কুসিক নির্বাচনে প্রচারণা শেষ আগামীকাল ভোট গ্রহণ

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০১৭

কুসিক নির্বাচনে প্রচারণা শেষ আগামীকাল ভোট গ্রহণ
রাত পোহালেই কাল অনুষ্ঠিত হবে কুমিল্লা সিটি নির্বাচন। এরই মধ্যে গতকাল শেষ হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে আরো একদিন আগে। কুমিল্লা জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে ভোট কারচুপির শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের আমলে কোন ভোটই সুষ্ঠু না হওয়ায় কুমিল্লায়ও অশুভ চক্রান্ত কাজ করে কিনা সে শঙ্কা পিছু ছাড়ছে না। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে  নির্বাচন করা বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও কুসিকের সদ্য  সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, গত ৫ বছর কুমিল্লা নগরীতে আমি যে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছি  তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য নগরবাসী এবার আমাকে গেল বারের চেয়ে আরো বেশি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। কারণ, আমি পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম, মেয়র ছিলাম পরবর্তীতে জনগণের ভোটে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আমি প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আফজল খানকে পরাজিত করেছিলাম। তখন আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলাম। আমার দল আমার সাথে ছিল না। এবার আমার সাথে দল এবং প্রতীক আছে। গেলবার নির্বাচিত হয়ে জনগণের জন্য কি কাজ করেছি তা জনগণ রাস্তায় বের হলেই দেখতে পারেন। জলাবদ্ধতা আর যানজট সমস্যা এবার নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার পাবে উল্লেখ করে  বিএনপি দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বলেন,এক মেয়াদে সব কাজ সম্পন্ন করা যায় না। তাই নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য। তিনি গতকাল মঙ্গলবার  বিকেলে নগরীর ১০নং ওয়ার্ডের রানীর বাজারে শেষ গণসংযোগ করার সময় এ কথা বলেন। : বিএনপি দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি প্রশাসনের বিমাতা সুলভ আচরণ পেয়ে আসছি। আমার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হামলা, মামলা থেকে শুরু করে নানাভাবে হয়রানি করেছে । আমরা পাল্টা কোন হামলা করিনি। মাইক ভাংচুর করেছে, পোস্টার ছিঁড়েছে, প্রচারণায় নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। আমরা প্রতিটি অভিযোগ রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি। সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে প্রত্যাহার ছাড়া দৃশ্যমান আর কোন ব্যবস্থা প্রশাসন নেয়নি। সোমবার আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ করার পরেও কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করিনি। তারপরেও নির্বাচনে আছি। যেখানেই গিয়েছি, জনগণ জানতে চেয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা , কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে কিনা। আমি এখন সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শংকিত আছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা চাই। এ সময় তার সাথে ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা হুমায়ুন মুন্সি, যুবদল নেতা পিটারসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। : গতকাল মঙ্গলবার সকালে  মনিরুল হক সাক্কু তার নগরীর নানুয়াদিঘীর পাড় বাসায় বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সকল ভয় ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে আগামী বৃহস্পতিবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান। বিকেলে উৎসবের আমেজে নগরীর ১০নং ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। রাতে তিনি একটি উঠোন বৈঠকে মিলিত হয়ে প্রচারণার শেষ বক্তব্য রাখেন। এ সময় তার সাথে বিএনপি এবং এর অংসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। : তিনি এ সময় সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক বন্ধুরা দীর্ঘ এক মাস আমার সাথে থেকে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিয়ে অনেক কষ্ট করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এবার আল্লাহর রহমতে নির্বাচিত হলে আমার ঘোষিত ইশতেহারের ২৭ দফা বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ। কুমিল্লাকে একটি নান্দনিক শহরে পরিণত করব। : এ  ছাড়ার মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে ২৭টি ওয়ার্ডে বিভিক্ত ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি ব্যাপক গণসংযোগ করেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য শেষ বারের মত আহবান জানান। আর অপর কর্মীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষ প্রতীক সম্বলিত ভোটার লিস্ট প্রদান করেন।
  •