সিলেটে পাহাড়-টিলার পাশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৭

সিলেটে পাহাড়-টিলার পাশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

টানা বর্ষণে প্রাণহানির আশংকায় সিলেটের পাহাড় ও টিলার পাশে ‘ঝুকিপূর্ণ’ পরিবেশে বসবাসকারী জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
এর অংশ হিসাবে বুধবার মাইকিং করে বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘পাহাড়ের পাশে বসবাসরতের এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের সতর্কতার পরেও অনেকে থেকে যাচ্ছেন। এ কারণে এ বিষয়ে ‘ঝুঁকি’ থেকে যাচ্ছে। তবে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ঝুঁকি কাটিয়ে উঠা সম্ভব বলে জানান তিনি।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার সুজ্ঞান চাকমা জানান, সিলেটের সব থানার ওসিকে পাহাড় ও টিলা ধসের বিষয়ে বার্তা প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি মনিটরিং করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড় ও টিলা ধসে প্রাণহানীসহ ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশংকায় সিলেটের জাফলং পাথর কোয়ারী ও পর্যটন স্পটের অদুরে বল্লাঘাট এলাকায় টিলা ও পাহাড় ঘেষে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বস্তিতে বসবাসরত সহস্রাধিক মানুষের সাথে জরুরি বৈঠক করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার দুপুর ১২টায় উক্ত এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সালাহ উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল গনি ওসমানী ও গোয়াইনঘাট থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জনসাধারণকে ঝুকিপুর্ণ পাহাড়ের পাশের ঘর-বাড়ি সরিয়ে অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে একটি সভা করা হয়েছে।
জনসচেতনতামূলক এ সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ভারী বর্ষণে বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়-টিলা ধসের ঘটনা ঘটে ব্যাপক প্রাণহানী হয়েছে। এতে করে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি সাধনের ঘটনা ঘটছে। পাহাড় টিলা ধসে প্রাণহানী ও আহত হওয়ার ঘটনা রোধসহ জানমাল রক্ষায় সরকার আন্তরিকতার সহিত কাজ করছেন।
তিনি স্থানীয় মুকিত চেয়ারম্যানের টিলা, বাবুলের জুমসহ আশপাশের পাহাড়ের গায়ে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা সবকটি খুপড়ি ঘরগুলো অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে স্থানীয় ভুমি ও কলোনি মালিকদের নির্দেশ দেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুর্ব জাফলং ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির, জাফলং ষ্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট