প্রত্যাহার দাবিসহ প্রতিবাদ জানিয়েছে। : উপজেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনের কর্মকর্তা ইউএনওকে আটকের পর পুলিশ খুবই লজ্জাজনকভাবে হয়রানি ও নাজেহাল করে হাজতে আটকে রাখার ছবি বৃহস্পতিবার বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপার পরই প্রশাসনের সর্বস্তরে তোলপাড় শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিবিসি বাংলার রাতের অধিবেশন পরিক্রমায় মাসুদ হাসান খানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে সরাসরি দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমরা সবাই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যত কর্মকর্তা ছিলেন, এটি দেখে বিস্মিত হয়েছি। যে ব্যক্তি এ মামলা করেছেন, আমরা মনে করি তিনি অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ করেছেন।’ বিবিসি বাংলার অনলাইনে এ বিষয়ে গতকাল একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়েছে। এইচ টি ইমাম জানান, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে একজন ইউএনওকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার ছবিটি দেখান। ছবিটি দেখে প্রধানমন্ত্রী বিস্মিত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বললেন, ক্লাস ফাইভের ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এই অফিসার সুন্দর একটি কাজ করেছেন এবং সেখানে যে ছবিটি আঁকা হয়েছে, সেটি আমার সামনেই আছে, আপনারা দেখতে পারেন এবং এই ছবিটিতে বিকৃত করার মতো কিছু করা হয়নি। এটি রীতিমতো পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। এই অফিসারটি রীতিমতো পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। আর সেখানে উল্টো আমরা তার (ইউএনও) সঙ্গে এই করেছি, এই বলে প্রধানমন্ত্রী তিরস্কার করলেন। বললেন, এটি রীতিমতো নিন্দনীয়।’ : বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারীকে কোনো রকম অনুমোদন ছাড়া কীভাবে গ্রেফতার করা হলো এই প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, এটি করা যায় না। কারণ, ইউএনও হচ্ছেন উপজেলা পর্যায়ে সরকারের সবচেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাকে কোনো শাস্তি দিতে হলে বা তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা কোনো রকম কিছু করতে হলে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। ঘটনার জন্য বরিশালের ডিসি-এএসপিকে দায়ী করেন এইচ টি ইমাম। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘পুলিশ যে ব্যবহার করেছে, এই ছেলেটির (ইউএনও) সঙ্গে, যেভাবে তাকে নিয়ে গেছে, এ নিয়ে ওখানকার ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার, এঁদের প্রত্যেককে আমি দায়ী করব। এঁদের বিরুদ্ধেও আমাদের বোধহয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’ কীভাবে পুলিশ এ রকম একটি মামলা নিল, বিচারক কীভাবে মামলাটি গ্রহণ করলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তাদের সঙ্গে তিনিও একমত। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমাদের অফিসারটিকে যেন হেনস্তা করার জন্য পুলিশ যেভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে, এই পুরো ঘটনায় যে রকম তীব্র ক্ষোভ ফেটে উঠেছে, আমি তার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।’ এইচ টি ইমাম বলেন, ঘটনাটি শোনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন, যে ব্যক্তি এই মামলা করেছে, সে কে? মামলা দায়েরকারী ব্যক্তি সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ নিয়েছেন জানিয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘এই লোক পাঁচ বছর আগেও আওয়ামী লীগে ছিল না। দলের ভেতরে ঢুকে পড়া এই অতি উৎসাহীরাই এই কা ঘটিয়েছে, এই চাটুকারেরাই আমাদের ক্ষতি করছে।’ এইচ টি ইমামের মতে, এ ঘটনার পেছনে তিনটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, ইউএনওর বিরুদ্ধে হয়তো তাদের কোনো ক্ষোভ ছিল। তাকে অপমানিত করা ছিল তাদের লক্ষ্য। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন সার্ভিসের মধ্যে একটি অসন্তোষ সৃষ্টি করা। তৃতীয়ত, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। : তারিক সালমান বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকার সময় গত স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে ছাপানো আমন্ত্রণপত্রে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিশুর আঁকা ‘বঙ্গবন্ধু’র ছবি ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ গত ৭ জুন বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ইউএনওর বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তারিক সালমানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেন। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তারিক সালমানকে বরগুনা সদর উপজেলায় বদলি করা হয়। গত বুধবার ওই মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনের আবেদন করেন তারিক সালমান। আদালত প্রথমে তা নামঞ্জুর করে ইউএনওকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুই ঘণ্টা পর তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। : ইউএনও তারিক সালমান বলেন, তিনি আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকাকালে গত ১৭ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। এ প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীর ছবি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রশাসনের আমন্ত্রণপত্রে ছাপা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এর মধ্যে একটি ছবি ছিল ‘বঙ্গবন্ধু’র। সেই ছবিটি স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রে ছাপানো হয়। বরগুনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারেক আরো বলেন, ‘ আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকাকালে যারা আমাকে দিয়ে অন্যায় কাজ করাতে পারেননি, সেই প্রভাবশালীরাই আমার বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছেন। আমি জানি, প্রধানমন্ত্রী সুবিবেচক। তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বুঝবেন ‘বঙ্গবন্ধু’র প্রতি আমার ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার কথা। আমাকে তার কাছে আবেদন করতে হবে না। আমার বিশ্বাস, তিনি নিজেই ষড়ন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’ : এইচ টি ইমাম জানান, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে একজন ইউএনওকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার ছবিটি দেখান। এইচ টি ইমাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলেন, ছবিটি দেখে তিনি বিস্মিত হলেন। প্রধানমন্ত্রী বললেন, ক্লাস ফাইভের ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এই অফিসার সুন্দর একটি কাজ করেছেন। সেখানে যে ছবিটি আঁকা হয়েছে, সেটি আমার সামনেই আছে, আপনারা দেখতে পারেন এবং এই ছবিটিতে বিকৃত করার মতো কিছু করা হয়নি। এটি রীতিমতো পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। এই অফিসারটি রীতিমতো পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। আর সেখানে উল্টো আমরা তার সঙ্গে এই করেছি- এই বলে প্রধানমন্ত্রী তিরস্কার করলেন। বললেন, এটি রীতিমতো নিন্দনীয়। এ ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং দলটির সমমনাদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। দলটির সমমনাদের অনেকে বলেছেন, একশ্রেণির চাটুকার বিভিন্ন সময়ই এ ধরনের মামলা করে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে। অনেকে আবার বলেছেন, শেখ মুজিবের নাম ব্যবহার করে অতিউৎসাহী অনেক ব্যক্তি এবং অনেক ভুঁইফোঁড় সংগঠনের কর্মকা তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছে। বরিশালে এমন মামলা করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগেরই সমমনাদের অনেকে সামাজিক নেটওয়ার্কে তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরছেন। তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গণজাগরণ মঞ্চের একজন সংগঠক কামাল পাশা চৌধুরী বলছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু’র ছবিটা এঁকেছে একটা শিশু। একটা শিশুর ছবি যে স্বাভাবিকভাবে রিয়েলিস্টিক ছবি হয় না, এই ধারণাটাই তাদের নাই। এর সঙ্গে চাটুকারিতার মিশ্রণে তারা এ মামলা করেছে। কামাল পাশা চৌধুরী আরও বলেছেন, সারা দেশে এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই দলকে, নেত্রীকে এবং ‘বঙ্গবন্ধু’কে নিয়ে কোনোরকম চাটুকারিতা করা যায় কি না। এই অতিউৎসাহীদের শুধু দল থেকেই নয়, সমাজ থেকেই বিতাড়িত করা প্রয়োজন।’ : দলটির অনেকে বলেছেন, শেখ মুজিব এবং আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে অতিউৎসাহী এবং ৫০টির মতো সংগঠন কাজ করে থাকে। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বিভিন্ন সময় দলে আলোচনা হলেও তাদের থামানো যাচ্ছে না। এ নিয়ে দলের ভেতর ক্ষোভও রয়েছে। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষোভ : বরিশালে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নাজেহালের নিন্দা জানিয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ‘বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বিকৃত’ ছবি কার্ডে প্রকাশের অভিযোগের মামলায় বুধবার বরিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমানের দুই ঘণ্টা হাজতবাসের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েছে তারা। : অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সংগঠনের এক জরুরি সভায় এ প্রতিক্রিয়া আসে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। তারিক সালমান বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকাকালে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ‘বঙ্গবন্ধু’র ছবি বিকৃত করে ছাপিয়েছিলেন অভিযোগ করে গত ৭ জুন মামলা দায়ের করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। ওই মামলায় সমন জারির প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত দিন বুধবার আদালতে হাজির হন তারিক সালমান। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন। আদালতের এই আদেশকে ‘নজিরবিহীন’ বলছে প্রশাসনিক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। : ওই আদেশের পর তারিকের সঙ্গে পুলিশের আচরণের নিন্দা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাদী ও অন্যান্য আইনজীবী একটি কল্পিত বিষয় নিয়ে আদালতে অরাজক পরিস্থিতি ও চাপ সৃষ্টি করে। আদালতের আদেশে অভিযুক্ত হিসেবে জেল হাজতে নেয়ার সময় কর্তব্যরত পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তার ওপর বল প্রয়োগ করে। বেআইনিভাবে টেনেহিঁচড়ে কোর্ট হাজতে নিয়ে যায়। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় সভায়।’ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে এতে বলা হয়, ‘মানহানিকর আদেশ প্রদান, আইনবহির্ভূত পুলিশি কার্যক্রম ও তথাকথিত নামধারী স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’ : মামলার বাদী লীগনেতা সাজু বহিষ্কার : বরিশালে ইউএনও তারিক সালমানের বিরুদ্ধে মামলাকারী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ সাজুকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শুক্রবার দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত বুধবার ‘বঙ্গবন্ধু’র ছবি বিকৃতির অভিযোগে করা মামলার আসামি ইউএনওকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন বরিশালের একটি আদালত। : বুধবার বেলা ১১টার দিকে আগৈলঝাড়ার সাবেক ও বর্তমানে বরগুনা সদরের ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) গাজী মো. সালমান তারিককে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন বরিশালের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. আলী হোসাইন। বেলা ২টায় তার জামিন বহাল রাখার আদেশ দিয়েছেন তিনি। মামলার বাদী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ সাজু বলেছিলেন, আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে ছাপানো নিমন্ত্রণপত্রের পেছনের পাতায় ‘বঙ্গবন্ধু’র বিকৃত ছবি ছিল। এ বিকৃত ছবি দেখে মর্মাহত হয়ে ৫ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে ৭ জুন মামলা করা হয়। একই হাকিমের আদালতে করা ওই মামলায় বিবাদী ইউএনওকে সমন দেয়া হয়। বুধবার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হন তিনি। আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেয়ায় বেলা ১১টার দিকে ইউএনও গাজী মো. সালমান তারিককে সাময়িকভাবে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। বেলা দেড়টার দিকে আইনজীবীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার পর ১০ হাজার টাকার বেল বন্ডে জামিন বহাল রাখা হয়।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট