জৈন্তাপুর থানার ওসি প্রত্যাহারে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

প্রকাশিত: ৯:৫৫ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৭

জৈন্তাপুর থানার ওসি প্রত্যাহারে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

পুলিশ হেফাজতে জৈন্তাপুর মডেল থানায় আসামি মৃত্যুর ঘটনায় ওসি প্রত্যাহারের এক দফা দাবিতে ২ ঘন্টা সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে জৈন্তাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।
৭২ ঘন্টার মধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ওসি সফিউল কবিরকে প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবীতে সড়ক অবরোধ সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের ঘোষনা দিয়ে এবং জনদূর্ভোগ বিবেচনা করে অবরোধ স্থগিত করে।
শনিবার দুপুর ৩টায় জৈন্তাপুর ষ্টেশন বাজারে সড়ক অবরোধ করে জৈন্তাপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। সহযোদ্ধা ৫নং ফতেপুর ও ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালন করে।
এসময় আহবায়ক আলতাফ হোসেন, সদস্য সচিব শামীম আহমদ, যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুল কাদির, আব্দুস ছালাম, শাহেদ আহমদ, জুবের আহমদ, চারিকাটা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি মওলানা ফয়জুল হক সহ অন্যন্যা সদস্যের উপস্থিত হয়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
এসময় বক্তারা বলেন- পুলিশ পরিকল্পিতভাবে একটি মামলায় নজরুল ইসলাম বাবুকে বাসা হতে আটক করে। আমরাও চাই নজরুল দোষী হলে তার সুষ্ঠ বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হউক। কিন্তু পুলিশ নজরুলকে নির্যাতন করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে এবং সেই অনুযায়ী নজরুল আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। নতুবা প্রযুক্তি যুগে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থানা এলাকা সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় সে কিভাবে আত্মহত্যা করে?
বক্তারা বলেন, আমরা শুনেছি নজরুল ১ ঘন্টা সময় ধরে আত্মহত্যার কার্যক্রম চালায় যা থানার সিসি ক্যামেরায় ধারন করা আছে। তাহলে থানার ডিউটি অফিসার এবং সেন্ট্রিরা তখন কি করছিল? বিশ্বস্তসূত্র জানায়, সেদিন থানার ডিউটি রুমের মনিটর বিকল রাখা ছিল। যদি ডিউটি রুমের মনিটর বন্দ না রাখা হত তাহলে আমাদের সহযোদ্ধা নজরুল কোন অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করতে পারত না। তাদের প্রশ্ন, সরকার ও জনগনের টাকায় এসকল উন্নয়ন হয়েছে। সেই উন্নয়নের মাধ্যমে থানায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে জনগনের জানমালের নিরাপত্তার জন্য।
এদিকে, ওসি নিজের অপরাধ ঢাকতে এবং থানার কার্যক্রম এককভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিউটি রুমের মনিটর বিকল করে রাখেন বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন।
তারা ওসির নানা অপকর্মের কথা তুলে ধরেন এবং এরকম অফিসারের জৈন্তার মাটিতে প্রয়োজন নেই বলে নানান শ্লোগান দিয়ে সফিউল কবিরের প্রত্যাহার দাবি করেন।
এদিকে অবরোধের সংবাদ পেয়ে সাবেক জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি জৈন্তাপুর ইউপি’র চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, ট্রাক চালক সমিতির সভাপতি নুরু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ইদন মিয়া ও ষ্টেশন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন শাহীন, বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম সোহেলসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নেতৃবৃন্দ আন্দোলন কারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং জনদূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অবরোধ প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান।
পরে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে।
অপরদিকে বিকাল ৫টায় নজরুল ইসলাম বাবুর নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট