আদালতের আদেশে নিজ জিম্মায় ফরহাদ মজহার

প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০১৭

আদালতের আদেশে নিজ জিম্মায় ফরহাদ মজহার

দেশের প্রতিথযশা কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার আদালতের আদেশে নিজ জিম্মায় গেছেন। এই আদেশের ফলে তিনি আদালত থেকে বাসায় ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করতে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ঢাকার মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের খাসকামরায় নেয়া হয়। এ সময় ফরহাদ মজহার ১৬৪ ধারায় ঘটনার বর্ণনা দেন। একই সময় ফরহাদ মজহারকে নিজ জিম্মায় ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

মহানগর হাকিম এস এম মাসুদুজ্জামান ফরহাদ মজহারের কাছে জানতে চান, ‘আপনি নিজ জিম্মায় যাবেন কি না? তখন ফরহাদ মজহার মাথা নেড়ে সম্মতি দেন। এরপর মহানগর হাকিম ১০ টাকার বন্ডে ফরহাদ মজহারকে নিজ জিম্মায় দেন।

আদালতের এই আদেশের ফলে ফরহাদ মজহার নিজ বাসায় ফিরতে কোনো বাধা নেই বলে জানান তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

তবে ফরহাদ মজহারকে পরিবার সদস্যদের কাছে এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। পুলিশ তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার রাতে উদ্ধারের পর সকাল নয়টার কিছু আগে ফরহাদ মজহারকে প্রথমে রাজধানীর আদাবর থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে বেলা ১১টার দিকে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুই ঘণ্টার বেশি সময় সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। এরপর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য নিম্ন আদালতে পাঠানো হয় তাকে।

গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের অভয়নগরে খুলনা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে উদ্ধার করা হয় ফরহাদ মজহারকে। স্বজনেরা অভিযোগ করেন, গতকাল ভোরে কে বা কারা ফরহাদ মজহারকে রাজধানীর শ্যামলীর হক গার্ডেনের বাসার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গেছে।

পুলিশ জানায়, আদাবর থানায় ফরহাদ মজহারের পরিবারের করা অপহরণের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের পর তার ভিত্তিতেই তদন্ত চলবে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।

উদ্ধার করার পর গতকাল দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে খুলনার ফুলতলা থানায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ফরহাদ মজহারের ব্যাগে মোবাইল ফোনের চার্জার, শার্টসহ বেড়াতে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া গেছে। ব্যাগ দেখে বোঝা যায় যে তিনি স্বেচ্ছায় ভ্রমণে এসেছেন। তিনি সুস্থ আছেন।

  •