গুম খুনের সঙ্গে জড়িতরা পার পাবেন না : মাহমুদুর রহমান

প্রকাশিত: ৫:২৫ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৭

গুম খুনের সঙ্গে জড়িতরা পার পাবেন না : মাহমুদুর রহমান

দৈনিক আমার পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন,দেশের স্বাধীনতা আজ বিপন্ন। মানুষ স্বাধীনতার সুফল আজ ভোগ করতে পারছে না। অন্যের ইশারায় আজ  দেশ পরিচালিত হচ্ছে।

গুম,খুনকে মানবতা বিরোধী অপরাধ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, যারা নির্বিচারে গুম, খুন করছেন তারা ভুলেও মনে করবেন না পার পেয়ে যাবেন। যারা এ অপকর্মটি করছেন এবং যারা নির্দেশ দিচ্ছেন উভয়কে একদিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

শুক্রবার ইঞ্জিনিয়ারর্স ইনস্টিটিউশনে ‘গুম একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ’ শীর্ষক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলেন, জনগণ সোচ্চার হলে বন্দুকের নলও ঘুরে যাবে। দুই স্বৈরাচার মিলে অবৈধভাবে দেশ চালাচ্ছেন । ফলে দেশ থেকে গুম-খুন বন্ধ করতে হলে দেশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র দুটোই ফিরিয়ে আনতে হবে।

মাহমুদুর রহমানের সভাপত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন বিশিষ্ট সমাজ চিন্তক কবি ফরহাদ মজহার।

ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ডা.এজেডএম জাহিদ হোসেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড.আকতার হোসেন, প্রফেসর ওবায়েদ ইসলাম,সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ, এম আব্দুল্লাহ,সৈয়দ আবদাল আহমদ,জাহাঙ্গীর আলম প্রধান,কাদের গনি চৌধুরী, বদিউল আলম, শহিদুল ইসলাম,কাজিম রেজা ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া প্রমূখ।

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে রাখতে আজ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। এ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সর্বনিকৃষ্ট সন্ত্রাসী কর্মটি হচ্ছে গুম।

তিনি বলেন, এ সন্ত্রাসী কর্মটি দুটি পক্ষ মিলে করছে। একটি পক্ষ রাষ্ট্রের ভেতরের আরেকটি পক্ষ দেশের বাইরের অর্থাৎ আমাদের প্রতিবেশি দেশ। সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ও মানবাধিকার কর্মী সুখরঞ্জনের গুমের ঘটনা থেকে এটি স্পষ্ট।

মূল প্রবন্ধে ফরহাদ মজহার বলেন, মানবাধিকার সংগঠন গুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৫ বছরে গুম হয়েছেন ২৭৪ জন।একটা সভ্য দেশে এটা কল্পনাও করা যায়না। তিনি বলেন,আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মানদন্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দিক থেকে বিশ্বজুড়ে যে কুখ্যাতি অর্জন করেছে তা তুলনাহীন। পাকিস্তানের পরে বাংলাদেশ, ভারত ও কাশ্মীর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য আজ বিশ্বব্যাপী নিন্দিত।

ফরহাদ মজহার বলেন, গুম ও গুমের পরে হত্যার ঘটনা বেড়েছে ২০০৯ সালের পর। এর আগে মানবাধিকার লংঘনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ক্রসফায়ার বা ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা। সেটা এখনও জারি আছে,উল্টো শুরু হয়েছে গুম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, জহির রায়হান গুমের মধ্য দিয়ে এদেশে গুমের রাজনীতি শুরু হয়।বর্তমান সরকার এটা তাদের কর্মসূচিতে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। প্রধান বিচারপতিও সেটা স্বীকার করেছেন।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট