বিয়ানীবাজারে নববধূর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৭

বিয়ানীবাজারে নববধূর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

সিলেটের বিয়ানীবাজারে নববধূ হতেরুন-এর রহস্যজনক মৃত্যুর তিনবছর পর আদালতে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার মইয়াখালী গ্রামের মরহুম আসাই মিয়ার পুত্র সাকিবুল হাসান গত ৪ এপ্রিল সিলেটের আমল গ্রহণকারী ৪নং আদালতে এ মামলা করেন।
মামলার আসামীরা হচ্ছেন মৃত হতেরুন-এর স্বামী উপজেলার মইয়াখালী গ্রামের নিজাম উদ্দিন, নিজাম উদ্দিনের ছোট ভাই এমদাদুল হক,নিজাম উদ্দিনের পুত্র আলাউদ্দিন ও হোসেন আহমদ।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে সিলেটস্থ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই।
জানা গেছে, বিয়ানীবাজারের মইয়াখালী গ্রামের মৃত আরফান আলীর পুত্র নিজাম উদ্দিন এলাকার ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। বহু বিবাহে আসক্ত নিজাম উদ্দিনের দুই স্ত্রী ও ১০ সন্তান থাকা সত্বেও ২০১৪ সালের জুলাই মাসে হতেরুন নামের এক মহিলাকে তৃতীয় স্ত্রী বানিয়ে ঘরে তুলেন। পিতৃ-মাতৃহীন হতেরুন (৩৫) ছিলেন উপজেলার মুড়িয়া এলাকার মরহুম রস্তুম আলীর মেয়ে। বিয়ের তিনদিন পরই স্বামীগৃহে রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে হতেরুর বেগমের।
অভিযোগ পাওয়া গেছে ‘বিয়েপাগল’ নিজাম উদ্দিনের তৃতীয় বিয়েতে ক্ষুব্দ হয়ে পড়ে পূর্বতন দুই স্ত্রী ও তাদের সন্তানসহ বাড়ির লোকজন। হতেরুন ও তার ভবিষ্যত সন্তানরা নিজাম উদ্দিনের বিশাল সম্পত্তিতে ভাগ বসিয়ে দেবে। এই ভয়ে পূর্ব স্ত্রীদ্বয়ের সন্তান ও তাদের সহযোগীরা ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে পানীয় জলের সাথে বিষ মিষিয়ে খাইয়ে তাকে হত্যা করে। ওই রাতে নিজাম উদ্দিনের ভাই এমদাদুল হকের ঘরে দাওয়াত ছিল নববধূ হতেরুন ও তার স্বামীর। রাতের খাবার খেয়ে নিজাম উদ্দিন মসজিদে চলে যান এবং হতেরুন থেকে যান দেবরের ঘরে জালের সাথে গল্প করতে। এসময় স্বামী নিজাম উদ্দিনের পূর্বের স্ত্রীদ্বয়ের সন্তান ও পুত্রবধূরা চাচী পারভীনকে হাত করে ঠান্ডা পানীয় জলের সাথে বিষ মিশিয়ে পান করায় হতেরুনকে। আর একারনেই রাতভর বমি ও খিচুনীর করে ভোরে মারা যান নববধূ হতেরুন। চিকিৎসার্থে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়নি তাকে। সাত সকালে গ্রামের নিয়ম মোতাবেক মসজিদের মাইকে ঘোষনা না দিয়েই তড়িঘড়ি করে গ্রামীণ কবরস্থানে তাকে দাফন করে ফেলেন নিজাম উদ্দিন ও তার স্বজনরা। হতেরুনের পিতৃপরিবারে অনেকে খবর পেয়ে গিয়ে তাকে দেখতেও পারেননি। নববধূ হতেরুন ডায়রিয়ায় মারা গেছে বলে চালিয়ে দেয় নিজামের স্বজনরা। কিন্তু ওইদিন কিংবা রাতে বাড়ির অন্য কেউই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হননি। একমাত্র নববধূ হতেরুনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এমন কথা বিশ্বাস করতে পারেননি গ্রামবাসীসহ স্থানীয় লোকজন। কিন্তু হতেরুনের আপনজন বলতে কেউ ছিলেন না বিধায় তাৎক্ষণিক কেউ আইনের আশ্রয় নিতে পারেনি।
পরবর্তীতে হতেরুনের পিত্রালয় এলাকার জনৈক আব্দুল হাসিব ১৬.১০.২০১৪ইং তারিখে ঘটনার ব্যাপারে মানবাধিকার সংগঠন আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের সহায়তা চান। আসক প্রথমে ঘটনার সরেজমিন তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন তৈরী করলেও পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারনে তা চাপা পড়ে যায়। অবশেষে গ্রামের জনৈক সাকিবুল হাসান ঘটনার বিচার চেয়ে গত ৪ এপ্রিল সিলেটের আমলগ্রহণকারী ৪নং আদালতে একটি নালিশা মামলা (নং-৮৭/১৬) করেন । আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পিবিআই সিলেটকে নির্দেশ দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর দিলীপ কান্ত নাথ সম্প্রতি ঘটনাস্থল মইয়াখালী পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর সাক্ষ্য নেন।
মইয়াখালী গ্রামসহ এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম, বাহার উদ্দিন, আব্দুর রহমান, মখদ্দছ আলী, ফয়সল আহমদ, অহিদুর রহমান, আব্দুল হাসিব, শফিক উদ্দিন, হতেরুনের ভগ্নিপুত্র সাইদুলসহ অনেকের দাবি নববধূ হতেরুনকে পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার আসামী নিজাম উদ্দিন, নিজাম উদ্দিনের তৃতীয় পুত্র সালাহ উদ্দিন এবং নিজামের ভাই এমদাদুল হক জানান, মইয়াখালী বাজারস্থ একটি দোকান নিয়ে একই গ্রামের বাহার উদ্দিনসহ অনেকের সাথে তাদের বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের জের ধরে স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে ৩ বছর পর হত্যাকান্ড বলে মামলা দিয়ে তাদেরকে অযথা হয়রানী করা হচ্ছে।
উপজেলার দুভাগ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম দাদা ভাই জানান, নিজাম উদ্দিনের তৃতীয় স্ত্রী হতেরুনের মৃত্যু নিযে এলাাকায় ধুম্রজাল রয়েছে। কেউ বলে বিষ খাইয়ে মারা হয়েছে আবার কেউ বলে ডায়রিয়ায় মারা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই সিলেট-এর ইন্সপেক্টর দিলীপ কান্ত নাথ জানান, তিনি সরেজমিন ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছেন, মৃতুর বোন স্বজনসহ এলাকার লোকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। ঘটনাটি হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু তদন্তের স্বার্থে এই মূহুর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না। অচিরেই তিনি আবারো সরেজমিন তদন্তে ঘটনাস্থল যাবেন বলে জানিয়েছেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট