বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে আ,লীগের নয়া কৌশল

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০১৭

বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে আ,লীগের নয়া কৌশল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপিকে কোণঠাসা করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নানা ধরনের কৌশল হাতে নিয়েছে।

কৌশলগুলোর মধ্যে অন্যতম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) করার প্রস্তাব। দলের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইভিএম নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।

স্বয়ংক্রিয় এই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে জালিয়াতির শঙ্কার পাশাপাশি এর কারিগরি বিষয়ে নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর একটি অংশ সমস্যায় পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা দলটির। ইভিএম চালু করলে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির।

বাংলাদেশে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম ইভিএম ব্যবহার হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ওয়ার্ড, নরসিংদী পৌরসভা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পুরো নির্বাচন ইভিএমে হয়েছিল। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদায়ের আগে সংসদ নির্বাচনের জন্য ইভিএমের প্রস্তুতিও রেখে গিয়েছিল ড. এ টি এম শামসুল হুদার কমিশন। কাজী রকিব কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর শুধু রাজশাহী ও রংপুর সিটিতে ছোট পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হয়।

রবিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে এক অনির্ধারিত আলোচনায় ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ইভিএম চালুর বিষয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগের ফের আগ্রহকে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা বলে মনে করছে বিএনপি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সহায়তায় এ প্রযুক্তি চালু হলেও পাঁচ বছরের মাথায় কারিগরি ত্রুটি নিয়ে ইসি-বুয়েটের দ্বন্দ্বের পাশাপাশি বিএনপির আপত্তির মধ্যে ইভিএম অধ্যায়ের ছেদ পড়ে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ শীর্ষপর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং চালু করতে চায় সরকার।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে গবেষণা হয়েছে। দেখা গেছে, একজন ভোটার ইচ্ছা করলে একচাপে ৫০টির মতো ভোট দিতে পারবেন। যারা ইভিএম ভোটিং পদ্ধতির ডিজাইন করবেন, তারা এমনভাবে ডিজাইন করতে পারবেন যার ফলে ভোটার যে প্রতীকেই ভোট দিক, তা একটি নির্ধারিত প্রতীকের ঘরে যোগ হবে। তাছাড়া মোবাইল ফোন সেটের ব্লু টুথের মাধ্যমে ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে ভোটিং মেশিন কন্ট্রোল করা যাবে। যা কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাম্য নয়।

  •  

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট