আ,লীগের ষড়যন্ত্রের কাউন্টারে নেতাকর্মীদের ট্রেনিং দিতে হবে : খালেদা

প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০১৭

আ,লীগের ষড়যন্ত্রের কাউন্টারে নেতাকর্মীদের ট্রেনিং দিতে হবে : খালেদা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ‘যুদ্ধ’ করে বিজয়ী হয়েছেন দাবি করে আগামীতে তার মতো ‘নির্বাচনী যুদ্ধের’ জন্য দলীয় নেতাদের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলেছেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার কুমিল্লার নবনির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজধানীর গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেখা করতে এলে তিনি একথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশকে ধ্বংস করার আগেই তাদের (আওয়ামী লীগ) বিদায় করার জন্য নিজেদের তৈরি করতে হবে। প্রত্যেক জেলায় জেলায় যদি আমাদের সৈনিকরা এমনভাবে তৈরি হয়, যে যুদ্ধ সে (সাক্কু) জিতে এসেছে, তাহলে ইনশাল্লাহ বাকী যুদ্ধেও আমরা বিজয়ী হতে পারব এবং আমরা সফল হব।

তিনি বলেন, সাক্কু যুদ্ধ করে জিতেছে। এই বিজয়ে শুধু আনন্দিত হলে চলবে না, পরবর্তীর জন্য তৈরি হতে হবে। আগামী দিনের যে যুদ্ধ করবেন, তাতে দলকে প্রস্তুত করতে হবে। আমাদের সেজন্য তৈরি হতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রথম পরীক্ষা। আমরা আশা করেছিলাম, অন্ততপক্ষে তিনি যে নিরপেক্ষ একজন ব্যক্তি একটা প্রতিষ্ঠানে বসেছেন, তিনি তা দেখাবেন, প্রমাণিত করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় তিনি নিরপে নন। তিনি আওয়ামী লীগের হয়েই কাজ করেছেন, সেখানে নিরপেক্ষতার কোনো প্রমাণ রাখেন নাই। কাজেই এই নির্বাচন কমিশনার আর হাসিনা-এরা থাকলে দেশে কখনো সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।

ধানের শীষের প্রার্থী সাক্কু যুদ্ধ করে জিতেছে মন্তব্য করে সেখানে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোট হলে সাক্কু ১১ হাজার নয়, ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিততো। কাজেই সেখানে সাক্কু যুদ্ধ করে জিতেছে। যেখানে তারা দেখছে যে, একদমই আর কিছু করার উপায় নেই, সেখানে ব্যবধানটা কমিয়ে এটা করেছে।

নির্বাচনী ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার তাগাদা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, লোকজনকে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে ওদের সাথে পারা যাবে না। আমাদের এগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে এটাও খেয়াল রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ কী ষড়যন্ত্র করছে, কৌশল করতেছে, সেগুলোতে আমাদের নজর রাখতে হবে, খবর রাখতে হবে। যাতে তার কাউন্টার আমরা তাদের দিতে পারি, তার চিন্তা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এবার নবীনদের নিয়ে এসেছি। জেলা কমিটি আপনারা করবেন, সেখানে নবীনদের মূল্যায়ন করবেন, যাতে জেলা কমিটিটা শক্তিশালী হবে।

সাক্কুর স্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করে তাকেসহ নবীনদের নিয়ে কুমিল্লা মহানগর ও জেলা কমিটি করতে নেতাদের পরামর্শ দেন খালেদা জিয়া। যারা দলের বিরুদ্ধে কাজ করবে ও বেঈমানি করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়, তারপরই হলো বিএনপিকে। বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে, তাহলে তো জনগণ ধানের শীষের পক্ষ ভোটটা দেবে। সে জন্য যেকোনো প্রকারে হোক বিএনপির লোকজনকে নানারকমের মামলা-মোকাদ্দমা দিয়ে, নানাভাবে হয়রানি করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়। এখানে তিনি মতা থেকে একচুলও সরতে চান না। মতায় থাকলেও তিনি মতার যে অস্ত্রগুলো আছে- প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, তার গুণ্ডাবাহিনী, ছাত্রলীগ-যুবলীগ এসবকে ব্যবহার করতে পারবে না। সেজন্য সে সেখান থেকে সরতে চান না। তিনি চান মতায় থেকে নির্বাচন করবেন। কিন্তু মতায় থেকে নির্বাচনে কী হতে পারে, দেশের মানুষের তা ধারণা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের কোনো বৈধতা নেই মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নয়, তারা অনির্বাচিত, তারা অবৈধ সরকার। তাদের কোনো কাজ করার মতা নেই। কাজেই বুঝতে হবে, আগামী দিনে দেশে গণতন্ত্র আনতে হবে। সেভাবে দলকে তৈরি করতে হবে।

দলের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এবার নবীনদেরকে নিয়ে এসেছি। জেলা কমিটি আপনারা করবেন, সেখানে নবীনদের মূল্যায়ন করবেন, যাতে জেলা কমিটি শক্তিশালী হয়। সাক্কুর সহধর্মিণীর বক্তব্যের প্রশংসা করে কুমিল্লা মহানগর ও জেলা কমিটি সাক্কুর স্ত্রীসহ নবীনদের নিয়ে করার জন্য দলের চেয়ারপারসন পরামর্শ দেন।

নির্বাচনী ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের প্রশিণের ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, লোকজনকে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে ওদের সাথে পারা যাবে না। আমাদের এগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। এটাও খেয়াল রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ কী ষড়যন্ত্র করছে, কৌশল করছে, সেগুলো আমাদেরকে নজর রাখতে হবে, খবর রাখতে হবে। যাতে তার কাউন্টার আমরা করতে পারি, তার চিন্তা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সেই সাথে যারা দলের বিরুদ্ধে কাজ করবে ও বেঈমানী করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, কুমিল্লা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসীন, কেন্দ্রীয় নেতা এজেডএম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি,সেন্ট্রাল যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, আনোয়ারুল আজীম, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মোস্তাক মিয়া, আবদুল আউয়াল খান, খন্দকার মারুফ হোসেন, গফুর ভুঁইয়া, মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া, শাহিদুর রহমান তামান্না, কাইয়ুম হক রিংকুসহ কুমিল্লার নেতারা।

দলের প্রার্থী সাক্কু ও তার সহধর্মিণী আফরোজা ইয়াসমীন টিকলী বিজয়ের জন্য দলের চেয়ারপারসনের হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন। তিনি এই বিজয়ের জন্য কুমিল্লার নাগরিকসহ ভোটার ও দলের নেতাকর্মীদের অভিনন্দনও জানান।

গত ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।

  •