সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ নির্মূলে খালেদা জিয়ার নতুন ভাবনা

প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৭

সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ নির্মূলে খালেদা জিয়ার নতুন ভাবনা

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বর্তমান বিশ্বের একটি আলোচিত সমস্যা।একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে অদ্যাবধি পৃথিবী ক্রমান্বয়ে অশান্ত হয়ে উঠছে।সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের কতিপয় দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ একটি বার্নিং ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চরমপন্থা শুরু হয় সাধারণত সমাজ জীবনে বিরাজমান হতাশা থেকে। যখন মানুষ নানা কারণে নিজেদের বঞ্চনা, বৈষম্য, নির্যাতনের শিকার মনে করে; সে বিষয়গুলো প্রকাশের বা প্রকাশ করলেও নিরসনের ব্যবস্থা দেখে না; স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন হওয়ার বিষয়ে আস্থা হারায়; তখন উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেয়। সরকার বা কর্তৃপক্ষের ওপর আঘাত হানতে ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিবর্তনের জন্য আগ্রহ সৃষ্টি হয়; সন্ত্রাসবাদই তাদের কাছে একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ না হলে রাষ্ট্রের উন্নতি, অগ্রগতি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

ভবিষ্যতে দেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে এক্ষেত্রে পরিকল্পনা মাফিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

সম্প্রতি দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে একটি উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

এতে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষি-শিল্প ও শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ সব সেক্টরে আমূল পরিবর্তনের কথা বলেছেন। খালেদা জিয়ার পরিকল্পনা থেকে বাদ যায়নি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ নির্মূলের বিষয়টি। তিনি এটিকে অন্যতম সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছেন।

গত ১০ মে সাংবাদিক সম্মেলনে ‘ভিশন ২০৩০’ নামে মহাপরিকল্পনায় তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ নির্মূলের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন,বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ জাতির জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি, আইনের শাসনের অভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এদেশে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ বিস্তারে অন্যতম কারণ। এই সমস্যার সমাধান না করতে পারলে জাতীয় উন্নয়নে সকল প্রয়াসই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। জাতি এক ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়বে। এই জন্য বিএনপি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

খালেদা জিয়া বলেন, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ সকল রাষ্ট্রের জন্যই হুমকির কারণ। এ কারণে বিএনপি বাংলাদেশের ভূখন্ডের মধ্যে কোনোরকম সন্ত্রাসবাদী তৎপরতাকে বরদাশত করবে না এবং সন্ত্রাসবাদীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। জঙ্গীবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং জনগণের অংশগ্রহণে সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করা হবে।

তিনি আরো বলেন, জঙ্গীবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকৌশল হিসাবে দারিদ্র্য দূরীকরণ, বেকার সমস্যার সমাধান, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তি ও সম্প্রীতির মূল্যবোধ শক্তিশালী করা এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে উৎসাহিত করা হবে।

  •