জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০১৭

জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী আজ

মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন জিয়া : বিএনপি

মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব : আজ ৩০ মে আমাদের জাতীয় জীবনে খুবই শোকাবহ দিন। ১৯৮১ সালের এই কালো রাতে চট্টগ্রামের অভিশপ্ত পুরনো সার্কিট হাউসে ঘুমন্ত অবস্থায় দেশি-বিদেশি ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক কিছু বিপদগামী সেনা সদস্যের হাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর কালজয়ী দর্শন ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি এবং ইতিহাসের রাখাল রাজাখ্যাত দেশের নির্বাচিত সফল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকীর শোকাবহ দিনটি স্মরণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলÑবিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করছে। আজ প্রাণপ্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর অশ্রুসিক্ত নয়নে স্মরণ করবে দেশের কোটি কোটি মানুষ। এ উপলক্ষে শেরে বাংলানগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত, কোরআনখানি, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, কালো পতাকা ও দরিদ্রদের মাঝে ইফতার বিতরণসহ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো। : এদিকে গতকাল বিএনপির আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদ জিয়া মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। সরকার যতই ইতিহাস বিকৃত করুক না কেন মানুষের মন থেকে শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না। : বাংলাদেশ ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক সংগে গাথা। ‘আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন: মহা বিপ্লব হেতু’… আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্রন্তিকালে বিদ্রোহী কবির ধূমকেতুর মতোই ত্রাতার ভূমিকায় জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটেছিল। তিনি একজন সৈনিক থেকে ক্রান্তিকালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ, যুদ্ধ শেষে সেনাবাহিনীতে ফিরে যাওয়া, ক্রান্তিকালে দেশের দায়ীত্ব গ্রহণ, প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং সর্বোপরি একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এদেশের সমৃদ্ধির প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। জিয়াউর রহমানের সততা ও দেশপ্রেম ছিল সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে ও ঈর্ষণীয়। তার দেশপ্রেমের প্রকৃষ্ট উদাহরণই হলো ‘বাংলাদেশ’। তার সততা নিয়ে তার চরম শত্র“ও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি।  একজন সাধারণ মেজর হয়েও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের সময়ে প্রাণ বাঁচাতে অনেকে যখন পালিয়ে গিয়েছিল এর বিপরীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে আজো দেশবাসীর হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। : মহান এই দেশদরদী নেতা ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার নিভৃত পল্লী বাগবাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব ও কৈশোরে তিনি কমল নামে পরিচিত ছিলেন। তার পিতা মনসুর রহমান সরকারি চাকরির জন্য প্রথমে কলকাতায় ও ’৪৭ সালে দেশ ভাগের পর চলে যান করাচি শহরে অবস্থান করায় সেখানেই তার লেখাপড়া। শিক্ষাজীবন শেষ করে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমী কাকুলে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তিনি কমিশন লাভ করেন। পাক-ভারত যুদ্ধে একটি কোম্পানির অধিনায়ক হিসাবে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। বিশেষ কৃতিত্বের জন্য তিনি এই যুদ্ধে কোম্পানির সর্বোচ্চ খেতাব ও ১টি বিশেষ উপহার লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে হানাদার পাকবাহিনী মারণাস্ত্র নিয়ে মুজিব-ভুট্টো আলোচনারত অবস্থায় হঠাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে নিহত হয় হাজার হাজার মানুষ। শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতারের পর পাকিস্তান পাঠানো হয়। হানাদারদের অতর্কিত আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ। চট্টগ্রামে অবস্থানরত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান এ রাতেই ষোলশহরে সেনাবাহিনীর ৮ম ব্যাটালিয়নের সব বাংলাভাষী অফিসার ও জওয়ানকে ডেকে একত্র করে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতার ডাক দেন। মেজর জিয়ার এই আহবানে গোটা অষ্টম ব্যাটালিয়নে ব্যাপক সাড়া দিয়ে সৈনিক ও অফিসাররা উল্লসিত হয়ে ওঠে। মেজর জিয়াউর রহমান পাকবাহিনীর আক্রমণে নিরস্ত্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানিয়ে ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মেজর জিয়া চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মেজর জিয়ার কণ্ঠস্বর শুনে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে দিশেহারা গোটা জাতি। ‘আমি মেজর জিয়া বলছি… বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি’Ñতার এই অবিস্মরণীয় অবিনাশী ঘোষণায় পথহারা মুক্তিকামী জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে মরণপণ মুক্তিযুদ্ধে। : জিয়াউর রহমান শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি। তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মেজর জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে এ দায়িত্ব অর্পণ করার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বৃহত্তর এলাকায় তিনি বীরত্বের সঙ্গে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় তিনি চৌকস জেড ফোর্স গঠন ও পরিচালনা করেন। বীরত্বের সঙ্গে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর আবার ফিরে যান ক্যান্টনমেন্টে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী  খোন্দকার মুশতাক ক্ষমতা দখল করে প্রেসিডেন্ট হলে সেনাবাহিনীসহ গোটা জাতির ভাগ্যোন্নয়নে তখন বিরাজ করছিল চরম অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে  খোন্দকার মুশতাককে পাল্টা আরেক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করে আধিপত্যবাদের ক্রীড়নকরা ক্ষমতা দখল করে। সে সময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় নেতৃত্বশূন্য জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্যে জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয় সৈনিক-জনতা। দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই তলাবিহীন ঝুড়ির বদনামমুক্ত করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেন। তিনি একদলীয় শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দেশে বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কালজয়ী দর্শনের প্রবক্তা জিয়া জাতির নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরেন। তার অন্যতম উপহার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। তার সুশাসনে উদীয়মান এক অমিত সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় আসন লাভ করে। জিয়াউর রহমান ছিলেন সমৃদ্ধ এবং উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও পথ-প্রদর্শক। তিনি বাংলাদেশকে অধিকতর সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে দেশের সম্ভাবনার প্রতিটি দিককে উন্মোচনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত সততা, পরিশ্রমপ্রিয়তা, কর্তব্যনিষ্ঠা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা, নির্লোভ, নির্মোহ ও গভীর দেশপ্রেমসহ বহু সৎ গুণাবলী দিয়ে তিনি জাতির সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেন। স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন, রাস্তাঘাট নির্মাণ ইত্যাদি দেশগড়া কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই জনগণের নয়নের মণি হয়ে ওঠেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাঁর বলিষ্ঠ, গতিশীল ও পরিকল্পিত নেতৃত্বে দেশ সত্যিকার উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিছুদিনের মধ্যেই দেশবাসীর প্রাণপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নেন। মুসলিম বিশ্বে, জোটনিরপেক্ষ বলয়ে ও পাশ্চাত্যে তেজোদীপ্ত ও প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ভূমিকা পালনে, সার্কের সফল স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে শহীদ জিয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিম লে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের অগ্রভাগে এনে দিয়েছিলেন। জিয়ার ঈর্ষণীয় এই জনপ্রিয়তা ও দেশপ্রেমই তার জন্য কাল হয়েছিল। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা চট্টগ্রামে তাকে হত্যা করলেও তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদতে গোটা পৃথিবী শোকাভিভূত হয়ে পড়েছিল। এ শোকের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল শেরেবাংলানগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায়। লাখো লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সেদিন জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাণী : মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনকারী, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কালজয়ী দর্শনের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, সফল রাষ্ট্রনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলÑবিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ জিয়ার অম্লান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ। তাঁর জীবিতকালে জাতির চরম দুঃসময়গুলোতে জিয়াউর রহমান দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। ২৬ মার্চ মেজর জিয়ার কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে স্বাধীনতার ঘোষণা সারা জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের অভয়মন্ত্রে উজ্জীবিত করে, ফলশ্রুতিতে দেশের তরুণ, যুবকসহ নানা স্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্বাধীনতা-উত্তর শাসকগোষ্ঠীর দমনমূলক শাসন-শোষণের জাঁতাকলে মানুষের প্রাণ হয় ওষ্ঠাগত, দেশের মানুষের একের পর এক গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়, দেশ একদলীয় একনায়কতান্ত্রিক শাসনের নিষ্ঠুর কবলে পড়ে পিষ্ট হতে থাকে। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা করেন। উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধিশালী করেন। : এই মহান জাতীয়তাবাদী নেতার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি কখনোই মেনে নিতে পারেনি। এই চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে একজন মহান দেশপ্রেমিককে দেশবাসী হারায়। তবে চক্রান্তকারীরা যতই চেষ্টা করুক কোন ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি বিস্মৃত হন না বরং নিজ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে অবস্থান করেন। নিখাদ দেশপ্রেমিক এই মানুষটিকে কেউ কখনো তার বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি। : বর্তমান অনৈতিক সরকার একদলীয় সরকারের আদলে দেশ পরিচালনা করছে। কেন্দ্রীভূত স্বৈরতন্ত্রের প্রতিভূ বর্তমান সরকার। এরা নতুন কায়দায় পুরনো বাকশালকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। বিরোধী দলের অধিকার, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভূলুন্ঠিত করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আবারও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। জাতীয় জীবনের চলমান সংকটে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে। : রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্ভীক নির্মোহ রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী শক্তির ক্রমাগত বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণের পটভূমিতে তার আদর্শ, দেশপ্রেম, সততা ও কর্মনিষ্ঠাকে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবার ৩০ মে মহান নেতার শাহাদতবার্ষিকী সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহসহ সকল স্তরের জনগণের প্রতি আমি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। : কর্মসূচি : মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট  শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উদ্যোগে ২৯ মে সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর রমনাস্থ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সাবেক  প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ মে ২০১৭ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরস্থ শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এছাড়াও যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলাদলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনও প্রয়াত নেতার শাহাদতবার্ষিকীতে পৃথক কর্মসূচি পালন করবে। শাহাদতবার্ষিকীর অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে থাকছে রক্তদান কর্মসূচি, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা। সারাদেশের মহনগর, জেলা ও উপজেলা এলাকাগুলোতেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে। : দিনকালে মিলাদ : প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাদ আসর দৈনিক দিনকালে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত মিলাদ মাহফিলে দৈনিক দিনকালের সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। : জিয়াউর রহমান মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন : বিএনপি : গতকাল সোমবার দুপুরে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ইতিমধ্যে পক্ষকালের কর্মসূচি পালন করছে। আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার জীবনাদর্শ ব্যাখ্যা করে বলেন, দেশে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, জিয়াউর রহমানের অবদান নেই। তাকে সবসময় আমাদের শুধু স্মরণ নয়, অনুকরণ করতে হবে। তার কাজগুলো যদি আমরা এগিয়ে নিয়ে আসি, সেভাবে চলতে চাই, চলতে পারি, তবেই আমরা সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবো। আজকে আমরা যে ‘ভিশন ২০৩০’ দিয়েছি, এটার মূল প্রেরণা এসেছে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি থেকে। সেটা থেকে আজকের দিনে বাস্তবতার আলোকে এই ভিশন প্রণয়ন করা হয়েছে। : আগামী দিনে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে বাধ্য করতে সকলকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান বিএনপি মহাসচিব। সব দলের অংশগ্রহণের নির্বাচন অনুষ্ঠানে অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল নেতাকর্মীর মামলা প্রত্যাহার ও নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও তুলে ধরেন তিনি। : আপনারা সবাই মহাআনন্দে নির্বাচন করবেন আর আমরা কারাগারের ভেতর থেকে অথবা আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে শুধু দেখবো, সেটা হবে না। এরকম নির্বাচন এদেশে আর হবে না। আমরা নির্বাচন চাই। সেটা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে বাকশাল করে গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছিল, আজকে তারা গায়ের জোরে বিনা ভোটে সরকার গঠন করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। সেজন্য তারা ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী আচরণ করছে। দেশের জনগণ আর এই সরকারকে দেখতে চায় না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আমাদেরকে আন্দোলনের প্রস্তুত নিতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান মাত্র ১০ বছরে বাংলাদেশের মানুষের মণিকোঠায় স্থান করে নেন তার অনন্য গুণাবলী দ্বারা। তিনি দিশেহারা মানুষের মাঝে অকুতোভয় চিত্তে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এমনকি নিজেও যুদ্ধ করেন, সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। আমাদের জাতিসত্তার পরিচয়টা দিয়ে গেছেন। সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম অন্তর্ভুক্ত করেন। এটা মুছে ফেলা যাবে না। শহীদ জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। আজকে গায়ের জোরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। কারণ তাদের জনভিত্তি নেই। : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য  ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, তিনটি বিশেষ গুণে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রনায়ক। তিনি একটি দর্শন দিয়েছেন, স্বপ্ন দিয়েছেন এবং দর্শন বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জমির আইলে আইলে হেঁটে হেঁটে মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, একাত্তর সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সক্রিয় করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের ইমেজ ছিল ক্লিন। যতই ষড়যন্ত্র আর ইতিহাস বিকৃতি করেন না কেন তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি অমর হয়ে থাকবেন। মওদুদ আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে ঠিকই কিন্তু তারা নিজেরাই তা মানে না। এখন ভোট পাওয়ার জন্য হেফাজতের সঙ্গে সম্পর্ক করছে। এসব করে লাভ নেই। অতীতে খেলাফতে মজলিসের সাথে ৫ দফা চুক্তি করেছিল ভোটের জন্য। আজকের পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হয় আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী দল। বহু বছর হয়েছে দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন দেখতে চায়। : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, জিয়াউর রহমান মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। যখন গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরা হয়েছিল। আজো গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরা হয়েছে। তারা বলতে পারে না, লিখতে পারে না। আমি মনে করি এই সরকারই শেষ সরকার নয়। আসুন আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হই। : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশকে সমৃদ্ধকরণের জন্য যা দরকার তার সবই করেছিলেন শহীদ জিয়া। স্বাধীনতার পর একটি ভঙ্গুর দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির খেতাব ঘুচিয়েছিলেন। শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীর কর্মসংস্থান করেছিলেন। বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরি করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে সাড়ে ৮ হাজার লোক মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে শ্রমবাজার প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষকের কাছে গিয়ে মাঠে কাজ করেছেন, খোঁজ নিয়েছেন। এটা দূরদর্শী মনোভাব না হলে হয় না। আজকে ক্ষমতাসীন সরকার আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আসুন আরেকটিবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন করি। : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জিয়া কখনোই মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে রাজনীতি করেননি। এখান থেকে বহু দূরে ছিলেন তিনি। অথচ বর্তমান সরকার তা করছে। এখানেই জিয়া সারাবিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। : তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর জাতি যখন পরিচয় সংকটে ভুগছিলেন তখনই শহীদ জিয়া জাতির পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে আমাদের পরিচয়টা দিয়েছিলেন। আজকে রেইনবো জাতির ভিত্তি হলো সেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। এর মাধ্যমে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, উত্তরের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান। : সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল আলম বাচ্চু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শেখ রবিউল আলম রবি, আমিনুল ইসলাম, দেবাশীষ রায় মধু, ওলামা দলের সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক শাহ নেছারুল হক, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, ছাত্রদলের সহসভাপতি আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মেহবুব মাছুম শান্ত, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী। : রাজধানীর ৪০ স্পটে বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করবেন বেগম খালেদা জিয়া : মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে দুঃস্থ অসহায়দের মাঝে বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ মঙ্গলবার ধানমন্ডি সুগন্ধা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে ২৪টি স্পটে এ দুঃস্থ অসহায়দের মাঝে বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জিয়াউর রহমানের মাজারে দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাবেন তিনি। এ ছাড়া বুধবার ৩১ মে গুলশানের ডিসিসি মার্কেট থেকে দ্বিতীয় দিনে ১৬টি স্পটে বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে জানা গেছে।
  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট