সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে শাবি ক্যাম্পাসে মানব বন্ধন-মৌন মিছিল

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০১৭

সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে শাবি ক্যাম্পাসে মানব বন্ধন-মৌন মিছিল

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানব বন্ধন ও মৌন মিছিল হয়েছে। এ কর্মসূচিতে ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নামধারী দৃষ্কৃতকারী ও ইন্ধনদাতা পার্থ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৃন্ময় দাস ঝুটনের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং তাদেরকে আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে তাদের বিচারের দাবিতে এক মানববন্ধন পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে সমাবেশ ও পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে এক মৌন মিছিল পালন করা হয়। সমাবেশ থেকে জড়িতদের অতি দ্রুত শনাক্ত করে বিচার দাবি করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতি।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিলেট প্রেসক্লাব, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আওয়াল বিশ^াস, গণিত বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন, সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য, শাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুহিবুল আলম, সহকারী অধ্যাপক সরকার সোহেল রানা, মনির হোসেন প্রমুখ।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ রেনু, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট-(ইমজা) এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে সহকারী অধ্যাপক সরকার সোহেল রানা বলেন, ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় যখন একজন সাংবাদিকের উপর হামলা হয় তখন বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। একজন সাংবাদিক যখন নিরাপত্তহীনতায় ভোগে তখন বিশ^বিদ্যালয়ের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার থাকে না।
শাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুুিহবুল আলম বলেন, শাবি ছাত্রলীগের কতিপয় কিছু নেতার নির্দেশে এ ধরণের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে তারা শিক্ষকদের গায়ে হাত দিয়েছে, যৌন হয়রানি কারীদের রক্ষা করেছে। এবার সাংবাদিকদের পিটিয়েছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের আজীবন বহিস্কারের দাবি জানান তিনি।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আওয়াল বিশ^াস বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা সিনিয়রদের উপর আঘাত নতুন নয়। এভাবে একটি বিশ^বিদ্যালয় চলতে পারে না। আমি এইসব হামলাাকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক বিচার দাবি করছি।
সিলেটের সাংবাদিকরা এ ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ভাবে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রতি আহ্বান জানান। বিচারহীনতায় সংস্কৃতির ফলে ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটির নাম ভাঙিয়ে ছাত্রলীগ নামধারী বেশকিছু ব্যক্তি সুবিধা নিচ্ছে ও সংগঠনের সুনাম ক্ষুণœ করছে বলে জানান তারা।
ছাত্রী উক্ত্যক্তের ঘটনায় প্রতিবাদ করায় গত শনিবার রাত ৮টার দিকে শাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরদার আব্বাস আলী (ডেইলী অবজারভার) ও সহ-সভাপতি সৈয়দ নবীউল আলমকে (দৈনিক সকালের খবর) পিটিয়ে আহত করে সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থর সক্রিয় কর্মী ও অনুসারীরা। এদের মধ্যে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ দেব অমিয়, সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রুদ্র, গণিত বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম রাকিব, পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ রিয়াদ, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী রাহাত সিদ্দিকী, পলিটিক্যাল স্টাডিশ বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী সুমন সরকার জনি, পলিটিক্যাল স্টাডিশ বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জাকির খান সহ ১৫-২০জন হামলা চালায়। তারা সকলেই শাবি ছাত্রলীগের সভাপতি পার্থর সক্রিয় কর্মী।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট