বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত: ১:০৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০১৭

বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। স্বাধীনতাকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। যে উন্নয়ন-অর্জন হচ্ছে তা বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে।’

বুধবার সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিভাগীয় তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিভিন্ন মহল দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো লীগ নাম ব্যবহার করে দোকান খুলে বসে আছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের ছত্রছাত্রায় কোনো দোকান খোলা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই আওয়ামী ওলামালীগ, প্রচার লীগ, আওয়ামী তরুণলীগ, আওয়ামী প্রবীণলীগ, আওয়ামী প্রজন্মলীগ, আওয়ামী কর্মজীবিলীগ, আওয়ামী ডিজিটাল লীগ, আওয়ামী লীগে হাইব্রিডলীগ এই সব এলো কোথা থেকে। এই সব আওয়ামী লীগের নামে আলাদা আলাদা দোকান খুলে বসে আছে। এইসব নাম ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, এই সব চলতে দেওয়া যাবে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এসব দোকানদারকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের জমিদারের মতো পদে বসে থাকা চলবে না। আমাদের গড ফাদার দরকার নেই, দরকার নেই পেশাহীন পেশাজীবীর। আমরা সন্ত্রাসমুক্ত আওয়ামী লীগ গড়তে চাই। প্রত্যেক ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নতুন করে করতে হবে। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন তারিখ নির্ধারণ করে দেবেন। কমিটি গঠন নিয়ে কোন টালবাহানা চলবে না। পকেট কমিটি মেনে নেয়া হবেনা। সুশৃঙ্খলভাবে কমিটি গঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে হবে।’

আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতেও নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন সেতুমন্ত্রী। এছাড়া সংগঠনের কোনো পর্যায়ে পকেট কমিটি মেনে নেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, সিলেটসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগে কোন পকেট কমিটি চলবে না। প্রতিটি স্থানেই প্রকাশ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কমিটি দেওয়া হবে। সকল ভেদাভেদ আর মতপার্থক্য ভুলে দলের স্বার্থে সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি আরো বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে মাত্র দেড় বছর বাকি আছে। নেতাকর্মীদের কথা কম বলে বেশি বেশি করে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগকে হাইব্রিড নেতাদের কাছ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপির সভাপতিত্বে ও সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল মাল আব্দুল মুহিত, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ একযুগ বছর পর এই বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। সিলেটসহ বিভাগের অন্য তিন জেলার নেতাকর্মীরা সমাবেশ স্থলে উপস্থিত ছিলেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট