সিলেটে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান শুরু

প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০১৭

সিলেটে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান শুরু

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ‘আতিয়া মহলে’ ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’ সাংকেতিক নামে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়েছে। লে. কর্নেল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো সদস্যরা এ অভিযান চালাচ্ছেন।

বাড়িটি ঘিরে রাখার দীর্ঘ ৩০ ঘন্টারও বেশি সময় পর শনিবার সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে ওই ভবনে এ অভিযান শুরু হয়।  এতথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা।

অভিযান শুরুর আগে সেখানে আনা হয় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের সাঁজোয়া যান ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে ওই বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেয় পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াট ও সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য। ঘটনাস্থলে বিকেলে আনা দুটি অ্যাম্বুলেন্স সন্ধ্যার দিকে ফিরে গেলেও রাত ৯টার দিকে আবার ঘটনাস্থলে আসে।

এর আগে সকাল ৭টার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা শুরু করে। পরে মাইকিং করে স্থানীয় অধিবাসী এবং উপস্থিত জনসাধারণকে অন্তত কিলোমিটার দূরে চলে যাওয়ার দিচ্ছে পুলিশ। সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদেরও এই দুরত্বে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

পুলিশের আহ্বানের পরও আত্মসমর্পণে সাড়া না দেওয়ায় সোয়াট টিমের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো ইউনিট।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে আতিয়া মহল ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাঁচতলা ওই ভবনের নীচতলার একটি ফ্ল্যাটে নারীসহ একাধিক ‘জঙ্গি’ রয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ওই ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে নারী ও পুরুষ ‘জঙ্গি’ শুক্রবার দুপুরের পর দ্রুত সোয়াত ফোর্স পাঠাতে বলেছিল । তারা বলেছিল, ‘তোমরা (পুলিশ) শয়তানের পথে, আমরা আল্লাহর পথে। দেরি কেন, দ্রুত সোয়াত ফোর্স পাঠাও।’

শুক্রবার বিকাল ৪টার কিছু আগে ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় সোয়াত ফোর্স। এর কিছুক্ষণ পর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটও আসে ঘটনাস্থলে। সন্ধ্যার দিকে দুটি অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে আসে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ইউনিটের একটি দল। রাতে সার্চ লাইট দিয়ে আলোকিত করে রাখা হয় পুরো আতিয়া মহল।বাড়ানো হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা। এছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের রাখা হয় প্রস্তুত। তবে ‘জঙ্গিদের’ ফ্ল্যাটে চূড়ান্ত অভিযান আর হয়নি।

এদিকে, ওই ভবনে আটকা পড়া ২৯টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ আর আতঙ্কে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাইরে থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না। বলে জানা যাচ্ছে।

ভোরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা দেখা গেছে, সোয়াত টিম ও সেনাবাহিনীর দলসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা খুবই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ওই ভবনের আশপাশে কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। ওই বাড়ির আশপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কখন চূড়ান্ত অভিযান শুরু হবে তাও জানা যাচ্ছে না।

  •