পাকিস্তানের বোলিং তোপে শুরুতেই ৫ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা ভারত

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০১৭

পাকিস্তানের বোলিং তোপে শুরুতেই ৫ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা ভারত

লন্ডন : লন্ডনের কেনিংটন ওভালে পাকিস্তানের দেয়া ৩৩৮ রানের বোঝা টানতে গিয়ে শুরুতেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভারত। নিজের শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে চির প্রতিদন্ডিদের অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটসম্যানকে। আর প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়ে ভারতের ঘাড়ে যেন চেপে বসে পাকিস্তানি বোলারা!

ইনিংসের তৃতীয় বলে মোহাম্মদ আমিরের এলবিডব্লিউর শিকার রোহিত শর্মা। রানের খাতা না খুলে বিদায় নিলেন ভারতীয় ওপেনার। পাকিস্তানের ছুড়ে দেয়া ৩৩৯ রানের লক্ষ্যে এটা বড় হোঁচট ভারতের জন্য। বাঁহাতি এ পেসার তার দ্বিতীয় ওভারেই বিরাট কোহলিকে বানান শাদাব খানের ক্যাচ। আগের বলেই জীবন পাওয়া ভারতীয় অধিনায়ক ৫ রানে আউট হন। তৃতীয় ওভারে বল করতে এসে শেষ বলে শিখর ধাওয়ানকে বানান সরফরাজ আহমেদ ক্যাট। ২২ বল থেকে ২১ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় ধাওয়ানকে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৪ ওভারে ৫ উইকেটে হারিয়ে ৫৪ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। হার্দিক পান্ডিয়া ১ এবং কেদার যাদব ০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারত টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েও সুবিধা করতে পারেনি। পাকিস্তান তাদের ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখাল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। ৪ উইকেটে তাদের স্কোর ৩৩৮ রান। ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে এটাই পাকিস্তানের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এর আগে শুরুতে ব্যাট করে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩২৯ রান করেছিল তারা।

আগে ব্যাট করতে নেমে ফখর জামানের সঙ্গে আজহার আলী ও মোহাম্মদ হাফিজের প্রশংসনীয় ব্যাটিং পাকিস্তানকে স্বস্তি এনে দেয়। তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান ফখর। আর হাফসেঞ্চুরি করেন আজহার ও হাফিজ। একটুর জন্য পঞ্চাশ ছোঁয়া হয়নি বাবর আজমের।

আজহার ও ফখরের ব্যাটিং নৈপুণ্যের পর বাবর রানের গতি ধরে রেখেছিলেন। হাফসেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি ছিলেন তিনি। কিন্তু কেদার যাদব তার দ্বিতীয় ওভারে বাবরকে ৪৬ রানে সাজঘরে পাঠান। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তান হারায় চতুর্থ উইকেট। এর পর দেখেশুনে খেলেছেন ইমাদ ওয়াসিম ও হাফিজ। ৭.৩ ওভারে তারা ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। হাফিজ অপরাজিত ছিলেন ৫৭ রানে, ৩৭ বল খেলেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বড় অবদান ফখরের। ৩ রানে ক্রিজ ছেড়েও ফিরেছিলেন তিনি। তার ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে গিয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির গ্লাভসে। নিশ্চিত আউট জেনে প্রায় মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিলেন এ ওপেনার। কিন্তু আম্পায়াররা থামাল তাকে, রিভিউয়ে দেখা গেল বল করার সময় বোলিং লাইনের বাইরে পা রেখেছেন বুমরাহ। আম্পায়ার নো বলের সঙ্কেত দিলেন। জীবন পেলেন ফখর, আর ওই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেললেন। টানা তৃতীয় হাফসেঞ্চুরিকে প্রথমবার তিন অঙ্কের ঘরে নিয়ে গেলেন। এর পর হলেন আউট। ততক্ষণে শক্ত অবস্থানে পাকিস্তান।

ভারতের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে দলকে ২০০ রান এনে দিয়ে সাজঘরে ফিরলেন ফখর। এর পর বাবরের সঙ্গে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি শোয়েব মালিক, ১৬ বলে ১২ রান করেন তিনি।

মালিককে মাঠে জায়গা দেওয়ার আগে ৯২ বলে ১২ চার ও ২ ছয়ে প্রথম ওয়ানডে শতক পান ফখর। ১০৬ বলে ১১৪ রানে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে রবীন্দ্র জাদেজার ক্যাচ হন তিনি। ১২ চারের সঙ্গে ৩টি ছয়ে সাজানো তার ইনিংস।

এর আগে উদ্বোধনী জুটিতে ১২৮ রান করেন ফখর ও আজহার। তাদের ব্যাটিং নৈপুণ্যে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বেশ স্বস্তিতে ছিল পাকিস্তান। তবে নিজের ভুলের মাশুল দিয়ে আজহার ক্রিজ ছেড়ে চলে যান।

৬১ বলে হাফসেঞ্চুরি করা আজহার থেমেছেন ৫৯ রানে। ২৩তম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের শেষ বলে স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে একটি রান নিতে যান তিনি। কিন্তু স্কয়ার লেগে বুমরাহর হাতে বল দেখে অন্য দিক থেকে দৌড় দেননি ফখর। খুব সহজে মহেন্দ্র সিং ধোনি রানআউট করেন আজহারকে। ভাঙে শতাধিক রানের উদ্বোধনী জুটি।

ভারত একাদশ : বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, যুবরাজ সিং, এম এস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, জসপ্রিত বুমরাহ ও ভুবনেশ্বর কুমার।

পাকিস্তান একাদশ : সরফরাজ আহমেদ, আজহার আলি, ফখর জামান, মোহাম্মদ হাফিজ, বাবর আযম, শোয়েব মালিক, ইমাদ ওয়াসিম, শাদাব হাসান, হাসান আলি, মোহাম্মদ আমির ও জুনায়েদ খান।

  •