বিচার বিভাগকে কোণঠাসা করে দেশের মঙ্গল হয় না : প্রধান বিচারপতি

প্রকাশিত: ২:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০১৭

বিচার বিভাগকে কোণঠাসা করে দেশের মঙ্গল হয় না : প্রধান বিচারপতি

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপরে করা সময়ের আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের আপিল বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়। আদালতে রাষ্ট্রপে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর রিট আবেদনকারীর পে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। সময়ের আবেদনের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “জুডিশিয়ারিকে কর্নার্ড করে দেশের মঙ্গল হয় না। মনে রাখাবেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সবারই দায়িত্ব আছে। একদিন আপনিও থাকবেন না, আমিও থাকব না। এই বিচার বিভাগ থাকবে। “বিচার বিভাগ ও সরকারের মাঝে আপিনি হলেন ব্রিজ। যা কথা বলার আপনাকেই বলব।” পরে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি সরকারকে জানাব। এর আগেও সময় দেয়া হয়েছিল সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য। সেটা আমি করে উঠতে পারিনি। সে জন্যই গতকাল আদালতের কাছে চার সপ্তাহের সময়ের আবেদন করেছিলাম। আদালত দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছে।” স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে আরও দুই সপ্তাহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বাধা নেই বলে জানান তিনি। তিনটি রিট আবেদনের প্রেেিত ২০১১ ও ২০১২ সালে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১১ মে ওই রায় দেয়। ২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ১১টি ধারা-উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, এ আইন বিচার বিভাগের স্বাধীনতারও পরিপন্থি। রাষ্ট্রপ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে বিষয়টি গত ২১ মে আদালতে ওঠে। অ্যাটর্নি জেনারেল ওইদিন শুনানি ছয় সপ্তাহ পেছানোর আবেদন করলে আপিল বিভাগ ২ জুলাই শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে ওই সময় পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে দেয়। এরপর রাষ্ট্রপরে সময়ের আবেদনে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পাস করে তা আইনে পরিণত করে। এরপর থেকে এটি ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন নামে পরিচিত। এ আইনের ৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মতা দেয়া হয়েছে। আইনের ৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯ ও ১০ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পদ্ধতি, ১১ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মতা ও ১৩ ধারায় আপিল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। আর ১৫ ধারায় তফসিল সংশোধনে সরকারের মতার বিধান রয়েছে। রায়ের সার-সংেেপ হাইকোর্ট বলে, “ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের এসব ধারা মাসদার হোসেন মামলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে সংবিধানের মৌলিক দুটি স্তম্ভ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থি। তাই এ ধারাগুলোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হলো।

  •