জাফলংয়ে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে চলছে পাথর উত্তোলন

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৭

জাফলংয়ে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে চলছে পাথর উত্তোলন

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের পিয়াইন নদী তীরবর্তী চৈলাখেল এলাকার কান্দুবস্তিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে ১৪ একর জমিতে পাথর উত্তোলনে আদালত নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা মানছে না পাথরখেকোরা। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পাথরখেকোরা ক্রমাগতভাবে পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে। প্রকৃতি বিধ্বংসী বোমা মেশিনের মাধ্যমে পাথর উত্তোলন করায় পরিবেশের উপর পড়েছে বিরূপ প্রভাব। এছাড়া ওই সমতল জমিতে থাকা বাড়িঘর, কাঁঠাল বাগান, পানের বাগান, সুপারি বাগান, আম বাগান প্রভৃতি ধ্বংস করা হয়েছে।
জানা যায়, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা হাকিম আদালতের বিচারক আবু সাফায়েত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম গোয়াইনঘাট বিবিধ মোকাদ্দমা নং ৩৩/২০১৭ এর প্রেক্ষিতে গত ১৭ মে এক আদেশে বলেন, ‘বিষয়টি আশঙ্কাজনক এবং উদ্বেগজনক। ইতিপূর্বে গোয়াইনঘাট থানার ওসিকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতকে অবহিত করার জন্য (প্রতিবেদনের মাধ্যমে) বলা হলেও, তিনি তা করেননি। এমতাবস্থায় সিলেটের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তাকে পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাকে পুনরায় বলা হলো। আদেশের অনুলিপি সিলেটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করা হোক।’
মামলার বাদী মো. তরিকুল্লাহ জানান, তিনি জাফলংস্থ মেসার্স পিয়াইন স্টোন ক্রাশারের স্বত্ত্বাধিকারী দেলওয়ার হোসেনের ম্যানেজার। তিনি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা হাকিম আদালতে গোয়াইনঘাট বিবিধ মোকাদ্দমা নং ৩৩/২০১৭ দায়ের করেন। এ মোকাদ্দমায় গোয়াইনঘাট থানার মামার দোকানের মৃত উস্তার আলীর ছেলে আলাউদ্দিন, জাফলংয়ের হাসেম জমিদারের ছেলে সেলিম জমিদার, মামার দোকানের মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে ফয়জুল ও কামরান, বল্লাপুঞ্জির মৃত আলতাফ আলীর ছেলে সুমন, কান্দুবস্তির মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে তাহের মিয়া, মৃত ছিফাত আলীর ছেলে আবদুস সালাম, মামার দোকানের জামাই সুমন, সিদ্দিক আলীর ছেলে মতিউর রহমান ও আবদুর রহমান, একই এলাকার মুজিব, লামা শ্যামপুরের সামছুজ্জামানের ছেলে ওয়েস মিয়াকে বিবাদী করা হয়।

বাদী তরিকুল্লাহ জানান, আদালতের বিচারক বারবার বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বিবাদীরা আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রশাসনের মদদে দিনে ও রাতে অদ্যাবধি অবৈধ বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে। শুক্র ও শনিবার এ দুইদিন অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয়।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ‘অবৈধ বোমা মেশিন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া সার্বক্ষণিক পাথর কোয়ারী এলাকায় পুলিশের নজরদারী রয়েছে। রাতের বেলা পাথর উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে পুলিশ। তারপরও পাথরখেকোরা বেপরোয়াভাবে পাথর উত্তোলন করছে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী আমরা প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছি। বোমা মেশিন ধ্বংস করছি। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট