নির্বাচনি মাঠে শেখ হাসিনা,পরিকল্পনায় ব্যস্ত খালেদা জিয়া

প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০১৭

নির্বাচনি মাঠে শেখ হাসিনা,পরিকল্পনায় ব্যস্ত খালেদা জিয়া

রাজনীতিতে নানা হিসেব-নিকেশের মধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনসভায় নৌকায় ভোট চাইতে শুরু করে দিয়েছেন। তারা বিভাগীয় পর্যায়ে সম্মেলনও করছেন। এসব কিছুর টার্গেট আগামী নির্বাচন। অন্যদিকে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের শরীকরা এখনো পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়া ও মাগুরায় পৃথক দুটি জনসভায় নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিভাগীয় পর্যায়ে সম্মেলন করছেন। এরই মধ্যে রাজশাহী ও সিলেটে বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগেও এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে দীর্ঘদিনেও দল গোছাতে পারেননি খালেদা জিয়া, এক বছরেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি। তবে সরকারের ‘অন্যায় ও অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে সম্প্রতি বিকল্প পন্থায় মাঠে নেমেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে ‘বাজারে আগুন, বিপর্যস্ত জনজীবন’ এবং ‘জাতীয় সম্পদ, জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ডাক’- এ দুটি শিরোনামে পোস্টার সারা দেশে সাঁটানো হচ্ছে। বিলি করা হচ্ছে লিফলেট। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দেশবিরোধী কোনো চুক্তি হলে তার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে এই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন।

এদিকে আগামী বছরের শেষ নাগাদ দেশে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে এমন আগাম খবরে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি সরকারি মহল থেকে এমন একটি ইতিবাচক বার্তাও দেয়া হয়েছে। সেই নির্বাচনকে ঘিরে নড়েচড়ে বসেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। আসলেই কী দেশে আগাম নির্বাচন হবে, না গুজব? এমন একটি প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

তবে যাই ঘটুক না কেন, বাংলাদেশে ইতিবাচক রাজনীতির পরিবেশ ফেরাতে পর্দার অন্তরালে থেকেই দূতিয়ালি করছেন কূটনীতিকরা। নির্বাচনকেন্দ্রিক ‘সহিংসতার চক্র’ থেকে দেশকে মুক্ত হতে সহায়তা করা, একটি বিতর্কমুক্ত এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন নিশ্চিত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে জানা যাচ্ছে।

এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। তাদের তৎরপরতা কিছুটা দৃশ্যমানও হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কূটনীতিকদের আনাগোনা, দফায় দফায় বৈঠক-আলোচনা চলছে। সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয় নির্বাচন।

  •