বনানীর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাতের দেহরক্ষী ও ড্রাইভার গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১:১৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৭

বনানীর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাতের দেহরক্ষী ও ড্রাইভার গ্রেপ্তার

বহুল আলোচিত বনানীর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাতের দেহরক্ষী রহমতকে গুলশান থেকে ডিবি পুলিশ এবং ড্রাইভার বেলালকে পুরান ঢাকার নবাবপুর থেকে র‌্যাব-১০ গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও আরেক আসামি সাদমান সাকিফকে  সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাফাত ও সাদমান সিলেটে আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।

সাফাত (২৬) আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে এবং সাদমান (২৪) পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক ও রেগনাম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে।

বর্তমানে সাফাত আহমেদ ৬ ও সাদমান সাকিফ ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। শুক্রবার (১২ মার্চ) ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলা তদন্তকারী অফিসার পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাদমান সফিক তাদের প্রায় ২ বছর আগের পূর্ব পরিচিত বন্ধু। ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে গুলশান-২ নম্বরের ৬২ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের। এরপর জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে গত ২৮ মার্চ সাফাত আহমেদ তার গাড়ি পাঠিয়ে ড্রাইভার ও বডিগার্ডের মাধ্যমে তাদের বাসা থেকে বনানীর রেইনট্রি হোটেলের ছাদে নিয়ে যান।

তখনো তারা বুঝতে পারেননি তাদের জীবনে কী ঘটতে যাচ্ছে। হোটেলের ছাদে যাওয়ার পর কোনো ভদ্রলোককে দেখতে পাননি তারা। সাফাত, নাঈম ও সফিক ছাড়াও সেখানে আরো দুজন মেয়ে ছিল। তাদের ওই হোটেলে নিয়ে যাওয়ার পর আগে থেকে সেখানে থাকা অন্য দুটো মেয়েকে সাফাত ও নাঈম বার বার নিচে নিয়ে যাচ্ছিল। সেখানকার পরিবেশ ভালো না লাগায় দুই তরুণী চলে যেতে চাচ্ছিলেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, এক পর্যায়ে তাদের দুজনকে একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এ সময় সাফাত তার ড্রাইভার বিল্লালকে ধর্ষণের ভিডিও করতে নির্দেশ দেয়। তখন ড্রাইভার বিল্লাল ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করে।

ওই দুই ছাত্রী জানান, ‘তারা আমাদের ছাদ থেকে নিচে নামিয়ে হোটেলের তিনটি কক্ষে আটকে রাখে। এর মধ্যে দুটি কক্ষে আমাদের দুজনকে অন্য কক্ষে আমাদের আরো দুই বন্ধুকে আটকে রাখে। এরপর আমাদের দুজনকে নির্যাতনের চেষ্টা চালায়। আমরা বাধা দিয়ে চলে আসার চেষ্টা করি। সাফাত ও নাঈম একপর্যায়ে আমাদের মাথায় পিস্তল ধরে গুলি করার হুমকি দেয় এবং বলে, ‘তোরা আমাদের কথায় রাজি না হলে গুলি করে লাশ কোথায় রাখব কেউ জানবেও না, তোরা আর এ পৃথিবীতে থাকবি না…এর পরও আমরা চেষ্টা করি ওদের কাছ থেকে সড়ে পড়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিনি। ওরা কক্ষে আটকে রেখে সারারাত নির্যাতন চালায়। এরপর সেই দৃশ্য ভিডিও করে রাখে।’

দুই শিক্ষার্থী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওই সময় আমাদের ওরা মারধরও করে। এভাবে সারারাত শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করে সকালে আমাদের ছেড়ে দেয়। ওই সময় ওরা আমাদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়েছিল। চলে আসার সময় বলেছিল- আমরা ডাকলেই চলে আসবে অন্যথা এই ভিডিও ফাঁস করে দিব।’

পরবর্তীতে সাফাত তার দেহরক্ষীকে তরুণীদের বাসায় পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ও ভয়ভীতি দেখায়। পুনরায় তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বলেছিল। তাদের হুমকি ও লোকলজ্জার ভয়ে এক পর্যায়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা।

তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তারা দুই ছাত্রীকে বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। ওই ঘটনায় গত ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফ এবং তাদের গাড়ি চালক বিল্লাল ও সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা। মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন আসামিরা।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট