আল্লামা শফীর পাশে বসে দোয়া করলেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০১৭

আল্লামা শফীর পাশে বসে দোয়া করলেন শেখ হাসিনা

আল্লামা শফীর পাশে বসে দোয়ায় শরীক হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কওমি মাদ্রাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার পর বেফাকের সভাপতি শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে গণভবনে এই দোয়ায় শরীক হয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে কওমি মাদ্রাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অনুষ্ঠানে এই দেয়ার শরীক হন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে গণভবনে উপস্থীত হয়েছেন প্রায় ৩০০ আলেম। বাংলাদেশে চল্লিশ হাজার কওমি মাদরাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি ঘোষণার লক্ষ্যে গণভবনে অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশের শীর্ষ আলেমরা। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি ঘোষণা করেন।

আল্লামা শফীর সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন বেফাকের সহ-সভাপতি আল্লামা আশরাফ আলী, আল্লামা আনোয়ার শাহ, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মোস্তফা আজাদ, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা জোবায়ের আহমদ চৌধুরী, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা আবদুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর।

ঢাকা থেকে যোগ দিয়েছেন বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। গহরডাঙ্গা মাদরাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন, বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রাহমানি, পটিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপ্যাল আল্লামা আবদুল হালীম বোখারী, সিলেটের মুফতি আবদুল হক, মুফতি আবদুল বাসেত বরকতপুরী প্রমুখ নেতৃত্ববৃন্দ। জামিয়া ইক্বরা থেকেও একটি প্রতিনিধি দল গণভবনে যোগ দেন।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ও রয়েছেন এই বহরে। কওমি মাদরাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির ব্যাপারে কওমি ছাত্র শিক্ষকের দীর্ঘ কয়েক যুগের প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গণভবনের বৈঠকে বেফাকের পক্ষ থেকে ১৫০ জন এবং অন্যান্য ৫ বোর্ড থেকে ১৫০ জন আলেম অংশ নেবেন। সবার উপস্থিতিতে কওমি স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কওমি স্বীকৃতি নিয়ে অনেক চড়াই উৎরাই গেলেও শেষ মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন সবাই। প্রধানমন্ত্রী গত বছর এক অনুষ্ঠানে আলেমদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন আপনারা এক হয়ে আসুন, স্বীকৃতি হবে। সেখান থেকেই তৃণমূলের চাহিদার প্রেক্ষিতে সবমতের আলেমদের মধ্যে সম্মিলন ঘটে।

গত ১০ ডিসেম্বর হাটহাজারীতে আলেমদের সম্মিলিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ উপস্থিত হন। এর কিছুদিন আগে গহরডাঙ্গার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিন একান্তে সাক্ষাৎ করেন আল্লামা আহমদ শফীর সঙ্গে। সর্ব শেষ যাত্রাবাড়ী মাদরাসার মুহাতামিম দাওয়াতুল হকের আমির আল্লামা মাহমুদুল হাসানও এই স্রোতে মিলিত হন। বেফাকে অন্তর্ভূক্ত হয় তার পরিচালতি জামিয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া।

গত ২৮ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৬টি কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কওমি সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে সবাই ঐকমত্যে পৌছেন।

কওমি স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এখনো জানা যায়নি। তবে বেশ কয়েকটি শর্ত সামনে রেখেই এই স্বীকৃতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র।

সারাদেশের কওমি অঙ্গনের বেকাফ সহ ৬টি বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত ‘কওমী সনদ বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ’ এর চেয়ারম্যান দেশের কওমি আলেম ওলামার অভিবাবক শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফির নেতৃত্বে এবং হযরতের দেয়া শর্ত সমূহ শতভাগ মেনে সরকার সনদের মান দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট