ডাম্বুলায় টাইগারদের জয়ের হাতছানি

প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০১৭

ডাম্বুলায় টাইগারদের জয়ের হাতছানি

ডাম্বুলা : শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় জয় যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে টাইগারদের। শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডেতে কোনো দল ৩০০’র উপরে রান তাড়া করে সফল হয়নি। আর এমন লক্ষ্য দিয়ে প্রথম ওভারে শ্রীলঙ্কার একটি উইকেট পায় সফরকারীরা।  সেই ধারা বজায় ছিল ভালোভাবে।  মাত্র ৩১ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় লঙ্কানরা।

এর পর দিনেশ চান্ডিমাল ও আসেলা গুনারত্নে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসান এ জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরান।  কিছুক্ষণ পর চান্ডিমালের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৯ ওভারে ৫ উইকেটে ১২১ রান শ্রীলঙ্কার।

ইনিংসের তৃতীয় বলে মাশরাফি মর্তুজার বলে এলবিডব্লিউ হন দানুস্কা গুনাতিলাকা। প্রথম উইকেট হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ তুলে নেন দ্বিতীয় উইকেট।  এর পর তাসকিন আহমেদ তার প্রথম ওভারে উইকেট শিকার করেন।  পরে চান্ডিমাল ও গুনারত্নে ৫৬ রানের জুটিতে ধাক্কা সামলান। কিন্তু গুনারত্নেকে থামতে হয়। কয়েক ওভার বিরতি দিয়ে মিরাজের বলে ৫৯ রানে সৌম্য সরকারের ক্যাচ হন চান্ডিমাল।

গুলাতিলাকা শূন্য রানে বিদায় নেন। রিভিউ নিলেও আম্পায়ারের আউটের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। আর পঞ্চম ওভারের শেষ বলে কুশল মেন্ডিস ৪ রানে লং অনে ধরা পড়েন বদলি ফিল্ডার শুভাগত হোমের হাতে। তাসকিনের বলে মাত্র ১৯ রানে মাশরাফির ক্যাচ হন লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা। সাকিবের বলে ব্যক্তিগত ২৪ রানে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যাচ হন গুনারত্নে। ৬২ বলে হাফসেঞ্চুরি করা চান্ডিমাল ফেরেন আরও ৮ বল খেলে।

এর আগে টস হেরে বাংলাদেশ ব্যাট করেছিল। শুধু সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিমকে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যথতা কিন্তু গ্রাস করেনি বাংলাদেশকে। কারণ সাব্বির রহমানের মারকুটে ইনিংসের পর তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের চমৎকার ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়েছে সফরকারীরা। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ৩২৫ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ।

এক প্রান্ত আগলে ধরে রেখেছিলেন তামিম। সৌম্য মাত্র ১০ রানে আউট হলে ভাঙে ২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। সুরাঙ্গা লাকমলের বলে দিনেশ চান্ডিমালের গ্লাভসে ধরা পড়েন সৌম্য। এর পর সাব্বির ও তামিমের দাপুটে ব্যাটিং। মাত্র ১৬.৫ ওভারে ৯০ রানের জুটি গড়েন তারা। সাব্বির মাত্র ৪৮ বলে চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি পান।

কিন্তু পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাব্বির। ডানহাতি এ ব্যাটসম্যানকে উপুল থারাঙ্গার দুর্দান্ত ক্যাচ বানান আসেলা গুনারত্নে। ৫৬ বলে ১০ চারে ৫৪ রান করেন তিনি। মাঠে নেমেই মাত্র দ্বিতীয় বল খেলতেই ১ রানে লাকশান সান্দাকানকে ফিরতি ক্যাচ দেন মুশফিক।

চতুর্থ জুটিতে শতাধিক রান করার পথে তামিম পেয়ে যান ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করতে তিনি বল খেলেন ১২৭টি। অন্য প্রান্তে সাকিব ছিলেন দাপুটে। ৬১ বলে ৩৩তম হাফসেঞ্চুরি করার পর ধৈর্য ধরে রাখতে পারেননি বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ৭১ বলে চারটি চার ও এক ছয়ে ৭২ রানে লাকমলের শিকার হন সাকিব। ভাঙে ১৪৪ রানের শক্ত জুটি।

৪৮তম ওভারের পঞ্চম বলে থামতে হয় তামিমকে। ততক্ষণে ১৫ চার ও ১ ছয়ে ইনিংস সেরা ১২৭ রান করেন এ ওপেনার। লাহিরু কুমারার বলে গুনাতিলাকার শিকার হন তিনি। আগের বলেই মিলিন্দা সিরিবর্দনে ক্যাচ ধরতে না পারায় ছয় হয় তামিমের।

মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন শেষ দুই ওভারে রানের গতি বাড়ান।  মাত্র ২.১ ওভারে তারা অপরাজিত ৩৫ রানের জুটি গড়েন। স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ৫ উইকেটে ৩২৪ রান। শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটা যে কোনও দলের চতুর্থ সর্বোচ্চ। মোসাদ্দেক ৯ বলে ২৪ ও মাহমুদউল্লাহ ৭ বলে ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

  •