‘যেই হোন না কেন, জনপ্রিয়তা না থাকলে মনোনয়ন দেব না’

প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, মে ৮, ২০১৭

‘যেই হোন না কেন, জনপ্রিয়তা না থাকলে মনোনয়ন দেব না’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‘আপনারা কে কী করছেন, প্রত্যেকের রিপোর্ট আমার কাছে আছে। ছয় মাস পরপর আমি তথ্য নেই। যার অবস্থা ভালো তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। যেই হোন না কেন, জনপ্রিয়তা না থাকলে আমি মনোনয়ন দেব না।’

রবিবার রাতে জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভা সূত্র এতথ্য নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও কঠিন হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। ওই নির্বাচনে দেড়শ এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। কিন্তু আগামী নির্বাচনে নিজেদের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। এবার আমি কারো দায়িত্ব নিতে পারব না।

প্রধামন্ত্রী বলেন, আপনারা কে কী করছেন, প্রত্যেকের রিপোর্ট আমার কাছে আছে। ছয় মাস পরপর আমি তথ্য নেই। যার অবস্থা ভালো তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। যেই হোন না কেন, জনপ্রিয়তা না থাকলে আমি মনোনয়ন দেব না।’

প্রধানমন্ত্রী এমপিদের কাছে মাধ্যমিক স্তরে কত পুস্তক বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে, কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে, মাথাপিছু আয়, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি কত টাকা দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু বেশির ভাগ এমপি সামাজিক উন্নয়নের সূচকের সঠিক তথ্য তুলে ধরতে পারেননি।

পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নিজের সরকারের উন্নয়নের চিত্রই ঠিকমতো বলতে পারে না, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী তথ্য দেবে।

বৈঠকে দলীয় এমপিদের তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দলীয় এমপিদের ইউনিয়ন পর্যায়ে বৈঠক করতে বলেন।

জেলা পরিষদ, পৌরসভাসহ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা এমপিদের সঙ্গে কোন ধরনের সমন্বয় না করেই টাকাপয়সা খরচ করে। এতে করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা তাদের বরাদ্দের টাকা ব্যয় করে। তাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনাদের নাকগলানোর দরকার কী?

আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের প্রধান শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ী ১৬ স্বতন্ত্র এমপির মধ্যে ১১জন আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। বৈঠকের শুরুতে সংসদীয় দলের নেতা এই ১১জনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

তারা হলেন গাইবান্ধা-৮-এর আবুল কালাম আজাদ, নওগাঁ-৩-এর ছলিম উদ্দীন তরফদার, কুষ্টিয়া-১-এর রেজাউল হক চৌধুরী, ঝিনাইদহ-২-এর তাহজীব আলম সিদ্দিকী, যশোর-৫-এর স্বপন ভট্টচার্য্য, ঢাকা-৭-এর হাজী মো. সেলিম, নরসিংদী-২-এর কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩-এর সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মৌলভীবাজার-২-এর আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৩-এর ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ও কুমিল্লা-৪-এর রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্যে পিরোজপুর-৩-এর রুস্তম আলী ফরাজী, মেহেরপুর-২ আসনের মো. মকবুল হোসেন, ফরিদপুর-৪ এর মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, ফেনী-৩ আসনের রহিম উল্লাহ এবং পার্বত্য রাঙামাটির ঊষাতন তালুকদার আওয়ামী লীগে যোগ দেননি।

  •