মেয়র প্রার্থী সাক্কুর ২৭ দফা ইশতেহার ঘোষণা

প্রকাশিত: ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০১৭

মেয়র প্রার্থী সাক্কুর ২৭ দফা ইশতেহার ঘোষণা
আগামী ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে নগরবাসীর উদ্দেশে ২৭ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা বিএনপিদলীয় প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, কুমিল্লা ঐতিহ্যগতভাবেই একটি শান্তির নগরী। আমরা এই নগরে সবাই মিলেমিশে শান্তি ও সম্প্রীতিতে বসবাস করতে চাই। আমরা চাই না এই নগরের সড়কে দাঁড়িয়ে কেউ ঠেকবাজি করুক, গোলাগুলি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করুক, লাশ গুম করুক। আমরা চাই না সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদকাসক্তদের দ্বারা নগরে অস্থিরতা সৃষ্টি হোক, মা-বোনদের স্বাধীনভাবে পথ চলা রুদ্ধ হোক। নির্বাচিত হলে আমি কুমিল্লাকে বিশ্বমানের শহরে পরিণত করব। কুমিল্লাকে শান্তি ও সমৃদ্ধির এক আদর্শ নগর হিসেবে গড়ে তুলব। অতীতের ন্যায় আগামীতেও কোনো নাগরিকের হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হবে না। সিটি কর্পোরেশন থেকে নতুন কোনো করের বোঝাও কারো ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে না। গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় নগরীর ধর্মসাগর পাড়স্থ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি ইয়াছিনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। : নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপিদলীয় প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু নির্বাচিত হলে নগরীকে জলাবদ্ধতা ও যানজট মুক্ত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, কর্মজীবী নারীদের জন্য ইপিজেড এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ হোস্টেল স্থাপনসহ ২৭ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন। দফাগুলো হলো : : আমাদের প্রিয় কুমিল্লা একটি ঐতিহ্যবাহী পুরাতন শহর। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই শহরে জলাবদ্ধতা এবং যানজট সমস্যা দীর্ঘকালের। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আমি গত বছরগুলোতে কিছু কাজ করেছি বলেই জলাবদ্ধতা ও যানজট কিছুটা কমেছে। : মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আমার অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ ছিল কুমিল্লা শহরকে জলাবদ্ধতা ও যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া। এই লক্ষ্যে গৃহীত মাস্টার প্লান অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন হলে কুমিল্লা শহর জলাবদ্ধতা ও যানজটমুক্ত হবে ইন্শাআল্লাহ্। মাস্টার প্লান অনুযায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নগরীর পার্শ্ববর্তী খালগুলো সংস্কার করা হয়েছে, যা এক অব্যাহত প্রক্রিয়া। : জনগণের এবং যানচালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করে তাদের সাথে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছি। ফলে পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে। এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্লাইওভার এবং ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনাও আমার আছে। ইতিমধ্যেই সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক ইস্টার্ন প্লাজার সামনে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ ৭৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আরও ২টি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। : বিগত ৫ বছরে মহানগরীর কোথাও হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়নি। বরং দরিদ্র এবং নানা কারণে পুরো হোল্ডিং ট্যাক্স কমিয়ে পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়েছে। আগামীতেও কোনো নাগরিকের হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হবে না। সিটি কর্পোরেশন থেকে নতুন কোনো করের বোঝাও কারো ওপর চাপানো হবে না। : শিক্ষা ক্ষেত্রে কুমিল্লা বরাবরই অগ্রগামী। এই গর্বিত ধারাকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে গত কয়েক বছরে বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যথাসম্ভব সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ২২নং ওয়ার্ড হাজি আক্রামউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ এবং ২৭ নং ওয়ার্ডে চৌয়ারা উচ্চ বালিকা বিদ্যালযের নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। : আগামী ৫ বছরে বিদ্যমান স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন করেÑ : ক. কুমিল্লা মহানগর সদর দক্ষিণ এলাকার কোটবাড়ীকে কেন্দ্র করে একটি শিক্ষানগরী গড়ে তোলা হবে। এই এলাকায় উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী নওয়াব ও সমাজসেবিকা নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণীর নামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। : খ. লালমাই ও ময়নামতি পাহাড়ের আদিবাসী নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ত্রিপুরাদের জন্য মাতৃভাষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। : গ. উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মণের নামে কুমিল্লা নগরে একটি সংগীত কলেজ স্থাপন করা হবে। : ঘ. কুমিল্লা মহানগরের পূর্বাঞ্চলে কুমিল্লা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কুমিল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। : ঙ. নগরের দক্ষিণাঞ্চলে মেয়েদের জন্য দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এখানে ১ম শ্রেণি থেকেই লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে। : চ. নগরীর পশ্চিম অংশে ছেলেদের জন্য একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। : ছ. সাবেক পৌরসভাগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এনে উন্নত ও আধুনিক করা হবে। : জ. সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে স্থাপিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই হবে উচ্চমানের এবং অলাভজনক। : ঝ. কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন করে আসন সংখ্য বৃদ্ধি করা হবে, যাতে আরও বেশিসংখ্যক ছাত্রছাত্রী লেখাপড়ার সুযোগ পান। : ঞ. সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য অধিক হারে বৃত্তি প্রদান করা হবে। : ট. গত কয়েক বছরে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অভিভাবকদের বসার জন্য শেড তৈরি করা হয়েছে। অবশিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অভিভাবকদের বসার জন্য শেড তৈরি করা হবে। : কুমিল্লা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শহর। এই শহরকে দেশবাসী ‘পথিকৃৎ কুমিল্লা’ বলে জানে। এই গৌরবকে ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এই লক্ষ্যেÑ : ক. নগরের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য ‘নগর সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে। : খ. নগরের ২৭টি ওয়ার্ডে সেসব ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, উন্নয়নকর্মী, নারীনেত্রী এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে কীর্তিমানের নামে একটি করে পাঠাগার স্থাপন করা হবে। : গ. সংস্কৃতি চর্চা ও নির্মল বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যমান মিলনায়তনগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। : ঘ. প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা বিশেষ অবদান রাখবেন তাঁদের সম্মাননা জানানো হবে। : ঙ. দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী, সংগঠক এবং শিল্প, সাহিত্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকবে। : চ. লালমাই, ময়নামতি এবং গোমতী নদীকে কেন্দ্র করে একটি মনোরম পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যেই পুরাতন গোমতি নদীতে ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ার লক্ষ্যে ঔওঈঅ-এর অর্থায়নে প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে। : ছ. বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। : মা ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য নগরীতে ৮টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে উপযুক্ত ডাক্তার, নার্স, চিকিৎসাসামগ্রী, যন্ত্রপাতি ও অ্যাম্বুলেন্স সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিশেষ করে মা, শিশু এবং প্রবীণ নাগরিকদের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা থাকবে। বিগত ৫ বছরে প্রায় ৪ হাজার দরিদ্র নারীকে প্রসূতিকালীন আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের এই গণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। : কর্মজীবী নারীদের জন্য ইপিজেড এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ হোস্টেল স্থাপন করা হবে। মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাসহ নগরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। : গত কয়েক বছরে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ আরও দ্রুত করা হবে। : বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিত্যনতুন ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে। আরও উন্নতির লক্ষ্যে রিসাইকিলিংয়ের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার জন্য ইতিমধ্যেই ইঊঢওগঈঙ ও ঝঊখ-এর সাথে চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে। অতিশিগগিরই এই কাজ শুরু হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। : সরকারের বিভিন্ন বিভাগ এবং জনগণের সহযোগিতায় কুমিল্লা শহরকে আগের চেয়ে অনেক পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় আমাদের এই শহরকে আমরা আরও পরিচ্ছন্ন- আরও সুন্দর করে গড়ে তুলব ইনশাল্লাহ্। : আমাদের গৃহীত মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার করা হচ্ছে। রাস্তা চওড়া করা হচ্ছে এবং নতুন করে ফুটপাত নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ৫ বছরে নগরীর সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল উন্নয়ন ঘটবে। সব কাঁচা রাস্তা পাকা করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। : মহানগরীর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এই অঞ্চলের অবশিষ্ট সব রাস্তা ও ড্রেন পাকা করার মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ঔওঈঅ, গএঝচ এবং উচচ’র সহযোগিতায় ৩০০ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। শিগগিরই তা বাস্তবায়ন শুরু হবে ইনশাল্লাহ্। : দক্ষিণাঞ্চলের আঞ্চলিক কার্যালয়কে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করা হবে। এই অঞ্চলে একটি স্টেডিয়াম ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। শিশুদের কল্যাণে এখানে একটি শিশুপার্ক নির্মাণ করা হবে। : নগরের অনেক সড়ক রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোকে আলোকিত করা হয়েছে। অবশিষ্ট সড়কগুলো, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের সড়কগুলো অতিশিগগির পর্য্যাপ্ত বিজলি বাতির ব্যবস্থা করে নিরবচ্ছিন্ন আলো সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় জোরদার করা হবে। : গত কয়েক বছরে কুমিল্লার খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নগরের বিভিন্ন সড়ক এবং স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে। স্টেডিয়াম গেটের নামকরণ করা হয়েছে মাতৃভাষা আন্দোলনের অমর ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের নামে। ভবিষ্যতেও নতুন সব সড়ক ও স্থাপনার নাম কুমিল্লার খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নামেই করা হবে। : নিউমার্কেটের ৫ম তলায় একটি আইটি সেন্টার গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার এসোসিয়েশনের সাথে চুক্তি করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে নগরের জনগণ বিশেষ করে যুবসমাজ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আউট সোর্সিং-এর ব্যবস্থাসহ একাধিক আইটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। নগরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে ফ্রি ওয়াই ফাই জোনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যা শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে।     : নিউমার্কেটের বেসমেন্ট হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়ার কিছু হকার স্থায়ী উপার্জনের অবলম্বন পেয়েছেন। পর্যায়ক্রমে সব হকারের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে তাদের জীবিকার স্থায়ী সংস্থানের পাশাপাশি নগরের যানজট সমস্যারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে। : নগরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন নিশ্চিত করার জন্য উচচ’র প্রকল্পের অর্থায়নে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫তলা আধুনিক সুযোগ- সুবিধা সম্বলিত ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। : টচচজচ প্রকল্পের মাধ্যমে বস্তিবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বস্তিবাসীসহ নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পব্যয়ে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। : গত কয়েক বছরে সিটি কর্পোরেশনের সেবা তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে নতুন কয়েক শত কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন নতুন মার্কেট, দোকানপাট, ক্ষুদ্র শিল্প এবং পরিবহন খাতে হাজার হাজার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগে উদ্দীপনা ও সহায়তা দিয়ে বর্ধিত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। : নিউমার্কেট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। রাজগঞ্জ, রানীরবাজার ও চকবাজারের আধুনিকীকরণের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছেÑ যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। নগরের অন্যান্য কাঁচা বাজারের সংস্কার ও উন্নয়নের ব্যবস্থা নেয়া হবে। : গত কয়েক বছরে কান্দিরপাড় এবং নিউমার্কেটসহ অনেক নতুন জামে মসজিদ, ১৬টি নতুন মন্দির নির্মাণ এবং কবরস্থান ও শ্মশান তৈরি ও সংস্কার করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই কুমিল্লা নগরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের এখন আর কেউ নির্যাতন করার সাহস পায় না। ভবিষ্যতেও পাবে না ইনশাআল্লাহ্। : প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননার ব্যবস্থা করা হয়। এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্স এবং পানির বিল হ্রাস করা হয়েছে। ভবিষ্যতে মওকুফ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।      : নগর ভবন এবং নগরের সকল স্থাপনায় প্রবীণ নাগরিক এবং নারীদের অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। : সন্ত্রাসকে উৎসাহ কিংবা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দেয়ার নীতিতে অটল থেকে আমাদের এই প্রিয় নগরকে সন্ত্রাসমুক্ত এবং সম্মানীত নাগরিকদের জানমাল নিরাপদ রাখতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাস ও ইভজিটিংয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল আছি এবং থাকব।     : মাদকাসক্তির অভিশাপ থেকে কুমিল্লা মহানগরকে মুক্ত রাখার জন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মিলে কাজ করছি। মাদকমুক্ত কুমিল্লা প্রতিষ্ঠাতেও আমাদের অবস্থান কঠোর এবং ভবিষ্যতে হবে কঠোরতর। এবং প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগের নাম পরিবর্তনের যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে আমরা কুমিল্লাবাসী ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্যের নেতৃত্বে থাকবে কুমিল্লা মহানগর। আর তাই আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে কুমিল্লার মর্যাদা রক্ষার নির্বাচন। : এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুসিক নির্বাচনের দলের প্রধান সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান,  বিএনপি চেয়াারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, এলডিপির মহাসচিব ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট রেদওয়ান আহমেদ, বিএনপির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, মনিরুল হক চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও এমরান সালেহ প্রিন্স, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি আমিন-উর রশিদ ইয়াসিন, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, আবদুল আউয়াল খান, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
  •