ফরহাদ মজহারকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০১৭

ফরহাদ মজহারকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি

দেশের বিশিষ্ট কবি, কলামিস্ট, প্রবন্ধকার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহারকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আহসান হাবিবের আদালতে উপস্থিত হয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে আদালতের কাছে নিজ জিম্মায় মুক্তির আবেদন করেন তিনি।

আদালত তার আবেদন আমলে নিয়ে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে মুক্তি দেন। এ সময় ফরহাদ মজহারকে নিজ জিম্মায় ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আদালতে শুনানি করেন সানাউল্লাহ মিয়া, জয়নাল আবেদিন মেজবাহ ও জিয়াউদ্দিন জিয়া।

এর আগে নিখোঁজের ১৯ ঘণ্টা পর সোমবার রাতে যশোরের অভয়নগর থেকে উদ্ধার করা হয় কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে ফরহাদ মজহারকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় ফরহাদ মজহার ১৬৪ ধারায় ঘটনার বর্ণনা দেন।

মহানগর হাকিম এস এম মাসুদুজ্জামান ফরহাদ মজহারের কাছে জানতে চান, ‘আপনি নিজ জিম্মায় যাবেন কি না? তখন ফরহাদ মজহার মাথা নেড়ে সম্মতি দেন। এরপর মহানগর হাকিম ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় ফরহাদ মজহারকে নিজ জিম্মায় দেন। এর ফলে ফরহাদ মজহার নিজ বাসায় ফিরতে পারবেন। পরে ফরহাদ মজহারের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখলে পরিবারের সদস্যরা তাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করেন।

উল্লেখ্য, ফরহাদ মজহারকে সোমবার ভোর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তার পরিবার আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পরে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের নওয়াপাড়ায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

খুলনা থেকে মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে ফরহাদ মজহারকে রাজধানীর আদাবর থানায় আনা হয়। সেখান থেকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিএমপির (মিডিয়া) যুগ্মকমিশনার আব্দুল বাতেন দুপুর দেড়টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিং করে বলেন, ‘ফরহাদ মজহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার জানিয়েছেন- সোমবার সকালে ওষুধ কেনার জন্য তিনি বের হলে কয়েকজন অজ্ঞাত লোক চোখ বেঁধে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর কিছুই জানেন না। পরে ফরহাদ মজহারের ফোন থেকে তার পরিবারের কাছে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চান অপহরণকারীরা।’

ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে ভ্রমণের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন- পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদের এমন দাবির প্রসঙ্গে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘কে, কোথায়, কী বলেছেন সেটা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। আমরা আমাদের মতো করে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

আদাবর থানার পুলিশ মামলার ভিকটিম হিসাবে তার জবানবন্দি রের্কড করার আবেদন সহ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টায় তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে। সিএমএম-এর নির্দেশে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবিবের আদালতে ১৬৪ ধারায় বিধান মতে তার দেয়া জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট