বৃহত্তর সিলেটে বন্যায় আক্রান্ত ৩ লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০১৭

বৃহত্তর সিলেটে বন্যায় আক্রান্ত ৩ লক্ষাধিক মানুষ

গত কয়েকদিনের টানা বৃস্টিপাত ও উজান থেকে আসা ঢলের পানিতে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পাড় উপচে প্লাবিত হয়েছে সিলেট ও মৌলভীবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা। দেখা দিয়েছে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা।
মঙ্গলবার (৪ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দুই জেলার মোট ৯টি উপজেলা প্লাবিত রয়েছে, এছাড়াও আংশিক প্লাবিত হয়েছে আরো ৫টি উপজেলা।
সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুই জেলার ১১৪৪টি গ্রামে প্রায় ৩,০৩,৭৫৫ জন মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে।
বন্যায় ডুবে যাওয়ায় বা সংযোগ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় ইতোমধ্যে দুই জেলায় ৪০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়াও দুই জেলায় মোট ৪৪টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু করেছে প্রশাসন যাতে মোট ১০৯৬টি পরিবার আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ও সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্লাবিত হচ্ছে।
কুশিয়ারা নদীর পানি বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে ৭৩ সেন্টিমিটার ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্লাবিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী সিলেটে বন্যা কবলিত উপজেলাগুলো হলো জকিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ। এছাড়াও দক্ষিণ সুরমা ও কানাইঘাট উপজেলা আংশিকভাবে প্লাবিত হয়েছে।
এ সকল উপজেলার মোট ৪৬৬টি গ্রামের ১,৩৮,৭৫৫ জন মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছেন। আর জেলার ১১টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৪৫টি পরিবার আশ্রয় গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার মধ্যে বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলা মূলত বন্যা কবলিত হয়েছে। এছাড়াও রাজনগর, সদর উপজেলা ও কমলগঞ্জের আংশিক এলাকা বন্যা কবলিত রয়েছে।
জেলায় ৩৩টি ইউনিয়নের ৭২২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে যার মধ্যে ১,৬৫,০০০ মানুষ বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন।
মৌলভীবাজারে বন্যার্তদের আশ্রয়ে ৩৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যাতে মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৭৭টি পরিবার আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
সিলেটে ২০০টি ও মৌলভীবাজারে ২০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার সাথে স্কুলের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা ও টেস্ট পরীক্ষা স্থগিত করায় ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
প্লাবিত প্রায় প্রতিটি গ্রামের সাথে উপজেলা ও জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে সিলেটের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আর বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিত নজরদারিতে রেখেছে প্রশাসন।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিত পর্যবেক্ষণ করছে জেলা প্রশাসন, আর এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত সাহায্য নিয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট