ফ্রান্স থেকে দেশে আসার পথে মেধাবী শিক্ষার্থী মাছুম নিখোঁজ

প্রকাশিত: ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৯, ২০১৭

ফ্রান্স থেকে দেশে আসার পথে মেধাবী শিক্ষার্থী মাছুম নিখোঁজ

কানাইঘাটের এক মেধাবী শিক্ষার্থী ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে গিয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর পহেলা জুন দেশে ফেরার কথা থাকলেও এখনো বাড়িতে না পৌছায় দিশেহার পরিবারের সদস্যরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলার সাতবাঁক ইউপির জুলাই গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী আতিকুর রহমানে পুত্র মেধাবী শিক্ষার্থী এখলাছুর রহমান মাসুম (২৩) স্টুডেন্ট ভিসায় গত ১৫ অক্টোবর লিথুসেনিয়া গিয়ে ফ্রান্সে চলে যায়। সেখানে ৪ মাস থাকার পর মাসুম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় দেখা দিলে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি হাসপাতালে মাস খানেক চিকিৎসা গ্রহণ করে। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ফ্রান্সে বসবাসরত কানাইঘাটের প্রবাসী জুলাই গ্রামের ফারুক আহমদ, কয়সর, মাসুম সহ কয়েকজন যুবক অসুস্থ অবস্থায় এখলাছুর রহমান মাসুমের সবকিছু প্রসেসিং করে গত পহেলা জুন ফ্রান্সের সময় রাত ১০টার দিকে কাতার এয়ারলাইন্স ৩৩০নং ফ্লাইটে টিকেটের মাধ্যমে ফ্রান্স বিমানবন্দরে এনে দেশের উদ্দেশ্যে মাসুমকে পাঠান। পরদিন ২ জুন মাসুমের পিতা আতিকুর রহমান পুত্রকে নিয়ে আসার জন্য ঢাকা আর্ন্তজাতিক শাহজালাল বিমান বন্দরে যান। নির্ধারিত সময়ে কাতার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে বিকেল ৫টার সময় অবতরন করলেও মাসুমকে খোঁজে পাননি তার পিতা আতিকুর রহমান।

তিনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা তার পুত্রের কোন সন্ধান দিতে পারেননি। মাসুমের আত্মীয় স্বজনরা তার নিখোঁজের বিষয়টি ফ্রান্সে বসবাসরত সহযোগীতাকারী প্রবাসীদের জানালে তারা তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোন সন্ধান দিতে পারেন নি।

ফ্রান্স প্রবাসী কয়সর আহমদ জানিয়েছেন তারা কয়েকজন মাসুমকে জুন মাসের প্রথম তারিখ ফ্রান্স আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে দেশের উদ্দেশ্যে পাঠান। তবে দেশে না যাওয়ায় আমরা সংশ্লিষ্ট ট্রাভেলস্ এ যোগাযোগ করলে ট্র্যাভেলস্ কর্তৃপক্ষ বলেন, ১লা জুন ফ্রান্সের কাতার এয়ারলাইন্সের ৩৩০নং ফ্লাইটে এখলাছুর রহমান মাসুম নামে কোন যাত্রী উঠে নি।
এদিকে পুত্রের কোন সন্ধান না পেয়ে মাসুমের পিতা আতিকুর রহমান, মাতা হোসনেআরা বেগম ও ভাই, বোন আত্মীয় স্বজনরা বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। তারা মাসুমের সঠিক সন্ধান এবং সে বর্তমানে ফ্রান্স বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে কিনা এব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার এবং ফ্রান্স-বাংলাদেশ দূতাবাস ও ফ্রান্স সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নিখোঁজ এখলাছুর রহমান মাসুম ২০১০ সালে কানাইঘাট চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি, সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সেখানে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় ফ্রান্সে চলে যায়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট