বাসিন্দাদের উদ্ধারের পর জঙ্গিদের ফ্ল্যাটে অভিযান শুরু

প্রকাশিত: ১২:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০১৭

বাসিন্দাদের উদ্ধারের পর জঙ্গিদের ফ্ল্যাটে অভিযান শুরু

বাসিন্দাদের উদ্ধারের পর এবার জঙ্গিদের ফ্ল্যাটে অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো সদস্যরা। শনিবার ১১.৪৫ মিনিটে জঙ্গিদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন তারা।

ঝড়বৃষ্টির মধ্যে সিলেট দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকার ‘আতিয়া মহলে’ সেনা বাহিনীর প্যারা কমান্ডোর ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’-এ এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫ জন সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে জকিগঞ্জ থানার এএসআই মুহিবুর রহমানের পরিবারসহ ১২টি পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।

শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে থেকে বেলা ১১টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা হয়। ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

জানা গেছে, অভিযান শুরুর পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চার ও পাঁচতলা থেকে প্রথমে ছয়টি, পরে পৌনে ১১টার দিকে তৃতীয় ও দ্বিতীয়তলা থেকে আরও ছয়টি পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।

উদ্ধারের পর নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, পুলিশ কর্মকর্তা মুহিবুর রহমানের পরিবারসহ অন্তত ১২টি পরিবারের সদস্যদের সেনা প্যারা কমান্ডো বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন। পরে তাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ভবনে থাকাকালীন তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে প্যারা কমান্ডোরা জঙ্গিদের ফ্ল্যাটটি ঘিরে রেখেছে। ভবন থেকে বাকিদেরও নিরাপদে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

আতিয়া মহলে ২০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১৭টি ফ্ল্যাট ভাড়া ছিল। এর মধ্যে নিচতলার একটি ফ্ল্যাট মর্জিনা ও কাউসার স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ভাড়া নেয়।

ঝড়ের সময় ওই এলাকার আশপাশ কিছুক্ষণের জন্য অন্ধকার হয়ে যায়। এসময় সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে আশপাশের বাড়িতে টর্চলাইট খুঁজতে দেখা যায়।

সাড়ে ৮টার পর অভিযান শুরুর সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে সকাল থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সকাল থেকে সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দীর এ ব্যাপারে জানান, ‘এই মুহূর্তে আতিয়া মহল সেনা কমান্ডোদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা অভিযান শুরু করেছেন।’

জঙ্গিরা পুলিশের আহ্বানের পরও আত্মসমর্পণে সাড়া না দেওয়ায় সোয়াট টিমের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো ইউনিট। অভিযান শুরুর আগে সেখানে আনা হয় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের সাঁজোয়া যান ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স।

বাড়িটি ঘিরে রাখার দীর্ঘ ৩০ ঘন্টারও বেশি সময় পর শনিবার সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে ওই ভবনে এ অভিযান শুরু হয়।  এতথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা।

সকাল ৭টার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা শুরু করে। পরে মাইকিং করে স্থানীয় অধিবাসী এবং উপস্থিত জনসাধারণকে অন্তত কিলোমিটার দূরে চলে যাওয়ার দিচ্ছে পুলিশ। সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদেরও এই দুরত্বে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযান শুরু হওয়ার আগে থেকে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে সকাল থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় সকাল থেকে সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

ওই ভবনে আটকা পড়া ২৯টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ আর আতঙ্কে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাইরে থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

ভোরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা দেখা গেছে, সোয়াত টিম ও সেনাবাহিনীর দলসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা খুবই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ওই ভবনের আশপাশে কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। ওই বাড়ির আশপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকাল ৪টার কিছু আগে ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় সোয়াত ফোর্স। এর কিছুক্ষণ পর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটও আসে ঘটনাস্থলে। রাত পৌনে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে আসে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ইউনিটের একটি দল। রাতে সার্চ লাইট দিয়ে আলোকিত করে রাখা হয় পুরো আতিয়া মহল।বাড়ানো হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা। এছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের রাখা হয় প্রস্তুত। তবে ‘জঙ্গিদের’ ফ্ল্যাটে চূড়ান্ত অভিযান আর হয়নি।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে আতিয়া মহল ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাঁচতলা ওই ভবনের নীচতলার একটি ফ্ল্যাটে নারীসহ একাধিক ‘জঙ্গি’ রয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ওই ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে নারী ও পুরুষ ‘জঙ্গি’ শুক্রবার দুপুরের পর দ্রুত সোয়াত ফোর্স পাঠাতে বলেছিল। তারা বলেছিল, ‘তোমরা (পুলিশ) শয়তানের পথে, আমরা আল্লাহর পথে। দেরি কেন, দ্রুত সোয়াত ফোর্স পাঠাও।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট