এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চান বেগম জিয়া

প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০১৭

এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চান বেগম জিয়া

জাতির মধ্যে বিভক্তি, রেষারেষি ও প্রতিহিংসা এখন প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না হলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি যে কোনোভাবেই সম্ভব নয় সে কথা সর্বজন স্বীকৃত। কিন্তু ক্ষমতার মোহে দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার নামে এখন জাতির মানুষের মধ্যে প্রতিহিংসার আগুন জ্বলছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষের শক্তি, যুদ্ধাপরাধ, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান ইত্যাদি ইস্যুতে জাতি আজ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর রেষারেষির কারণে জাতির বিভক্তি সুস্পষ্ট। বাঙালিরা জাতি হিসেবে এক হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর রেষারেষির কারণে জাতি আজ বিভক্তির মধ্যে আছে। যার কারণে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থা দেশের জন্য কোনোভাবেই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না।

বিষয়টি জাতির প্রধান সমস্যা হিসেবে দেশের বুদ্ধিজীবী মহল, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের ভাবিয়ে তুলেছে। সাম্প্রতিককালে বিষয়টি রাজনীতিবিদদেরও নাড়া দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে এক্ষেত্রে পরিকল্পনা মাফিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দ্বন্দ্ব-বিভক্তি নিরসনের যে কোনো বিকল্প নেই সেকথা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।

সম্প্রতি দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে একটি উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

এতে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি-শিল্প ও শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ সব সেক্টরে আমূল পরিবর্তনের কথা বলেছেন। খালেদা জিয়ার পরিকল্পনা থেকে বাদ যায়নি জাতির বিভক্তি ও প্রতিহিংসা নিরসনে জাতি গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি। তিনি এটিকে অন্যতম সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছেন।

গত ১০ মে সাংবাদিক সম্মেলনে ‘ভিশন ২০৩০’ নামে মহাপরিকল্পনায় তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

জাতি গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন,বিএনপি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটাতে চায়।

তিনি বলেন, জাতির সকল অংশ তথা ধর্মীয়, আঞ্চলিক ও নৃ-গোষ্ঠীগত পরিচয় এবং নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণী ও গোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে একটি সুসংহত জাতি গঠন করাই বিএনপি’র লক্ষ্য।

বেগম খালেদা জিয়া বলেন, সকল জনগণের বৃহত্তর সম্মিলনের মাধ্যমে ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ গড়ে তোলার মহৎ লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়াই বিএনপি’র নীতি। এ জন্য প্রয়োজন হবে সকল প্রকার বৈষম্য ও ভেদবুদ্ধির (discrimination) বেড়াজালকে অতিক্রম করে দেশ গঠনে সবার কর্মপ্রয়াসকে কাজে লাগানো।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া বলেন, বিএনপি চায় বিভক্ত হয়ে পড়া এ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। তাই সকল মতাদর্শের ঐকতান রচনার জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার সেতুবন্ধ রচনাই হবে বিএনপি’র প্রয়াস।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া এও বলেন, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি। এজন্য নতুন এক সামাজিক চুক্তিতে (Social Contract)পৌঁছাতে বিএনপি সচেষ্ট হবে।

  •