দেশে যে আইনের শাসন নেই, এটি তারই প্রমাণ : মওদুদ

প্রকাশিত: ২:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০১৭

দেশে যে আইনের শাসন নেই, এটি তারই প্রমাণ : মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের গুলশানের বাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাড়ির মালামাল রাজউকের একটি ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে মালামাল কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে এ বিষয়ে এখনো জানা যায়নি।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে বাড়িটিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ। বাড়িটির গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন, গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক।

গুলশান-২-এর ১৫৯ নম্বরের একতলা বাড়িটিতে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছেন মওদুদ আহমদের। দুপুরে বাড়িটির সামনে গিয়ে দেখা গেল, বাড়িটি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। রাখা হয়েছে জলকামান, প্রিজনভ্যান, সাঁজোয়া যান ও বুলডোজার। এ ছাড়া মালামাল সরানোর জন্য আছে দুটি বড় ট্রাক। সেখানে উপস্থিত আছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বেলা পৌনে তিনটার দিকে বাসার ভেতর থেকে মালামাল নিয়ে শ্রমিকেরা রাজউকের ট্রাকে তুলছিলেন। তবে পরিবারের কোনো সদস্যের দেখা মেলেনি। এ সময় বিএনপির গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবীর বলেন, ‘মালামাল এখান থেকে কোথায় নেয়া হবে, জানি না।’

বেলা তিনটার একটু পরে আইনজীবীর পোশাকে গাড়িতে করে বাড়ির সামনে পৌঁছান মওদুদ আহমদ। বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্ছেদ কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশে যে আইনের শাসন নেই, এটি তারই প্রমাণ।’

পরে গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেখেন, কীভাবে আমার মালামাল তুলে নিচ্ছে! এটা প্রতিহিংসার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। আদালত তো বলেননি এই বাড়ি থেকে উচ্ছেদের কথা। রাজউকও উচ্ছেদের নোটিশ দেয়নি। বিরোধী দলের রাজনীতি করি বলেই বাসা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সরকারি দলের নেতা হলে তো এমন হতো না।’

এখন কী করবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখন তো রাস্তায় শুয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। মালামাল কোথায় নেয়া হবে তাও তো জানি না।’

এই বাড়ির মালামাল সরিয়ে কোথায় নেয়া হবে, তা জানাননি রাজউকের কর্মকর্তারা। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মালামালগুলো মহাখালীতে রাজউকের কার্যালয়ে নেয়া হতে পারে।

মওদুদ আহমদ গুলশানের যে বাড়িতে বাস করে আসছেন, সেই বাড়ির বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদন (রিভিউ) গত রোববার পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, বাড়ি অবশ্যই ছাড়তে হবে। বাড়িটা দখন নিয়ে নেয়া সরকারের দায়িত্ব। এরপর বুধবার বাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নিতে ঘটনাস্থলে যান রাজউকের কর্মকর্তারা।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট