বিএনপির গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ খালেদা, ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, মে ২২, ২০১৭

বিএনপির গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ খালেদা, ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

চার দশকেও শক্তিশালী গোয়েন্দা বিভাগ গড়তে পারেনি দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বারবার সরকারি কৌশলের কাছে ধরা খাচ্ছে দলটি। ফলে দলটির গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যাচ্ছে, গত ১০ বছরে সরকারি কৌশলের হিমশিম খাচ্ছে দলটি। সেই সঙ্গে নিজ দলের গোপন তথ্য সহজে পাচার হয়ে যাচ্ছে সরকারের কাছে। এটা কারা কিভাবে করছে সে বিষয়টিও আজো চিহ্নিত করতে পারেনি দলটি। এ নিয়ে বিএনপির ভেতরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাই দলের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘটনা ঘটানোর মতো নথিপত্র রয়েছে কিনা ও এই সংক্রান্ত কোনো কর্মকান্ড হচ্ছে না কিনা এমন সন্দেহে পুলিশ শনিবার সকালে অভিযান চালালেও কিছু পায়নি। পুলিশ বলছে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আদালতের পরোয়ানা নিয়ে তারা এই তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিএনপি ছিল পুরোপুরি অন্ধকারে। অভিযানের আগ পর্যন্ত কোনো কিছুই জানতেন না নেতারা।

সরকারের এত বড় কুটকৌশলের খবর কেন সংগ্রহ করতে পারেনি দলটির গোয়েন্দা বিভাগ এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন কী দলটির স্থায়ী কমিটিতেও গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে বিভাগটি ঢেলে সাজানোর বিষয়েও কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশি অভিযানে কিছু না পেলে বিএনপি এটাকে অত্যন্ত নিন্দাজনক ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করে বিএনপির নেতারা বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র থাকলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ এটা করতে পারতো না। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদ্রোহ কর্মকান্ড করার ষড়যন্ত্র করছেন ও তার অফিসে নথিপত্র রয়েছে বলে পুলিশ অভযান চালিয়ে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। বিএনপির মহাসচিব এটাকে বলেছেন, এটা ন্যাক্কার জনক ঘটনা।

খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বিষয়টি ভালভাবে নেন নি। তারেক রহমানও এটাকে নতুন ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের এই ধরনের একটি অভিযানতে খালেদা জিয়া মনে করছেন এটা তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো ষড়যন্ত্র। আর সরকার নতুন কোনো কিছু করতে গিয়েই এই ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। সরকার এটাকে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করবে ও গোটা জাতির সামনে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে তার কার্যালয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ড করার ষড়যন্ত্র করা হয় ও সেখানে নথিপত্রও থাকতে পারে।

বিএনপি ভিশন ২০৩০ দেওয়ার পর খালেদা জিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে সরকার ও সরকারি দল থেকে।

বিএনপির একজন সিনয়র নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার ১২ মামলার কার্যক্রম আদালত স্থগিত করেছে। দুর্নীতির দুই মামলার বিচারক বদল করেছে। এই আদেশের পর এক সপ্তাহ পার হতে না হতে তার কার্যালয়ে অভিযান নতুন কোনো মামলা দেওয়ারও চেষ্টা ও পরিকল্পনা সরকারের থাকতে পারে তারা মনে করছে।

তিনি বলেন, আমরা ন্যায় বিচারের অপেক্ষা রয়েছি। এই সব অভিযান করে কোনো লাভ হবে না।

একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের অভিযানের বিষয়ে খালেদা জিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ওই অফিসের যারা দায়িত্ব তারা আগেভাগে জানতে পারেননি। কেন তারা জানতে পারেননি ও এই ধরণের ঘটনা ঘটলো। তাছাড়া সার্চ ওয়ারেন্ট না দেখে কেন পুলিশকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হলো? এই সব বিষয় নিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষুব্ধ।

পুলিশের পক্ষ থেকে কারণ যদিও বলা হয়েছে আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। সেই ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার প্রশ্ন, তার সকল মামলা স্থগিত করেছে কোর্ট। তাহলে কোন ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেছে? তার বিরুদ্ধে কোন মামলায় নতুন করে ওয়ারেন্টে হয়নি। আর আগের মামলার ওয়ারেন্ট হলে কেন সেটি দেখা হলো না। কেন এই ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। তার অফিসে অভিযান চালানোর সুযোগ দেওয়া হলো?

বিএনপির সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ও তার অফিসে তল্লাশি চালানোর জন্য নতুন করে কোনো ওয়ারেন্ট হয়নি। এর আগে একবার নাশকতার মামলায় হয়েছিল সার্চ ওয়ারেন্ট হয়েছিল কিন্তু তখনতো পুলিশ আসেনি ও কোনো অভিযান চালায়নি। এখন যখন মামলা স্থগিত তখন তারা এসেছে।

জানা গেছে, গত রাতে দলটির স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতারা। তারা অবিলম্বের গোয়েন্দা বিভাগ ঢেলে সাজানোর বিষয়েও মত দিয়েছেন।ফলে অচিরেই বিএনপির গোয়েন্দা বিভাগটি তরুণ ও ত্যাগী নেতাদের দিয়ে পুনর্গঠন করা হতে পারে।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট